Las primeras 102 líneas.
≈ লা জুতি ≈
গল্পটা শৈশবের এক অচেনা স্মৃতি তাড়া করে বেড়ানো একজন মানুষকে নিয়ে।
স্মৃতিতে বিচরণ করা দৃশ্যের নির্মমতা তাকে বিষণ্ণ করে তুলেছিল,
এবং যার রহস্য আর কয়েক বছর পরে গিয়ে উদ্ধার হয়।
স্মৃতির ঘটনাটা ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কয়েক বছর আগে...
অর্লি এয়ারপোর্টের সামনে ঘটেছিল।
এয়ারপোর্টে বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের রবিবার প্লেন দেখাতে নিয়ে আসত।
এমনই এক রবিবার,
আমাদের গল্পের সেই মানুষটার শৈশব চিরতরে বদলে দেয়।
তার স্মৃতিপট জুড়ে রাজত্ব করেছে থমকে যাওয়া সেই মুহূর্ত,
এয়ারপোর্টের সেই চত্বর,
এবং এক নারীর চেহারা।
মামুলি মুহূর্তগুলোতেই মূল্যবান সব স্মৃতি লুকিয়ে থাকে।
সেসব মুহূর্ত জীবনে গভীর ছাপ ফেললে, তা স্মৃতিপটে জায়গা করে নেয়।
যুদ্ধকালীন অশান্তি কাটিয়ে উঠতে, সেই চেহারার স্মৃতিই ছিল...
তার একমাত্র ভরসা।
স্মৃতির দৃশ্যগুলো কি সে আসলেই দেখেছিল...
নাকি তা যুদ্ধপরবর্তী সময়ের দুর্দশা লাঘবের জন্য তার মনগড়া এক প্রয়াস,
তা নিয়ে প্রায়ই সন্দেহ হত তার।
হঠাৎ গর্জনের শব্দ,
সেই নারীর প্রতিক্রিয়া,
ক্ষতবিক্ষত এক শরীর,
একদল মানুষের চিৎকারকে ছাপিয়ে তাদের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।
পরবর্তীতে সে বুঝতে পারে যে একজন মানুষের মৃত্যু দেখেছে সে।
কয়েক বছর পর শীঘ্রই, প্যারিস ধ্বংস হয়ে যায়।
মারা যায় অনেকে।
কয়েকজন কোনোরকমে বেঁচে যায়।
বাকিদের বন্দী করা হয়।
জীবিতরা শাঁইলু'র নিচে থাকা গোপন এলাকায় পাড়ি জমায়।
বিশ্বের আর দশটা জায়গার মত প্যারিসের উপরিভাগও...
তেজস্ক্রিয়তার ছোবলে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
জীবিতরা নিজেদের আবিষ্কার করে ইঁদুরের রাজ্যে।
এদিকে বন্দীদের ওপর সাইন্টিস্টরা...
গুরুত্বপূর্ণ সব এক্সপেরিমেন্ট করে।
সেসব এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল ছিল সাইন্টিস্টদের জন্য হতাশাজনক ;
ফলাফলস্বরূপ, বন্দীদের অনেকেই মারা যায়,
এবং মানসিক বিকারগ্রস্ততার শিকার হয়।
একদিন এক্সপেরিমেন্টের জন্য নতুন এক বন্দীকে বাছাই করা হলো।
এই মানুষটার গল্পই আমরা এখন বলছি।
ভয়ে মুখ শুকিয়ে গিয়েছিল তার।
এক্সপেরিমেন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে লোকমুখে অনেক কথা শোনায়,
সে ধরেই নিয়েছিল, হয়ত তাকে পাগলা কোনো সাইন্টিস্টের
নির্মমতার শিকার হতে হবে।
কিন্তু তার ভাগ্যে জুটল একজন বিজ্ঞ সাইন্টিস্ট...
যে তাকে বুঝিয়ে বলল যে মানবজাতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
মহাকাশে পাড়ি জমানো চিন্তারও বাইরে।
এখন বাঁচার একমাত্র সম্বল হচ্ছে সময়।
সময়ের বাঁধাকে অতিক্রম করতে পারলে...
খাদ্য, ওষুধ, শক্তির অবিরাম মজুদ পাওয়া সম্ভব হবে।
এক্সপেরিমেন্টগুলোর লক্ষ্য একটাইঃ
প্রতিনিধিদের টাইম ট্রাভেল করিয়ে...
অতীত ও ভবিষ্যতের সম্মিলনে বর্তমানের সংকট দূরীকরণ।
কিন্তু মনে একটা ভয় থেকেই গেল।
ভিন্ন একটা সময়ে প্রবেশ করা মানে...
নিজেকে একজন নতুন মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করা।
শকের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল।
নিষ্প্রাণ, অচেতন দেহগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পাঠানোর পর,
সাইন্টিস্টরা এবার কল্পনাশক্তিসম্পন্ন মানুষের ওপর পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল।
সময়কে তাদের কল্পনা বা স্বপ্নের আওতায় আনা গেলে,
সময়ের বাঁধাকে সহজে অতিক্রম করতে পারার কথা।
বন্দীদের সাথে তাদের স্বপ্নও তদন্তের শিকার হলো।
এই মানুষটাকে বাছাই করা হয়েছে...
মূলত তার অতীতের একটি রহস্যময় স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে।
প্রথমে, বর্তমান ও বর্তমানের সকল আলামত সরিয়ে ফেলতে হয়।
একই পরীক্ষা আবার করা হয়।
টার্গেট ব্যক্তি মারা যায় না ;
পাগল হয়ে যায় না।
কিন্তু অনেক কষ্ট হয় তার।
এক্সপেরিমেন্ট আগের মতই চলতে থাকে।
দশম দিনে,
স্মৃতির সাগর পাড়ি দিয়ে অতীতে প্রবেশ করে সে।
যুদ্ধ শুরুর আগের সকাল।
শান্তিকালীন বেডরুম। চিরচেনা বেডরুম।
চিরচেনা সন্তানেরা।
চিরচেনা পাখি।
চিরচেনা বিড়াল।
চিরচেনা কবরস্থান।
১৬তম দিনে, সে নিজেকে এয়ারপোর্টে আবিষ্কার করে।
কেউ নেই সেখানে।
কিছু কিছু দিন তার আনন্দে কাটে,
কিন্তু এবারের আনন্দটা অন্যরকম।
মুখে হাসি লেগে আছে ; সেটাও অন্যরকম।
ধ্বংসাবশেষ।
এই মেয়েকেই হয়ত এতদিন স্মৃতির খাঁচায় পুষেছে সে।
এয়ারপোর্টের সামনে মেয়েটার সাথে হঠাৎ তার দেখা হয়।
গাড়িতে বসে মেয়েটা তার দিকে চেয়ে হাসি দেয়।
জাদুঘরের কিছু দৃশ্য ঘুরপাক খেতে থাকে,
যা হয়ত তার স্মৃতিরই অংশ।
৩০তম দিনে, তাদের সাক্ষাৎ হয়।
এটাই যে সেই মেয়ে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকল না তার এবার।
সময়ের অমোঘ নিয়মের অবাধ্য এই ধনাঢ্য জগতের...
এই একটা বিষয়ই তার কাছে সত্যি মনে হচ্ছে।
তার চারপাশ অদ্ভুত সব জিনিসে ভরাঃ
গ্লাস, প্লাস্টিক,
তোয়ালে।
তার মনোযোগ ছুটে গেলে,
মেয়েটাকে আর খুঁজে পায় না সে।
সাইন্টিস্টরা টার্গেটকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে...
তাকে অতীতের গোলকধাঁধায় ফেরত পাঠায়।
আবার টাইম ট্রাভেল শুরু হয়। আগের মুহূর্তটা ফিরে আসে।
মেয়েটাকে এবার আরও কাছে পেয়ে কথা বলে সে।
মেয়েটাও নিঃসংকোচে তার সাথে কথা বলে।
No comments yet. Be the first to leave one.