La unuaj 132 linioj.
যেদিন আমরা রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা আমাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিলাম।
অ্যাল, তুই নিশ্চিত যে তোর কোনো সমস্যা নেই?
গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া, মানে। তোর অনুশোচনা হচ্ছে না?
তুমি কী বলছো, ভাইয়া?
আমরা নিজেরাই তো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, জানোই তো।
আসলে, আমার মনে হয় তুমিই বেশি মিস করবে, তাই না, ভাইয়া?
আমি অনেক উত্তেজিত। যাই হোক, আমি তো স্টেট অ্যালকেমিস্ট হতে যাচ্ছি! আমি!
আমার অনুভূতিও কিছুটা ওরকম। যাই হোক না কেন, আমি তো তোমার শরীর ঠিক করবোই।
বুঝেছি বুঝেছি। তুই তোর নিজের চিন্তা কর।
তবুও, আমরা স্টেট অ্যালকেমিস্ট হবো কীভাবে?
এতে কেমন ট্রেনিং নিতে হয়...?
যদি তারা সত্যিই মানুষ রুপান্তর করে থাকে, আর নিজের জান বাঁচিয়ে ফিরতে পারে, তাহলে ওদের বাবার চেয়ে ওদের উপর আমার আগ্রহ বেশি।
ওরা দুজন ভালো স্টেট অ্যালকেমিস্ট হতে পারবে।
যেভাবেই হোক, আমরা এই রয় নামের লোকটার সাথে দেখা করবোই।
কে জানে? চিন্তা করবো শাহরুখ খান, বের হইবো শাকিব খান!
তুমি কি উইনরিকে নিয়ে চিন্তিত?
এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই।
ওরা দুজন এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমি নিশ্চিত ওরা দুজন বড় হয়ে গেলে আবার ফিরে আসবে।
এড... অ্যাল...
মানুষ কোনো কিছু বিসর্জন করা ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করতে পারে না।
যদি তুমি কিছু পেতে চাও, তাহলে ওটার সমান মূল্যের কিছুর দরকার পড়বে।
এটা হলো অ্যালকেমির সমমূল্যের বস্তু বিনিময়ের নিয়ম।
তখনকার সময়ে, আমরা ভাবতাম দুনিয়ার নিয়মটাও বুঝি এরকম।
ভাইয়া, তোমার জানা আছে কোন ট্রেনটাতে আমাদের উঠার কথা?
হ্যাঁ, কালকের সকাল ৯ টার ট্রেন। ততক্ষণে, চল কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিই।
আমার ব্যাগ!
অ্যাল!
খুব সহজ ছিল!
পোলাপাইন, হাহ? এরকম অনেকগুলারে দেইখা লইসি, এখন, ভালো ছেলের মতো পালা!
কী!?
এর বদলে, তুমি এখানে আরাম করলেই তো পারো!?
ভালো করেছ!
এটাতো অন্য কিছু ছিল! ওই অদ্ভুত জিনিসটা কী অ্যালকেমি ছিল?
হ্যাঁ।
ভাবতেও অবাক লাগে যে তোমাদের মতো পোলাপান নাকি অ্যালকেমিস্ট!
এইসব জায়গায়, মাজহাল ই একমাত্র একজন অ্যালকেমিস্ট।
মাজহাল?
হ্যাঁ। শোনা যায় সে নাকি তার অ্যালকেমি দিয়ে অনেককে সাহায্য করেছে।
তার মান সম্মান ভালোই আছে।
এই লোকটাকে কোথায় পাওয়া যাবে?
আহ, এই পরের গ্রামটাতেই। কিন্তু তোমাদের ওখানে এখন যাওয়া উচিত না।
ওখানে কিছু অশুভ গুজব শোনা যায়।
গুজবে শোনা যায় যে ওই গ্রামটাতে নাকি মৃতরা জীবন্ত হয়ে উঠছে, আর গ্রামবাসীদেরকে আক্রমণ করছে।
তুমি কি এই মাজহাল লোকটার সম্পর্কে কিছু জানো, ভাইয়া?
না, কিন্তু আমি এই একই নামটা তার চিঠিগুলোর মধ্যে দেখেছি।
মানে বাবার চিঠিতে?
যতটুকু মনে পড়ে, তিনি মানুষ রুপান্তর করার সম্পর্কে লিখেছিলেন।
যদি এটা ওই লোকটাই হয়, তাহলে তার সাথে দেখা করতে তো সমস্যা নেই, ঠিক?
হ্যাঁ! মনে হচ্ছে ভালোই যাত্রা হবে।
তোকে আজ একটু বেশিই খুশি দেখাচ্ছে।
আসলে, আমরা ওই চোরটাকে ধরেছিলাম, আর সবাই আমাদেরকে হাততালি দিয়েছিল।
জানি না কীভাবে বলবো, কিন্তু আমি খুশি যে আমাদের অ্যালকেমি অন্যদের সাহায্যে কাজে লেগেছে।
ভাইয়া, তুমি ঠিক আছো?
নারে, ঠিক নাই! সিটটা শক্ত ছিল, আর কিছুক্ষণ পরপরই ঝাঁকি দিসিলো।
তোর কিছু হয়নি?
মম-মম।
একটা জিনিস খেয়াল কর, ওখানে কিরকম অদ্ভুত ডেকোরেশন আছে।
কোনো উৎসব চলতাসে নাকি?
দেখ! ওইটা গ্রামের উপর দিয়ে গেছে!
তোমরা এখানে কী করছো!? এখানে সর্বসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ!
আমরা আতশবাজির রিহার্সাল করতাসি!
আ-আতশবাজি...? বলতাসোস কী!?
উৎসব করার জন্য আতশবাজি, আর কি!
আপনাদের চেহারা তো আগে কখনো দেখি নাই, দেখসি নাকি?
এই লোকটার কী হইসে? এইরকম অদ্ভুত পোশাক পরসে দেখি!
খুইলা ফেল!
চল এগুলারে ধরি। মজা হইবো।
ধইরা হালাইসি!
গায়ে কী শক্তি নাই!
তোমরা কী করছো?
আপনিই কী মাজহাল?
ওয়াও, পুরাই অস্থির।
আত্মা জুড়ে দেয়ার এক অসাধারণ উদাহরণ।
উ-উনি আমার ব্যাপারে জানেন, ভাইয়া!
হোহেনহাইমের ছেলেদের কাছ থেকে তো এটা আশা করাই যায়।
স্বাভাবিকভাবেই, তোমরা ওর অসাধারণ প্রতিভা পেয়েছ।
তো এখন, আমি তোমাদের জন্য কী করতে পারি?
আমার কাছের বন্ধুর ছেলেদের অনুরোধ তো আর ফেলে দেয়া যায় না।
আপনি তার কাছে চিঠিতে মানুষ রুপান্তরের ব্যাপারে যা লিখেছিলেন তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে এসেছি।
মানুষ রুপান্তর? তোমরা তো জানোই যে এটা আইনানুসারে নিষিদ্ধ, ঠিক?
হয়তোবা...কিন্তু আমি অ্যালকে আবার স্বাভাবিক করে তুলতে চাই।
সব মিলিয়ে একটা মানুষ রুপান্তর করার মূল্য কিন্তু প্রচুর।
আমি জানি তোমরা কেমন অনুভব করছো, কিন্তু এরকম কাজ শুধুমাত্র ঈশ্বরই করতে পারেন।
তাহলে, আপনি কেন মানুষ রুপান্তরের ব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করেছিলেন?
যৌবনের উদ্যম আর আকর্ষণ... মনে হয় এটাই বলবে।
মাজহাল, আমি কিছু গোলাপের জ্যাম বানিয়েছি, একটু নিবে নাকি...
আমি সর্বদা কৃতজ্ঞ, লেভি। ধন্যবাদ।
আরে থাক...
আর কিছু বলার আছে?
ন-না। মা-মাফ করবেন...
ঠিক আছে তাহলে, খেয়াল রেখো।
মাত্রই মনে পড়লো, এখানে শীঘ্রই কোনো উৎসব শুরু হবে, তাই না?
হ্যা, রিকুইয়েম উৎসব।
মৃতদের আত্মাগুলোকে আতশবাজিতে করে ওপরে পাঠানো হয়, তাদেরকে স্বর্গে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।
এই গ্রামের ব্যাপারে কিছু গুজব শুনেছি।
শোনা যাচ্ছে যে মৃতরা নাকি জীবিত হয়ে ফিরে আসছে, আর মানুষের ওপর হামলা করছে। ওটার সাথে এর সম্পর্ক আছে নাকি?
ওসব ফালতু, ভিত্তিহীন গুজব।
বাপরে, বাপ, আজ দেখি আমার অনেক মেহমান এসেছে।
তুমি!
কাম অন, ক্লজ! মাজহাল, আমি এর ব্যাপারে খুবই দুঃখিত।
আমাকে কেন মাফ চাইতে হবে!?
এটা ওদেরই দোষ যে ওরা এত দুর্বল ছিল, তাই না!?
যাই হোক, ছেলেই তো!
ভাইয়া, নিজেকে সামলাও!
কী!?
ক্লজ, আমি জানি যে তুমি তোমার বোনের মৃত্যুতে বিষণ্ণ।
কিন্তু কোনো এক সময়ে তুমি ছিলে শান্ত ছোট্ট মেয়ে।
তোমার মরহুমা বোন তোমাকে এখন দেখলে কী ভাবতো?
চুপ কর!
কেউ আমার অনুভূতি বোঝে না!
আমার বোন মারা যায়নি...
...তাকে মেরে ফেলা হয়েছিল যখন ওই মহিলাটা জীবিত হয়ে উঠেছিল!
জীবিত হয়ে উঠেছিল...?
ক্লজ!
হেই, দাঁড়াও!
তোমরা দুজন... অ্যালকেমিস্ট?
ছয় মাস হয়ে গেছে আমার বোন মারা যাওয়ার পর।
আমরা কারণ জানতাম না।
পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক গ্রামবাসী ওকে খুঁজে পায়, মনে হচ্ছিল সে ঘুমিয়ে আঁছে, কিন্তু সে মারা গিয়েছিল।
আর তারপর, তার শেষকৃত্যের রাতে...
ক্লজ...
ক-কারিন!?
বাবা বলেছিল যে সে নামে নাকি একটা মহিলা ছিল যে অনেক আগে এই গ্রামে বাস করতো।
বুঝেছ? ওই মৃত মহিলাটা জীবিত হয়ে ফিরলো আর আমার বোনকে মেরে ফেললো!
আর শুধু তাকেই না!
এইসব ওর জন্য হয়েছে!
দেখো, যদি তোমরা অ্যালকেমিস্ট হও, তাহলে আমার জন্য ওর কাছ থেকে প্রতিশোধ নাও!
আমি মাজহালকে বলেছিলাম, কিন্তু সে কিছু করবে না!
তাই...
মাজহাল যে কিছু করলো না এটা স্বাভাবিক।
এর কারণ তোমার কাহিনী পুরোটাই অবিশ্বাস্য।
No comments yet. Be the first to leave one.