Esimesed 200 rida.
হ্যারি?
শুনতে পাচ্ছো?
আমাদের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমরা সবাই পালাতে চাই।
যখন সাধারণ জীবনযাপনে ভিটে পড়ে,
আমাদের মুক্তির প্রয়োজন হয়।
মুক্তির প্রয়োজন হয় বিষণ্নতা থেকে।
কষ্ট থেকে।
ভীতি থেকে।
কিন্তু আমি সেরকম না।
ভীতিই আমাকে বেঁচে থাকার মূল্য দেখায়।
বাকিদের মতো,
আমি জীবন থেকে পালাই না।
আমি পালাই মৃত্যু থেকে।
জীবনধারণের জন্য এক উদ্ভট পদ্ধতি।
মানুষ বলে, মৃত্যুক্ষণে,
সম্পূর্ণ জীবনপরিধি তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
আমার নাম এরিক ওয়েস।
তবে দীর্ঘকাল ধরে কেউ আমাকে এই নামে ডাকে না।
আমি প্রায় সবকিছু থেকেই পালাতে পারি...
হাতকড়া, স্ট্রেটজ্যাকেট... আরও অনেককিছু।
তবে মনে হয় একটা জিনিস থেকে আমি কখনো পালাতে পারি না...
তা হলো নিজের থেকে।
হ্যারি?
শুনতে পাচ্ছো, হ্যারি?
হ্যারি?
শুনতে পাচ্ছো আমায়?
আমি হলাম দ্যা গ্রেট হুডিনি!
হ্যারি?
ব্রিজ থেকে লাফ দেয়ার ১৭ বছর আগেকার কথা
যে বছরটা আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
হাতকড়া কোথায়? আহ, ঠিক আছে, চলো।
আহ, খেলা দেখাতে আমরা চলে এসেছি।
- জানা আছে তো যে দেরি করে এসেছ। - হ্যাঁ, এটা আমাদের ভুল।
আমরা... হারিয়ে গিয়েছিলাম।
আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
ততদিনে, আমি আর আমার স্ত্রী বেস
ছোটখাটো জাদু দেখিয়ে বেড়াতাম
আমেরিকার বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে।
তুমি দেখি আমাদের বেশ্যালয়ে নিয়ে এসেছ।
চলো আমরা চলে যাই?
চলো, আজ এসব করব না।
- ওরা আমাদের ভাড়া করে এনেছে। - তাহলে, আমি অবমুক্ত করে নিচ্ছি।
- কাম অন, চলো সবাই। - না, না, না, আমরা...
না, না, দাঁড়াও। লেডিস্ এন্ড জেন্টলম্যান।
দ্যা গ্রেট হুডিনি, এই ট্রাংক থেকে চম্পট হবে,
তাও আবার হাতকড়া পরিহিত অবস্থায়।
হ্যাঁ, ওর নিজের হাতকড়া।
বানোয়াট।
একদম ঠিক।
বেশ, যদি এই জনসমাগম থেকে একজোড়া হাতকড়া থাকত,
তবে আমি নিঃসন্দেহে...
এখন শুরু করো।
আপনি কি জিজ্ঞাসা করতে পারি এটা আপনার কাছে কীভাবে ...
আমি একজন পুলিশ।
ট্রাংকের হিসাব বাদ দিলাম।
দেখি এটা থেকে বের হতে পারো কি-না।
এভাবে খোলার কথা বলছিলেন?
ওরে বাপরে, কেম্নে!
ঠিক সেই মূহুর্ত থেকে, আমি আর স্রেফ কোনো সাধারণ জাদুকর রইলাম না।
হয়ে গেলাম অন্যকিছু:
একজন এস্কেপ আর্টিস্ট।
তো জনতার আবেগ ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি ভিন্ন ভিন্ন নাটক করতে থাকলাম।
কিন্তু এটা যদি আমি উলঙ্গ হয়ে করতাম,
উপস্থিত জনতার উচ্ছাস দেখার মতো হয়ে যেত।
মদ খেয়েছ?
এক গ্লাস।
- গন্ধ আসছে। - তুমি সবকিছুই
এতবড় করে দেখো কেন!
আহ, হ্যারি।
হ্যাঁ, সোনা?
আমরা এসব দুই বছর করছি।
কখনো মনে হয়, যদি এসব খতম হয়ে যায়?
সোনা, শুনো আমি কী বলি।
কোনো আলতু-ফালতু দোকানে গিয়ে ছোটখাটো কাজ করার লোক আমি না।
আর না-ই বা হবো তালামিস্ত্রি।
না।
অন্তত আমার বাবার মতো বাঁচতে চাই না আমি।
ওসব মনেও করতে চাই না আমি।
অবশ্যই তাকে ভালোবাসতাম।
কিন্তু...
তার ছিল না কোনো নাম-পরিচয়।
তার মতো আমি হতে চাই না... হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।
অন্তত লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে না হলে তো হচ্ছেই না।
আমি যতদূর মনে করতে পারি, আমি সবসময়ই পালানোর চেষ্টা করে এসেছি।
আমি আর আমার ভাই ড্যাশ যখনি সুযোগ পেতাম
পালিয়ে যেতাম অ্যাপলটনের
ট্রাভেলিং শো দেখার জন্য।
না, আর না। থামুন।
থামুন! না!
সাহায্য করুন কেউ!
আমার কুত্তার জন্য বেশ সুস্বাদু খাবার হবে এটা।
এখন, সতর্ক করে দিচ্ছি, পরিস্থিতি কিন্তু আরও ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।
ড্যাশ এসব দেখতে পারত না, কিন্তু আমি? আমি নেশার মতো তাকিয়ে থাকতাম।
থাকতাম ভ্রমের আচ্ছাদনে।
এখন, আপনাদের থেকে কাউকে আমি সহযোগিতার জন্য ডাকতে যাচ্ছি।
আসবে না-কি, বাছাধন?
আমি?
হ্যাঁ, প্লিজ, এসো।
এখন, আমার সাথে স্রেফ টেবিলটা
- একটু টেনে ধরবে। - আচ্ছা, ঠিক আছে।
এই অংশটা কিন্তু খুবই নাজুক প্রকৃতির।
ওহ, মনে হচ্ছে বেচারি মারা গেছে।
পায়ে একটু কাতুকুতু দিলে কেমন হয়?
হায় ঈশ্বর।
চলো আবার একসাথে জুড়ে দেই। এক, দুই, তিন।
আবরা কা ডাবরা।
আর আমার এই তরুণ সহযোগীর জন্য চাই জোর-করতালি।
তারপর থেকে, হঠাৎ করে,
এভাবেই,
আমি অন্যকিছু হয়ে যাই।
এক ধূর্ত বালক যার নেই কোনো ভয়।
আমি যাচ্ছিলাম এক গন্তব্যে,
যার টিকেট ছিল এই ভ্রম।
মা! মা!
দেখো, আমি কী নিয়ে এসেছি।
আহ।
এটা নেও, সত্যিকারের, দেখো।
আরও একটা আছে।
নিজে উপার্জন করেছি, জাদু দেখিয়ে।
মা, আমায় ঝাঁকি দাও।
ঝাঁকি দাও।
আরও জোরে, মা, আরও জোরে।
আরো জোরে, মা।
আমার মা পাশে না থাকলে হয়তো, এসবের কিছুই করতে পারতাম না।
টাকা হলো বা হাতের খেল, মা।
একদিন এগুলো সোনায় পরিনত হবে, মা।
আমার উপর তার সবসময়ই অগাধ বিশ্বাস ছিল।
_
ট্রিক অর ট্রিট!
_
হ্যালোউইন, বাবা।
এই দিনে তাদের কিছু দিতে হয়।
_
_
এরিক,
বাবা প্রার্থনা শুরু করতে যাচ্ছে, আয় নিচে আয়।
বাবা দেখার আগে বন্ধ কর এটা।
শুন। "একজন জাদুকর কখনোই সত্যিকারের জাদুকর নয়।"
সে হয় একজন অভিনেতা, যে কি-না জাদুকরের মতো অভিনয় করে!"
একজন অভিনেতা।
এরি!
৫০ বছর আগে, রবার্ট হাউডিন ছিল...
ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা জাদুকর।
আর এখন সেটা হবো আমি, হাউডিনি!
_
_
একটু সময় হবে? কিছু কথা ছিল।
কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
আলাদাভাবে কথা বলতে পারব?
রাব্বি হিসেবে আপনার ৬ বছর পেরিয়ে গেল,
আর এখনও অব্দি আপনি ঠিকভাবে ইংরেজি আয়ত্ত করতে পারেননি।
পুরোপুরি সম্মানের সহিত বলছি, রাব্বি ওয়েস,
এটা বুদাপেস্ট না।
এটা উইসকনসিন, আর তাই...
আমাদের রাব্বি হিসেবে আপনাকে আর রাখতে পারছি না।
কিছু জিনিস আপনাকে ঘুষির চেয়েও মারাত্মকভাবে জখম করতে পারে।
সেজন্য আমি নিশ্চিত করেছি কখনোই এমন দূর্বল হবো না।
জীবনে আমি বেশকিছু অসম্ভব চম্পট দিয়েছি,
কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চম্পট ছিল নিজের বাড়ি উইসকনসিন থেকে পালানো।
ভ্রমণটা আমার অল্প ছিল, কিন্তু শিখার পাল্লাটা অনেক বেশি ছিল
ব্রুকলিনে আমার পরিবারের সাথে দেখা হওয়ার পূর্বেকার কথা।
আমার বাবা তার কিছুদিন পরেই মারা যায়।
ড্যাশ আর আমি মিলিতভাবে কিছু উপার্জন করে মা'য়ের সঙ্গ দিতাম,
আমাদের ছোটখাটো জাদু দেখিয়ে।
আসুন, দলে দলে আসুন।
জাদুর মন্ত্রে হারিয়ে যেতে চলে আসুন।
- হুডিনি ব্রাদার্স এর কাছে। - এক্সকিউজ মি, স্যার।
- আপনার টুপিটা পেতে পারি? - কেন?
আহ, যেন আপনার ঘড়িটা ফিরিয়ে দিতে পারি।
এখন তো দিতে পারেন।
ধন্যবাদ।
ড্যাশ, টুপিটা একটু খালি করে দিতে পারবে?
একটা কার্ড নিন, যেকোনো একটা।
ইস্কার ছয়।
একটা ঘুষির চেয়েও বেশি জখম করতে পারা জিনিসটা হলো
ভালোবাসার তীর, যা হৃদয় ছেদ করে চলে যায়।
এটার আগমন আমি কখনোই উপলব্ধিও করতে পারেনি।
অসাধারণ!
তো,
এক হাঙ্গেরিয়ান ডিউক আমার মা'য়ের উপর ফিদা হয়ে হয়ে যায়,
আর আমার বাবা তাকে ডুয়েল এর জন্য চ্যালেঞ্জ করে, হু?
বাবার মারা বুলেট তার ব্রেন বরাবর সোজা ঢুকে যায়, কাহিনি খতম।
আর তাকেও জীবন বাঁচানোর জন্য সেখান থেকে পালাতে হয়, আহ
আর সেভাবেই আমাদের পুরো পরিবার আমেরিকায় পাড়ি জমাই।
- আহ, বেশ রোমান্টিক। - হ্যাঁ।
আর তারপর উনি মারা গেলেন।
- বেচারা। - আহ
হ্যারি হুডিনি কি তোমার আসল নাম?
বর্তমানে।
- তোমার সম্পর্কে বলো? - হু?
যাদের সাথে গান গাচ্ছিলে...
তারা কি আসলেই তোমার বোন?
আরে না। এই বসন্তে কেবল তাদের সাথে আমার পথচলা শুরু।
তাই?
যেকোনো একটা ধরো।
না, এটা না।
তোমার হাতটা খুলো।
- চমৎকার। - হুম।
বিশ্বসেরা জাদুকর হতে হলে তোমাকে
এরচেয়ে ভালোকিছু করে দেখাতে হবে।
No comments yet. Be the first to leave one.