Esimesed 200 rida.
অনুবাদকঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
"কোরফোভসকায়া"
- কিছু খুঁজছেন? - হ্যাঁ, একটা কবর খুঁজছি।
এই জায়গায় এখন পর্যন্ত কেউই মারা যায়নি।
প্রায় তিন বছর আগে, আমি এখানে একজন বন্ধুকে কবর দিয়েছিলাম।
বন্ধু।
ওখানে একটা বড় গাছ ছিল, একটা সিডার আর একটা দেবদারু গাছ।
আপনার কি ঐ গাছগুলোর কথা মনে আছে?
মনে হয় গ্রামটিকে গড়ে তুলতে আমরা গাছগুলো কেটে ফেলেছি।
হয়তো, ঐগুলোও?
দেরসু...
সেই বছর, দেশের একটি ভূ-সংস্থান-সংক্রান্ত...
...জরিপ করার জন্য আসুরি অঞ্চলের শকোটভ এলাকার পথ দিয়ে...
...আমার যাওয়ার লক্ষ্য ছিল।
মাঝে মাঝে পর্বতমালা এবং অরণ্যকে দেখতে মনোরম লাগে, মনে হয় যেন স্বাগত জানাই।
যদিও মাঝে মাঝে সেগুলো নীরব এবং অনাকর্ষণীয় হতে পারে।
এটা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত উপলব্ধি ছিল না,
জরিপ দলের প্রত্যেক সৈনিকের মনে একই উপলব্ধি হয়েছিল।
উপরওয়ালা যাকে সাহায্য করেন, কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না।
আজ রাতের জন্য এখানেই ক্যাম্প করা যাক, আগামীকাল আমরা কোনো ভালো জায়গা খুঁজে নেবো।
- ঠিক আছে, আমরা এখানে ক্যাম্প করতে পারি। - আজ আমরা এখানে ক্যাম্প করছি!
আমাকে এই উপত্যকাটি বৃদ্ধ ডাইনির...
...কোনো তৈলচিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আমি প্রায় তার ঝাঁটার হাতলের উপর উড়ে আসার ব্যাপারটা কল্পনা করতে পারি।
- ওটা কী ছিল? - কোনো পাথর গড়িয়ে পড়েছে।
কেউ এইদিকে আসছে।
কোনো ভাল্লুক!
গুলি চালাবেন না! আমি মানুষ!
শরীর ভালো তো, ক্যাপ্টেন!
ওর দিকে তাকাও, ও তো সত্যিই মানুষ।
আর তুমি বলছিলে ভাল্লুক!
তুমি কি আমাদের সাথে রাতের খাবার খাবে?
ধন্যবাদ। আমি সারাদিন কিছুই খাইনি।
তুমি কী?
চাইনিজ?
কোরিয়ান?
মানুষ আমাকে "গৈরিক" বলে ডাকে।
তুমি কি শিকারী?
আমি সবসময় শিকার সন্ধান করি।
অন্য কোনো কাজ করি না। কিছুই করি না।
তুমি থাকো কোথায়?
আমার কোনো বাড়িঘর নেই। পর্বতে আমার ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর আছে।
ওখানে ঘুমায়। এতেই আমার দিনকাল ভালোভাবে চলে যায়।
মনে হচ্ছে আজকে তুমি কোনো কিছু শিকার করতে পারোনি।
আজকে আমি হরিণকে গুলি করেছিলাম।
ওটা পালিয়ে গেছে, মরে যায়নি, শুধু আহত হয়েছিল।
আমি সেই হরিণের পেছন পেছন ছুটতে থাকলাম। তারপর মানুষের পায়ের চিহ্ন দেখলাম।
আমি ধীরেসুস্থে অনুসরণ করে হাঁটতে থাকলাম,
অবাক হলাম যে, মানুষ পাহাড়ে এতদূর কী করছে।
আমি সতর্ক হলাম।
দেখলাম ক্যাপ্টেন আছে,
সৈনিকরা আছে।
এবং তাই আমিও চলে আসলাম।
নিশানা ঠিকভাবে লাগাতে না পারা আজব শিকারী তুমি।
আপনারা সবসময় নিশানা নিখুঁতভাবে লাগাতে পারেন?
আমরা সৈনিক। আমাদের লক্ষ্যভেদ ভুল হওয়াটা মেনে নেওয়া হয় না।
তাহলে আপনি ভালো শিকারী!
আপনারা সবকিছুকে গুলি করেন, আমাদের খাওয়ার জন্য কিছুই ছেড়ে দেন না।
ওই শোন, তুই আমাদের সাথে অনেক কথা বলছিস!
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
আমরা এখন কথা বলতে পারি।
আমার নাম আর্সেনিয়েভ।
তোমার নাম বলো।
দেরসু উজালা।
তোমার বয়স কত?
বয়স কত, আমি জানি না।
আমি অনেক গ্রীষ্ম কাটিয়েছি।
তোমার কোন পরিবার আছে?
পরিবার...
অনেক আগে সবাই মরে গেছে।
আমার বউ, ছোট ছেলে...
আর একটা বাচ্চা মেয়ে ছিল।
বসন্তরোগ হয়েছিল তাই ওরা সবাই মরে গেছে।
একমাত্র দেরসু বেঁচে আছে।
আমরা এই অঞ্চলটি অনুসন্ধান করছি,
বিশাল বিশাল পাহাড়, উপত্যকা, নদী।
তুমি কি আমাদের পথপ্রদর্শক হবে?
আমি...
এখন ঘুমাবো।
ঠিক আছে, তুমি ভেবেই বলো।
আমাদেরকেও এখন ঘুমিয়ে পড়তে হবে।
পরের দিন, কোনো কথা না বলে,
দেরসু দলের নেতৃত্বের দিকে তাঁর জায়গা পাকাপোক্ত করে ফেলে।
এখান দিয়ে বড় হরিণের দল গেছে!
- এখানে একটা পায়ের ছাপ আছে! - আরে, ওখানে একটা ছাপ আছে!
দুই-তিন দিন আগে মানুষ এইদিক দিয়ে হেঁটে গেছে।
তারপর এখানে জোরে বৃষ্টি হয়েছে।
চাইনিজদের পায়ের ছাপ।
তুমি কীভাবে বুঝলে?
দেখার জন্য কি চোখ নেই?
চাইনিজদের পরা জুতো। দেখো, পায়ের ছাপের মধ্যে পানি আছে।
তোমরা সবাই বাচ্চা ছেলের মত।
চোখ আছে কিন্তু দেখতে পাও না।
এভাবে অন্ধের মতো থাকলে সত্যিই তোমরা তাড়াতাড়ি মরে যাবে।
চাইনিজ! এসো!
এখন খুব শীঘ্রই কুঁড়েঘর খুঁজে পাবো।
তুমি সেটা কীভাবে বুঝলে?
চোখ ব্যবহার করো। ঘরের ছাউনি তৈরি করার জন্য গাছের ছাল কাটতে হবে।
বৃষ্টি হওয়ার কারণে ছাই মিশে গেছে,
খড়ের একটা বিছানা,
চাইনিজদের এক টুকরো কাপড়,
ঠিক যেমনটা দেরসু আমাদেরকে জানিয়েছে।
কোনো চাইনিজ ব্যক্তি অবশ্যই এখানে গতকাল রাত কাটিয়েছিল।
ওটার দিকে তাকাও!
ক্যাপ্টেন, আপনি চাল, লবণ, আর দিয়াশলাই দিবেন।
কীসের জন্য?
গাছের ছালের সাথে এসব কুঁড়েঘরে রেখে যাবো।
- তুমি কি ফিরে আসার পরিকল্পনা করছো? - নাতো?
কেউ না কেউ এইদিকে আসবে।
ওখানে শুকনো জ্বালানি কাঠ খুঁজে পাবে।
খাওয়ার জন্য খাবার। মানুষ মারবে না।
ওলেনটিভ! দেশলাই, কিছু চাল ও লবণ নিয়ে এসো।
আমি ওকে প্রশংসাসূচক সাহায্য করতে পারিনি।
ও খুব বিচক্ষণ ছিল। বনে-জঙ্গলে জীবন অতিবাহিত করার ফলে...
...প্রকৃতিগতভাবে ওর মধ্যে গভীর জ্ঞান ছিল।
ও খুব ভালো এবং উদার মনের মানুষ ছিল।
ওর সাথে কারো সাক্ষাৎ হতো না বলে,
হয়তো অপরিচিত মানুষের ব্যাপারেও ও চিন্তা করতো,
দেরসু, বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা ঠিক হবে না?
প্রস্তুত হওয়ার সময় হয়ে গেছে।
পাখি গান গাওয়া শুরু করেছে, শুনতে পাচ্ছেন?
শীঘ্রই বৃষ্টি থেমে যাবে।
শীঘ্রই সূর্যের আলো চকমক করবে।
- সূর্য কী তুমি তা জানো? - অবশ্যই, সূর্য সম্পর্কে সবাই জানে।
আপনি কখনও সূর্য দেখেননি?
আপনি নিজেই দেখুন। ওই যে আকাশে সূর্য!
ক্যাপ্টেন, সূর্য খুব বড় ও শক্তিশালী জিনিস।
সূর্য যদি একদিন মরে যায়, তাহলে আমরা সবাই মরে যাবো।
চাঁদও আরেকটা সত্যিকার বড় জিনিস।
এটা খারাপ জিনিস, শোরগোলে।
আপনার কথা বলা শুনতে, আপনার চারপাশে মানুষ ছাড়া কিছুই নেই।
মানুষ, হ্যাঁ। সে অন্য জিনিস। পানি জীবিত।
তুমি সেটা বুঝলে কীভাবে?
তাহলে আগুন জীবিত?
অবশ্যই, আগুন শক্তিশালী জিনিস।
যখন সে রেগে যায়, তখন বন দিনের পর দিন পুড়ে।
আগুন, পানি, বাতাস রেগে গেলে...
তখন আমার অনেক ভয় করে!
আগুন, পানি, বাতাসঃ তিনটা শক্তিশালী জিনিস!
সেই দিন, প্রথমবারের মত তুষারপাত হয়েছিল।
- আপনারা গুলি করছেন কেন? - কারণ আমরা গুলি করতে পছন্দ করি।
অযথা গুলি নষ্ট করা ছাড়া কিছুই হবে না।
তুমি কি জানো না নিশানা বাজদেরকে প্রাকটিস করতে হয়?
আচ্ছা, সেরিওগা, গতরাতে কি মদ খুব বেশিই খেয়েছিলে?
ঠিক আছে!
পাখির ডানায় গুলি করার চেয়েও এটা খারাপ নিশানা।
- ভালো নিশানা হলে সফল লক্ষ্যভেদ হয়। - তাহলে তুমিই নিশানা লাগিয়ে দেখাও, বুড়ো মিয়া।
গুলি করে বোতল ভাঙা ঠিক হবে না। জঙ্গলের মধ্যে অনেক বোতল নেই।
অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করো না। স্বীকার করো যে তুমি বোতলে গুলি করতে পারবে না।
আমি দড়িতে গুলি করবো,
নিশানা ঠিকভাবে লাগাতে পারলে আমাকে বোতলটা দিয়ে দিবেন।
নিশানা ঠিকভাবে লাগাতে পারলে, বোতলটা তোমার।
যাও, মারচেঙ্কো!
ঠিক আছে!
দেখলে, অলেন্টিভ, ও সত্যিই ওর বোতলটা জিতে গেলো!
সবাই এখন প্রস্তুত হয়ে যাও! আমরা চলে যাচ্ছি।
দেরসু কোথায়?
ওর আজকের ভাগের ভদকা নিয়ে চলে গেছে।
ও নদীর ধারে বসে গান গাইছে। মাতাল থাকবে হয়তো।
দাও। এটা আমাকে দাও।
দেরসু, তোমার সাথে আমি বসলে কিছু মনে করবে?
ক্যাপ্টেন, ওখানে আমার বউ আর ছেলেমেয়ে আছে। সবাই মরে গেছে।
বসন্তরোগ হয়ে।
তাই বউ, ছেলেমেয়ে, বাড়ি...
আমি সবকিছু পুড়িয়ে দিচ্ছি।
গতরাতে আমি খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।
আমি কুঁড়েঘর দেখি। দেখি শীঘ্রই কুঁড়েঘর পড়ে যাবে।
স্বপ্নে দেখি, বউ আর ছেলেমেয়ে কুঁড়েঘরে আছে।
ওদের কাছে কোনো খাবার নেই...
শীতের যন্ত্রণা।
আমি এখানে ওদেরকে...
...খাবার দিতে এসেছি।
গতকাল, একজন বয়স্ক লোক এখানে একদম একা ছিল।
রাতে এখানে ঘুমাইনি।
তুমি এটা কীভাবে বুঝলে?
আগুনের কাছাকাছি মানুষের ঘুমানোর কোনো চিহ্ন দেখছি না।
সে যে বয়স্ক লোক সেটা কীভাবে বুঝলে?
অল্পবয়সী লোকেরা সবসময় পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে,
কিন্তু বয়স্ক ব্যক্তিরা সবসময় পায়ের গোড়ালির উপর ভর দিয়ে হাঁটে।
কয়েক দিন পরে আমি সেই বয়স্ক চাইনিজ মানুষটির দেখা পেয়েছিলাম।
এই লোকের নাম লি সুং বিন।
ওর বয়স ৬৪ বৎসর।
টিয়েন সিন নামের শহর থেকে এসেছে।
আর ও এখানে কী করছে?
ওর বউ আছে। ওর ভাই তাকে সাথে করে নিয়ে গেছে।
ও পর্বতমালা থেকে এখানে এসেছে।
এখানে ও ৪০ বছর ধরে একা থাকে।
ধন্যবাদ।
ঠান্ডা পড়ছে।
আমাদের হয়তো ওকে আগুনের কাছে আসতে বলা উচিত হবে।
না, ক্যাপ্টেন। ওকে একা থাকতে দিন।
ও এখন অনেক চিন্তা করছে।
বাড়ির কল্পনা করছে, বাগানের কল্পনা করছে।
ফুলে ভরা বাগানের কল্পনা করছে।
ক্যাপ্টেন!
লি সুং বিন বিদায় বলতে চায়।
ও বলছে ও এখন আবার বাড়ি যাবে।
খানকা হ্রদ অঞ্চলটির অনুসন্ধান করা...
...আমাদের অভিযানের শেষ লক্ষ্য ছিল।
ওখানে যেতে হলে আমাদেরকে নির্দিষ্ট কোনো পথ ছাড়াই বিশাল জলাভূমিগুলো অতিক্রম করতে হতো।
No comments yet. Be the first to leave one.