Las primeras 200 líneas.
তুমি রেখে দিতে পারো, মা।
এই ছবির কি কোনো প্রয়োজন আছে, নারায়ণ?
আমরা সবাই উজ্জ্বলনকে চিনি, তাই না?
কিন্তু এটাই তো রীতি, তাই না?
একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলি।
স্নেহলতার বয়স এখন ২৫।
ও তিনবার ব্যাঙ্কের পরীক্ষা দিয়েছে আর প্রতিবারই ফেল করেছে।
আইলাইনার, পাউডার আর মেকআপ কিনতে বাইরে যাওয়া ছাড়া,
ও মোটামুটি অকেজো।
বাবা!
তাই অন্তত পাত্রের তো একটা চাকরি থাকা উচিত, তাই না?
নইলে আমাদেরকেই তাদের পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে।
এটা নিয়ে চিন্তা করো না।
প্লাচিক্কাভু দেবীর আশীর্বাদে,
আমার পূর্বপুরুষরা উজ্জ্বলন আর স্নেহলতার জন্য যথেষ্ট রেখে গেছেন।
সেটা দিয়ে ওদের কয়েক পুরুষ খেয়ে যেতে পারবে।
আমি আর লীলা তো এভাবেই আরামে জীবনযাপন করছি।
তাই না?
আমার একমাত্র প্রার্থনা হলো বেঁচে থাকা, খাওয়া আর কখনো কাজ না করা।
হে দেবী!
টাকাই সব নয়, নারায়ণ।
এই গ্রামের লোকেরাও তার সম্পর্কে তেমন ভালো ধারণা রাখে না।
তাছাড়া তোমরাও জানো,
এই বয়সেও
ও রাতের বেলা একাকী বাইরে বেরোতে ভয় পায়।
এমন একটা ছেলে কীভাবে একটা মেয়ের বা একটা পরিবারের...
দেখভাল করবে?
এসব আমরাও জানি।
বিয়ের পর, ঘাড়ে দায়িত্ব এলে এসব ভয় আপনাতেই কেটে যাবে।
আর হ্যাঁ, আশোক,
যেভাবে বলছো, ও অতোটাও বেকার বসে নেই।
কত দারুণ একটা লাইব্রেরি চালায় এখন।
– তাই না? – হ্যাঁ!
কিন্তু কেউ তো ওই লাইব্রেরির ধারেকাছেও যায় না!
তাতে আছে কেবল কিছু গোয়েন্দা উপন্যাস।
আর সেটা খোলারও কোন ঠিক-ঠিকানা নেই।
আর খুললেও,
দুপুরবেলা নিজের ইচ্ছেমতো খোলে!
যাই হোক,
ও তো দোকানটা তাড়াতাড়ি বন্ধও করে দেয়। এটা নিয়ে কিছু বলো না কেন?
– একদম! – তবে একটা ভালো ব্যাপার আছে,
কারো হাঁড়ি, কেটলি বা বালতি হারালে, সে খুঁজে দেয়!
এমনকি জমির সীমানা নিয়েও বিচার করে দেয়।
এছাড়া আর কী কাজে লাগে সে?
এইসব ফালতু কথা বলে সময় নষ্ট কোরো না।
আমি মেয়েটার সঙ্গে কথা বলি।
বলো মা,
তোমার মত কী?
উজ্জ্বলন খুবই ভালো।
দেখলে!
– মেয়ের তো কোনো সমস্যা নেই। – একদম ঠিক।
আর শুনো আশোক...
ওদের বিয়ে হয়ে গেলে,
দুজনেই নিজেদের ঠিক করে নেবে।
তাই না?
আমাকে ভাবতে হবে, নারায়ণন।
ভাবো, অনেক সময় আছে।
আরেকটা কথা, অশোক,
উজ্জ্বলন শুধু নারকেল চুরি আর জমির ঝামেলাই মেটায় না,
তার সাধ্য অনুযায়ী প্লাচিক্কাভু থানারও সাহায্য করছে!
নিজের জায়গা থেকে যতটুকু পারে, সে করছে—এটাও তো কম কিছু না!
তা বলে সেটা কি কোনো গৌরবের ব্যাপার না?
প্লাচিক্কাভু থানা…
সেটা তো পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাধাদের আড্ডা।
আর তাদের সর্দার হলো…
এসআই শচীন।
নমস্কার।
এখানেই প্লাচিক্কাভু।
এই গ্রামের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে...
আমার কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে এসেছি।
– ভালো হলো না… – স্যার।
স্যার, একেবারে দারুণ হয়েছে। একদম সুরেশ গোপির মতো লাগছিলো।
হ্যাঁ…
একদম সুরেশ গোপির মতো।
তবুও কেন যেন মন ভরছে না।
কিন্তু স্যার…
– ইন্টারভিউ তো কাল। – হ্যাঁ, তাই তো।
আজকেই ভালো মতো প্র্যাকটিস করুন,
কালকে একদম ফাটিয়ে দিবেন!
কিন্তু জানো,
এটা তো আমাদের গ্রামের ৫০ বছর পূর্তি!
তাই যেটাই বলি, সেটা যেন গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে,
প্লাচিক্কাভুর প্রতিটা ঘরে ঘরে যেন সেই কথা পৌঁছে যায়।
স্যার, এটা দেখুন।
– কী? – কাঁটা দিয়ে উঠেছে!
দেখুন, সত্যিকারের কাঁটা!
কুট্টনপিল্লাই।
রিটায়ার্টমেন্ট আসছে দেখে এখন ঠাট্টা করছো?
চলো, হাঁটো।
এই, প্রদীপ, এখনো শেষ করোনি?
– আরেকটু বাকি। – জলদি করো।
শোনো, উজ্জ্বলন যদি বাজারের আশেপাশে থাকে,
আমাদের ইন্টারভিউ নিয়ে কিছু বলবে না।
বোঝা গেছে? না হলে ও এখানেই তাঁবু ফেলে বসে যাবে।
– স্যার, সে বাজারে নেই। – তাহলে?
সে এখন অরবিন্দের সেই চেইন চুরির কেসটা নিয়ে ব্যস্ত।
– চেইন চুরি? – হ্যাঁ!
এসব আবার কবে হলো?
আমরা জানলেই বা কী হবে?
এই জন্যই তো জানি না।
এটাও ঠিক কথা।
ধীরে।
ইয়েস!
অরবিন্দ ভাই!
চেইনটা চুরি যায়নি।
এখানেই আছে, এই বাড়িতেই।
অরবিন্দ!
-চেইনটা কোথায়? -আমি জানি না...
-আরে, ওর কাজ না এটা। -তাহলে কার?
আগে শুনে নাও সবকিছু। চলো, আমার পেছনে আসো।
চলো।
এই দুষ্টু বিল্লি!
অরবিন্দ ভাই।
বিড়ালদের একটা স্বভাব থাকে।
চকচকে কিছু দেখলেই, সেটা নিয়ে দৌড়।
ঘরে ঢুকেই,
মনে হলো, এখানে বাইরের লোক এসেছে।
আর যখন বিছানার নিচে ওর পায়ের ছাপ দেখলাম…
সেটাই ছিল এই কেসে আমার প্রথম ক্লু।
তাহলে চেইনটা কোথায়, উজ্জ্বলন?
ওই নারকেলগুলোর নিচে আছে।
নিয়ে নাও।
আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি।
স্যরি ভাই।
আহা...
সোজা, সোজা। হাতটা সোজা রাখো।
-মাস্টার, নীলিমালয়ারের বাস চলে গেছে? -জানি না।
ছেঁচড়া! এত ভাব কিসের!
আরে! গৌতম আর দিব্যা!
কোন গ্রহে যাচ্ছো?
আজ তো উইকএন্ড, তাই না?
ভাবলাম বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।
নীলিমালয়ারে উৎসব চলছে।
-আর পুরো উৎসবটা আমি স্পনসর করছি। -বাহ, দারুণ তো।
রতীশ, তুইও যাচ্ছিস উৎসবে?
আমার চেহারা দেখে কি মনে হচ্ছে, আমি উৎসবে যাচ্ছি?
বাস চলে এসেছে। আচ্ছা, আমরা চললাম।
তাহলে প্রতিযোগিতা হচ্ছে? কোথায় রে?
মানচাদিকাডু।
ঠিক আছে। ভালোভাবে হেরে আসিস।
চুপ কর, শয়তান!
-তুইও চুপ কর, শয়তান! -এইদিকে, ওঠো।
উজ্জ্বলন, আমার হারিয়ে যাওয়া ঘড়িটা…
চিন্তা কোরো না। তুমি যাও!
শার্লক লাইব্রেরি
হায় খোদা!
উজ্জ্বলন।
কি ব্যাপার, স্নেহলতা?
আমি রাজি আছি।
কোন ব্যাপারে?
আমাদের বিয়ের জন্য।
বিয়ে?!
কে বললো এসব?
উফ্!
নারায়ণ কাকা আর তোমার মা আমাদের বাড়ি এসেছিলেন।
আমার বাবা কিন্তু একদম রাজি ছিলেন না।
তবে আমি রাজি।
ওভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? এদিকে আয়!
দিন দিন ষাঁড়ের মতো দামড়া হচ্ছিস!
এভাবে আর কয়দিন টইটই করে ঘুরবি?
-ওর ঘুরে বেড়ানোতে সমস্যা কী? -একটুও না।
হুবহু তোমার মতোই হচ্ছে।
এখন আমার মাথা খাও!
তোমার মাথা না খেলে কারটা খাব?
ওর এই অবস্থার জন্য একমাত্র তুমিই দায়ী!
-মা। -কী?
একটা ব্যাপার তোমার বোঝা দরকার।
আমি এই গ্রামে লোকজন আর পুলিশের যা সাহায্য করছি, এটা কোনো খেলা নয়।
-তারা আমাকে কোন দৃষ্টিতে দেখে, জানো? -কোন দৃষ্টিতে?
এই গ্রামের ত্রাণকর্তা হিসেবে।
-ভালো ছেলে। -বস।
বস বলছি।
-তোকে বসতে বলেছি -বস।
তো জনাব ত্রাণকর্তা, এবার কি দয়া করে বারান্দার বাতিটা নিভিয়ে আসতে পারবেন?
-আমি একাই যাব? -হ্যাঁ, একাই যাবেন।
-এই রাতে, এখন? -হ্যাঁ।
বললেই হলো! আমার কুকুরও একা যাবে না!
বাবা, যাও।
বাবা…
এই দু'জনকে নিয়ে আর পারি না।
-মা… -ভাগ!
মা…
এখন নাহয় এসব চুরি-ছ্যাচড়ামির মামলা দেখতে হচ্ছে।
কিন্তু ভবিষ্যতে…
কে জানে, হয়তো এমন একটা মামলা আসতে পারে...
যেটা আমার আর এই গ্রামের ভাগ্যই পাল্টে দেবে।
কে বলতে পারে?
আশা করাই যায়।
আহ! মা!
সরে বসো…
স্যার, গাদাগাদি করার দরকার নেই। সবাই ফ্রেমে আছে।
জানি তো।
-কুট্টন, না না। -হ্যাঁ হ্যাঁ।
স্যার, ক্যামেরা চলছে।
সবাইকে নমস্কার।
১৯৬৫ সাল থেকে,
কেরালার আদর্শ থানাগুলোর মধ্যে,
আমাদের থানা সবার শীর্ষে।
এটা হলো প্লাচিক্কাভু, আমাদের প্রিয় গ্রাম।
আজ আমাদের গ্রামের ৫০তম জন্মদিন।
No comments yet. Be the first to leave one.