La unuaj 200 linioj.
অনুবাদক : মেহেরাব হোসেন
আম্মু, দেখো! ঐযে ওখানে দেখো!
- কালা! - ও ফিরে এসেছে।
- বলেছিলাম না ও ফিরে আসবে। - আমরা তোমাকে সব জায়গায় খুঁজেছি।
তুমি ঠিক আছো তো, সোনা?
আমি ঠিক আছি। না, সত্যিই, আসলেই।
আসলে হয়েছিল কি যে আমি একটুখানি... পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম।
বেশ, এটা তো...
- বেশ, এটা খুবই... - কেন, এটা, এটা তো...
এটা দেখতে খুবই অদ্ভুত। এ ছাড়া আর কি হতে পারে।
- টার্কিনা! - আসলেই, তাকিয়ে দেখো!
মানে, এই জিনিসটা কী আসলে?
এটা একটা বাচ্চা।
আরে আরে।
তো, এর মা কোথায়?
বেশ, আজ থেকে আমিই হবো এর মা।
জানো, ও এতটাও খারাও না। তোমাকে ওর অভ্যাস গড়ে নিতে হবে।
কালা এখন ওর মা হবে।
কারচ্যাক, আমি একে স্যাবরের হাত থেকে বাঁচিয়েছি।
কালা, এটা আমরা যেটাকে হারিয়েছি সেটার জায়গা নিতে পারবে না।
আমি জানি। কিন্তু ওর আমাকে দরকার।
কিন্তু এটা, এটা...
কালা, ওর দিকে তাকিয়ে তো দেখো। ও আমাদের জাতের নয়।
না, তোমাকে একে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
ফিরিয়ে দিয়ে আসবো? কিন্তু ও তো মারা যাবে।
- যদি জঙ্গল ওকে চায়... - আমি ওকে চাই।
আমি তোমাকে আমাদের পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারি না।
ও কি তোমার কাছে বিপজ্জনক বলে মনে হয়?
ও কি একা ছিল?
হ্যাঁ। স্যাবর ওর পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে।
- সত্যি বলছো তো? - হ্যাঁ।
ওর আর কেউ নেই।
তাহলে তুমি ওকে রেখে দিতে পারবে।
কারচ্যাক, ও অনেক ভালো একটা ছেলে হবে।
আমি বলেছি ও থাকতে পারবে।
তার মানে এই না যে ও আমার ছেলে হতে পারবে।
আজ রাতে আমরা এখানেই বাসা বাঁধবো।
তো, আপনি একে কি নামে ডাকবেন?
আমি ওর নাম দিবো...
...টারজান।
টারজান? ঠিক আছে, আপনারই তো ছেলে।
ঠিক আছে, সুন্দরী, আসো। এখন বাসায় যাওয়ার সময় হয়েছে।
- ওহ, মা। - না।
আর পাঁচ মিনিট? আর দুই মিনিট?
আচ্ছা তাহলে এক মিনিট?
কেঁদো না। আমি তো আছিই। না না। কেঁদো না।
না না, কেঁদো না,
সব ঠিক হয়ে যাবে।
শুধু আমার হাতটা নাও, একে শক্ত করে ধরো।
আশেপাশের সবকিছু থেকে তোমায় রক্ষা করবো আমি।
আমি এখানেই আছি, কেঁদো না তুমি।
এত ছোট হয়েও তুমি এত শক্তিশালী হয়েছ।
আমার হাত তোমায় ধরে রাখবে রাখবে তোমায় নিরাপদ আর উষ্ণ।
আমাদের মধ্যকার এই বন্ধন ভাঙ্গা যাবে না কখনোই।
আমি এখানেই আছি, কেঁদো না তুমি।
কারণ তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে।
হ্যাঁ, তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে।
আজকে থেকেই
এখন আর আজীবন
তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে।
ওরা যাই বলুক না কেন
তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে।
সবসময়।
সবসময়।
টারজান।
টারজান?
তোমাকে ভয় পাইয়ে দিলাম, মা।
তা তো দিলেই।
আর কোনো ছোট পশুর নকল করতে পারলি না?
মা, ওতে মজা হতো না।
দেখবে কীভাবে চিতাবাঘের নকল করি?
তুমি তোমার নিজের আওয়াজ কেন বের করো না?
কালা।
খাইছে।
টারজান! খোদার কাছে শুকরিয়া যে তুই ঠিক আছিস!
কালা আর আমি কত ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
ওকে খুঁজে বের করার জন্য ধন্যবাদ, কারচ্যাক।
আপনি অনেক জ্ঞানী আর যত্নবান একজন নেতা।
পালা।
- ওই মিয়া! মাথায় কি ঘিলু আছে নাকি নাই? - কী?
তোকে আর কতবার শেখাতে হবে?
তুই যদি চাস যে কারচ্যাক তোকে পছন্দ করুক, তাহলে ওর কাছ থেকে দূরে থাক।
এদিকে আয়, টার্ক, জলদি!
- আর মাত্র একটা মৌচাক আছে! - যে প্রথমে ধরতে পারবে সেই খেতে পারবে।
টার্ক, আমিও আসতে পারি?
বেশ, তুমি আসতে পারতে যদি তুমি তাল মিলিয়ে চলতে পারতে, কিন্তু, তুমি তো অত দ্রুত নও।
দাঁড়াও, বন্ধুরা! দাঁড়াও! তোমাদের পিছনেই আছি!
তুই আমার লেজের ওপর দাঁড়িয়ে আছিস।
এই নে! নিজেকে মারিস না।
নিজেকে মারিস না। নিজেকে মারিস না।
এসে গেলো আসল মজা।
- অনেক অনেক ধন্যবাদ। - তোর এত দেরি হলো কেন?
একটা ছোটোখাটো সমস্যা ছিল, কিন্তু সেটাকে মিটিয়ে আসলাম।
হাই, বন্ধুরা।
টার্ক, এইসব কী, আমার সাথে মজা করছিস?
আমার কিন্তু এই লোম ছাড়া প্রাণিটাকে দেখতে একদমই ভালো লাগে না।
বেশ, টার্ক তো বলেছিল যে আমিও আসতে পারবো যদি আমি দ্রুত হতে পারি।
- না, না। - টার্ক, এ কি করলি।
আমি ব্যাপারটা সামলে নিচ্ছি, বন্ধুরা, ঠিক আছে? শোনো, বন্ধু। এদিকে আসো।
এখানে একটা ছোট, খাটো, মামুলি একটা সমস্যা আছে, বুঝেছো?
আমি তো তোমার সাথে ঘুরতে পছন্দ করি। তুই তো জানিস আমি করবোই।
কিন্তু এই পোলাপান... ওদেরকে কিছু করে দেখাতে হবে, বুঝেছো?
- আচ্ছা, বলো আমায় কি করতে হবে? - করতে হবে? তোমাকে কী করতে হবে?
কীভাবে যে বলি।
কী?
বেশ, তোকে একটা... তোকে একটা লোম আনতে হবে।
- লোম? - হ্যাঁ, লোম।
একটা হাতির লোম।
একটা হাতির লোম?
যেমনটা বলেছিলাম, স্রেফ পাগলামো, তাই না?
দেখো, আমার কথা শোনো। বাড়ি যাও। ঠিক আছে?
কারণ ছাড়াই ঝামেলায় কে পড়তে চায়?
জানোই তো, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরবো।
তুই যা, আমি পরে আসছি, ঠিক আছে?
দেখলি তোরা? বলেছিলাম না আমার ওপর ছেড়ে দে। বলেছিলাম যে আমি এটা...
টারজান! টারজান!
খুব লেগেছে মনে হয়।
দেখ! ও ঐতো ওখানে!
ও বেঁচে আছে!
- হেই, বন্ধুরা! - হাই।
ফিরে আয়! আয় ফিরে আয়।
এই পোলা তো চরম।
পোলাটা যদি বেঁচে থাকে, তাহলে ওকে রোজ রোজ নিয়ে আসিস।
চল, চল, কাছে থেকে মজা নেওয়া যাক।
তুমি কখনোই পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারবে না, বলে দিলাম।
- আমার তো পর্যাপ্ত ঘুমই হয়। - মা?
- এতে ক্যালোরি পোড়ে। - এই পানি পরিষ্কার আছে তো?
আমার তো সন্দেহ হচ্ছে।
একেবারে ঠিক আছে, সোনা।
কিন্তু যদি ব্যাকটেরিয়া থাকে তাহলে?
ট্যান্টর, দেখছো না তোমার মা কথা বলছে?
সাবধান! পানিতে কিছু একটা সাঁতরে যাচ্ছে!
- এটা একেবারে তোমার দিকেই আসছে! - সোনা, আম্মুর মেজাজ কিন্তু খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
- কিন্তু এইবার আমি সত্যি সত্যিই কিছু একটা দেখেছি। - আরে, ব্যাটা।
পিরানহা! এটা একটা পিরানহা!
সোনা, আফ্রিকাতে কোনো পিরানহা মাছ নেই।
বাচ্চাটাকে মিথ্যা বোলো না। আফ্রিকাতে অবশ্যই পিরানহা মাছ আছে।
না, ও ঠিকই বলছে। ওরা হলো দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয়।
- সরে যা এখান থেকে। - এটা সত্যি।
- হতেই পারে না। - আরে, সরো না।
তোমার কি মনে হয় ওরা এখানে থাকলে আমিও এখানেই থাকতাম?
এটা একেবারে তোমার পেছনেই! পালাও!
সোনা, শেষবারের মতো বলছি যে এখানে কোনো পিরানহা নেই।
আমার পাছা!
- বলেছিলাম না! - আমার পাছায় কিছু একটা আছে!
- ওটা কী? - এখানে কি ওদের মতো আরো আছে নাকি?
- ওটা কী? - ওটা পিরানহা।
পিরানহা!
ট্যান্টর, তুমি কোথায়?
ও মারা গেছে।
আমরা মারা গেছি!
আমরা কিছু করি নাই! ওরাই সব করছে!
ওহ, ধন্যবাদ, কারচ্যাক।
টারজান, বন্ধু! বন্ধু, এদিকে আয়!
টারজান, তুমি মরতে পারো না! তুমি মরতে পারো না!
- তোর মারা যাওয়ার কথা ছিল না! - সরে যাও!
এটুকুও জানো না যে একটা পিরানহা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তোমাকে দিয়ে নাস্তা সেরে ফেলতে পারে?
কী? ও কোনো পিরানহা নয়!
ও বেঁচে আছে!
ও বেঁচে আছে! ও বেঁচে আছে!
- ও বেঁচে আছে! - ও একটা...
গাধা!
আরেকটু হলেই আমার তো হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতো! এখন খুশি?
বিশ্বাসই হচ্ছে না। তুমি একটা লোম আনতে পেরেছো?
এই একটা জিনিসের জন্য তোমরা এত কান্ড করলে? আমার কাছে তো এর পুরো জঙ্গল আছে।
- টারজান? - টার্কিনা?
আরে, না।
- উনি কে? - আমার মা।
- টারজান। - হাই।
- হাই, কালা আন্টি। - ওহ, আমি তো খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম!
- কী হয়েছিল? - বেশ, আমি...
এটা অনেক লম্বা... অনেক লম্বা কাহিনি।
কারণ যা হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি বরং...
সত্যি সত্যি বলো কী হয়েছিল?
সব আমার দোষ, কারচ্যাক।
টারজান।
আমরা খেলছিলাম, আর তখন... বেয়াহ, আমি দুঃখিত, কারচ্যাক।
তোমার কারণে কারো প্রাণহানি হতে পারতো।
- এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। - ও এখনো ছোট।
ওটা কোনো অজুহাত না। তুমি সবসময় ওর পক্ষে কথা বলতে পারো না।
- ও ধীরে ধীরে শিখে ফেলবে। - ও কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না।
- তুমি কখনোই ওকে সুযোগ দাওনা। - ওকে সুযোগ দেবো?
কালা, ওকে ভালোভাবে দেখো। ও কখনোই আমাদের একজন হতে পারবে না।
কারচ্যাক!
টারজান।
টারজান, তুমি কি করছো?
আমি কেন এত আলাদা?
তোমার গায়ে কাদা লেগে রয়েছে তো, তাই।
- কারচ্যাক বলেছিল যে আমি কখনোই... - মুখ বন্ধ করো।
কারচ্যাক বলেছিল আমি কখনোই এই পরিবারের একজন হতে পারবো না।
কারচ্যাকের কথায় কিছু মনে কোরো না।
- দাঁড়াও। - কিন্তু দেখো আমাকে!
দেখছিই তো, টারজান।
আর জানো আমি কী দেখতে পাচ্ছি?
আমি দেখতে পাচ্ছি দুটো চোখ, আমার মতো,
আর একটা নাক, কই গেলো।
এইতো।
দুটো কান।
- আর দেখা যাক, কী আছে? - দুটো হাত?
তা ঠিক।
No comments yet. Be the first to leave one.