La unuaj 200 linioj.
অনুবাদকঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
উৎসর্গঃ সহপাঠী নিলুফা পারভীন এবং তাঁর ছেলে নীলকে। জন্মদিনে তাঁর (নিলুফা পারভীন) জন্য সামান্যতম উপহার। বিঃদ্রঃ উপহার গ্রহণ করিয়া বাধিত করিবেন!
"এটা তখনকার এক কিংবদন্তির আখ্যান"
"যখন ইংল্যান্ড ছিল নবীন প্রাণ"
"নাইটরা ছিল নির্ভীক এবং সাহসী"
"যোগ্য রাজার হলো দেহাবসান"
"এবং কেউ পারেনি সিদ্ধান্তে আসতে"
"কে হবে সিংহাসনের বিধিসম্মত উত্তরাধিকারী।"
"মনে হচ্ছিলো সেই ভূমি"
"যুদ্ধ দ্বারা বিচ্ছিন্ন নয়তো..."
"কোনো অলৌকিক ঘটনা দ্বারা হবে রক্ষিত।"
"এবং সেই অলৌকিক ঘটনাটি লন্ডন শহরে..."
…হয়েছিল আবির্ভূত।"
"পাথরখণ্ডে গাঁথা...
...তরবারি।"
আর হাতলের নীচে স্বর্ণাক্ষরে...
...এই শব্দগুলি লেখা ছিল:
"যে ব্যক্তি পাথরখণ্ড হতে এই তরবারিটি বের করতে পারবে,
তাকেই ইংল্যান্ডের প্রকৃত যোগ্য রাজা বলে গণ্য করা হবে।"
যদিও অনেকে তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই তরবারিটি তোলার চেষ্টা করেছিল...
কিন্তু তরবারি সরানো তো দূর, কেউ তা নাড়াতেও পারেনি।
তাই অলৌকিকতা কাজ করেনি।
এবং ইংল্যান্ড তখনও রাজা ছাড়া ছিল।
আর সময়ের সাথে সাথে, বিস্ময়কর তরবারির কথাটি সবাই ভুলে গিয়েছিল।
সেটা ছিল অন্ধকার যুগ...
যেখানে কোনো আইন-শৃঙ্খলা ছিল না।
দুর্বলদের উপর সবলরা নিপীড়ন চালাতো বলে...
মানুষ একে-অপরের ভয়ে বাস করতো।
সত্যিই অন্ধকার যুগ!
অস্বস্তিকর যুগ।
পানির ব্যবস্থা নেই...
বিদ্যুৎ নেই...
কিছুই নেই!
ওহ, দাঁড়া বলছি!
দাঁড়া!
আরে, এখন কি হলো? কি হলো?
ছাড়, ছাড় আমাকে! ছাড় বলছি!
ধ্যাত্তেরিকা, শয়তান শিকল কোথাকার!
সবকিছু জটিলতায় ভরা।
যত্তসব মধ্যযুগীয় বিশৃঙ্খলা।
এখন, আহ, কয়টা বাজলো দেখি।
সে এখানে আধা ঘণ্টার মধ্যে চলে আসবে।
কে? কে? আমি জানতে চাই কে আসবে।
তোমাকে বলেছিলাম, আর্কিমিডিস। আমি নিশ্চিত নই।
আমি শুধু জানি যে কেউ আসবে। যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
ওহ, আজগুবি কথা!
ভাগ্য তাকে আমার কাছে পাঠাবে যাতে আমি পালাক্রমে...
তাকে পৃথিবীতে তার সঠিক জায়গায় পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
তাই! আর তুমি বলছো যে আধা ঘণ্টার মধ্যে সে আসবে?
হা! তাহলে, দেখা যাবে।
তুমি দেখবে, আর্কিমিডিস। তুমি দেখবে।
আউ!
সে হবে একটা ছেলে।
ছোট্ট ছেলে।
এগারো, বারো বছর বয়সী।
আর হবে রোগা-পাতলা।
ওহ, না, না, না। এ ছেলেটা সে হতে পারে না।
অবশ্যই না। এই বড় ছেলেটার বয়স তো ২০ এর কাছাকাছি হবে।
আহ। এ-ই সে ছেলে।
প্রায় ১২ বছর বয়সের রোগা-পাতলা ছেলে।
ঘাসফড়িংয়ের মতো ছোট্ট বাচ্চা।
ওকে আসতে দেখো।
কিন্তু কোথায়... এই মুহূর্তে সে কোথায় আছে বলে তুমি অনুমান করো?
আমি অনুমান করছি না, আর্কিমিডিস!
আমি জানি ও কোথায়!
এখান থেকে এক মাইলেরও কম দূরে বনের ওপারে।
সব ঠিকঠাক থাকলে সময়মতো পৌঁছে যাবে।
- চুপচাপ থাক, ওয়ার্ট। - থাকার চেষ্টা করছি।
কেউ তোকে এই জায়গায় আসতে বলেনি।
- আমি তো নড়ছিও না। - চুপ কর।
আহ! এই তো।
ওহ, কি চমৎকার হরিণ।
আমার তীর সোজা গিয়ে শিকারের পেটে বিঁধবে।
ওহ। না? ওহ!
কেন করলি, মাথামোটা, বোকা কোথাকার!
ওহ, কে, আমাকে মাফ করে দাও। আমি জেনে-বুঝে করিনি।
একবার যদি...
একবার যদি হাতের নাগালে পেয়ে যাই, তাহলে তোর...
গলা চেপে ধরবো, কাছে আয় বলছি।
আমি তীর খুঁজে আনছি, কে। নিশ্চিত ওটা আমি খুঁজে পাবো।
আমাকে বলিস না যে তুই সেখানে যাচ্ছিস।
কারণ ওই জায়গা নেকড়েতে ভরা।
আমি ভয় পাই না।
আচ্ছা, যা তাহলে। ওটা তোর শরীর, আমার তো না।
যা, যা।
ওই যে ওটা। ওহ, পেয়েছি।
ওহ! আহ... ওহ !
তো।
তো, অবশেষে তুমি চায়ের সময় চলেই এলে।
ওহ, তুমি একটু দেরি করে ফেলেছো।
- ওহ, আ, আমি? - হ্যাঁ।
এখন, আমার নাম হলো মার্লিন।
এদিকে, তুমি কে, খোকা?
ওহ, আমার নাম আর্থার, কিন্তু সবাই আমাকে ওয়ার্ট বলে ডাকে।
ওহ।
ওহ, কি সুন্দর খেলনা প্যাঁচা।
খেলনা... মাথা-টাথা ঠিক আছে!
এ তো জীবিত, আবার কথাও বলে।
এবং অবশ্যই তোমার চেয়ে অনেক বুদ্ধিমান।
ওহ, আর্কিমিডিস। এখন বাদ দাও এসব।
আমি চাই তুমি ওয়ার্টের সাথে পরিচিত হও।
এখন, তোমাকে অবশ্যই ওকে ক্ষমা করতে হবে। ও বাচ্চা ছেলে।
বাচ্চা? বাচ্চা? আচ্ছা, কোনো বাচ্চা ছেলে দেখছি না।
- ওহ, আমি দুঃখিত যে... - কোনো ব্যাপার না।
ও অনেক বেশি সংবেদনশীল।
সংবেদনশীল? আহ? কে? কি? কি বললে?
- ওহ, আচ্ছা। - আপনি কীভাবে জানলেন যে আমি...
ওহ, তুমি এখানে আসবে?
আসলে, আমি একজন জাদুকর। একজন ভবিষ্যদ্বক্তা।
একজন পূর্বানুমান করা ব্যক্তি। ভবিষ্যতে দেখার ক্ষমতা আমার আছে।
ভবিষ্যতে শতাব্দীর পর শতাব্দী দেখার ক্ষমতা!
এমনকি আমি সেখানে ছিলাম, খোকা। এবং আমি এই সবকিছু দেখেছি।
এগুলো শুধু নকশা এবং ছোটোখাটো মডেল মাত্র।
এখন উদাহরণস্বরূপ দেখো, এটা একটা বাষ্পচালিত রেলগাড়ি।
এইতো চলছে। সুন্দর, তাই না?
কিন্তু এটার উদ্ভাবন হতে শত শত বছর লাগবে!
ওহ মানে কিছু ঘটার আগেই আপনি সবকিছু দেখতে পান?
হ্যাঁ, সবকিছু।
আহ-আহ, আহ-আহ। সবকিছু, মার্লিন?
আহ... না, না, সবকিছু না।
আহ, স্বীকার করছি যে আমি জানতাম না কে চায়ের জন্য আসবে।
কিন্তু যেমনটা দেখতে পাচ্ছ...
আমি সঠিক জায়গা অনুমান করেছি।
আপনি খুবই বুদ্ধিমান, স্যার।
হ্যাঁ। কিন্তু আমাকে স্যার বলা লাগবে না।
শুধু মার্লিন বলে ডাকলেও চলবে।
তুমি চায়ে চিনি নিবে?
ওহ, জ্বি, নেবো, দিন।
ঠিক আছে। চিনি। চিনি?
না, না, ভদ্রতা, ভদ্রতা, ভদ্রতা! অতিথি প্রথমে, শেখোনি এটা!
ঠিক আছে। হলে বলবে ব্যস।
ব্যস!
- তুমি পড়াশোনা করো? - ওহ, হ্যাঁ!
আমি নাইটের অনুচর হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। লড়াই করা, তরবারি চালাবার নিয়ম...
...বর্শা চালানো এবং ঘোড়সওয়ারী শিখছি।
ওহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুব ভালো। এটা, এটা তো...
না, না, না, আমি... মানে, বাস্তবিক শিক্ষা।
গণিত। ইতিহাস। জীববিজ্ঞান। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান।
ইংরেজি। ল্যাটিন। ফরাসি।
না। ব্যস! ব্যস! বন্ধ করো! ব্যস!
অভদ্র পেয়ালা।
খোকা, তুমি...
তুমি উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া বড় মানুষ হতে পারবে না।
ওহ, মনে হয় না, স্যার... মানে মার্লিন।
তাহলে, আমি হবো তোমার গৃহশিক্ষক।
কিন্তু আমাকে দুর্গে ফিরে যেতে হবে। ওরা আমাকে রান্নাঘরে কাজে লাগাবে।
ওহ, আচ্ছা। তাহলে ঠিক আছে।
ব্যাগ বোঝাই করে আমরাও রওনা হবো।
তুমি এখন দেখো। তোমার ভালো লাগবে।
"হিগিটাস ফিগিটাস জুম্বা কা জিং।"
"আশেপাশের সব এদিকে মনোযোগ দিন।"
আমরা যাওয়ার জন্য ব্যাগ বোঝাই করতে যাচ্ছি। চলো যাওয়া যাক।
না, না, তুমি না। বইগুলো সবার প্রথমে।
"হকেটি পকেটি ওয়াকেটি ওয়্যাক, সব ব্যাগে ঢুকে যাক।"
আকারে খুব ছোট হয়ে, যাও না তুমি দৌড়ে দৌড়ে।"
"হিগিটাস ফিগিটাস মিগিটাস মাম, ভোজবাজির মতো হও উধাও।"
সারি সারি হয়ে, ধীরে এগিয়ে, এসো না তোমরা শূন্যে উড়ে।
"হকেটি পকেটি ওয়াকেটি ওয়্যাক... দাঁড়াও!
থামো, থামো, থামো, থামো!
দেখো, চিনির বাটি। তুমি দুষ্টুমি করছো। ওই বেচারা চায়ের বাসনটা অনেকখানি চিড় খেয়ে গেছে।
এখন, ঠিক আছে। আবার শুরু করা যাক।
আহ, শুরু করা যাক... আহ... ওহ। আমি কোথায় ছিলাম, খোকা?
- আহ, হকেটি পকেটি? - ওহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক তাই।
"হকেটি পকেটি ওয়াকেটি ওয়্যাক, সব ব্যাগে ঢুকে যাক।"
একটু সাথে থাকো, খোকা। ব্যাগ বোঝাই প্রায় হয়ে গেছে।
বোকা গণ্ডমূর্খ!
আরে, আস্তে আস্তে। না, না, যাও।
"ডাম ডুডলি ডুডলি ডুডলি ডাম" এই অংশটা খুব মজার।
"হিগিটাস ফিগিটাস মিগিটাস মাম, ভোজবাজির মতো হও উধাও।"
"হিগিটাস ফিগিটাস মিগিটাস মাম, ভোজবাজির মতো হও উধাও।"
- হা, হা! - ব্যাগ বোঝাই করার কি অসাধারণ উপায়।
আচ্ছা, দাঁড়াও, একটা কথা আছে।
তুমি আর কোন উপায়ে এই সব জিনিসপত্র একটি স্যুটকেসে নিয়ে যেতে পারবে, আমি জানতে চাই?
- ওহ, কিন্তু আমার মনে হয় এটা অসাধারণ! - ওহ।
হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে। আচ্ছা এখন...
তুমি মাথায় কোনো আজগুবি ধারণা রাখবে না যে জাদুই তোমার সব সমস্যার সমাধান করবে।
- কারণ এমনটা ঘটে না! - কিন্তু, স্যার, আমার কোনো সমস্যা নেই।
ওহ, নাহ, সবারই সমস্যা আছে। দুনিয়াটা সমস্যায় ভরা।
ওহ, যত্তসব! আমি কি বলতে চাইলাম দেখলে?
দেখো, এটাই আজকের দুনিয়ার ঝামেলা।
সবাই ইটের দেয়ালে মাথা ঠুকচ্ছে। শুধু দৈহিক শক্তি আছে কিন্তু মানসিক শক্তি নেই।
তুমি বুদ্ধিমান না হয়ে শুধু বলবান হতে চাও?
- আমার কোনো দৈহিক শক্তি নেই। - নেই? আচ্ছা, তাহলে চলাফেরা করো কীভাবে?
ওহ, আমার মানে, একটু-আধটু আছে।
আহা। এইতো হলো কথা, ঠিক আছে, অনেক হয়েছে। এখন, তোমার মস্তিষ্ককে বিকশিত করতে হবে।
জ্ঞান, প্রজ্ঞা। এটাই আসল শক্তি। উচ্চ শিক্ষা।
এটাই জরুরি।
সুতরাং, প্রথমেই আগামীকাল সকাল থেকে আমরা পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করবো।
দিনে আট ঘণ্টা। স্কুলরুমের জন্য ছয় ঘন্টা এবং বাড়িতে পড়ার জন্য দুই ঘন্টা সময় নির্ধারণ থাকবে।
কিন্তু আমার সময় নেই। আমাকে রান্নাঘরের কাজ করতে হয়।
আহ, কাজ করতে হয়? হা!
আহ, তাহলে, আমরা সব পরিবর্তন করবো। পরিবর্তনের খুবই দরকার আছে।
জ্বি, স্যার। আমারও তাই মনে হয়।
শিক্ষা ছাড়া কিছু হবার চিন্তা কীভাবে করতে পারো তা আমি জানতে চাই?
এমনকি এই চরম বিশৃঙ্খল, অনগ্রসর, মধ্যযুগীয় সময়েও...
কোন লক্ষ্যে যেতে চাও তা জানতে হবে, তাই না?
জ্বি, স্যার।
হ্যাঁ, অবশ্যই। তো, তোমাকে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে, খোকা।
তোমাকে দিকনির্ণয় করতে হবে। এবং তোমাকে...
আচ্ছা, তোমার এই দুর্গটি কোন দিকে?
No comments yet. Be the first to leave one.