Die ersten 200 Zeilen.
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
রাশোমন (১৯৫০)
রায়নোসুকে আকুতাগাওয়া রচিত “ইন অ্যা গ্রোভ” অবলম্বনে
== চিত্রনাট্য == আকিরা কুরোসাওয়া এবং শিনোবু হাশিমোতো
== চিত্রগ্রহণ == কাজুও মিয়াগাওয়া
== অভিনয় ==
তোশিরো মিফুনে
মাচিকো কায়ো
তাকাশি শিমুরা
মায়ায়ুকি মোরি
মিনোরু চিয়াকি
== পরিচালনা == আকিরা কুরোসাওয়া
বুঝতে পারছি না, কিছুই বুঝতে পারছি না।
মোটেও বুঝতে পারছি না।
একেবারে কিছুই না।
কী সমস্যা?
কী বুঝতে পারছেন না?
এমন অদ্ভুত কাহিনী জীবনেও শুনিনি।
কাহিনীটি খোলাসা করে বলুন?
এখানে তো দেখি একজন যাজকও রয়েছে।
নাহ, কিয়োমিজু মন্দিরের বিখ্যাত, বিচক্ষণ যাজকও...
... এমন অদ্ভুত কাহিনী শুনেন নি।
তাহলে, তুমিও সেই অদ্ভুত কাহিনী জানো?
এই লোক আর আমি কেবলই সব দেখে-শুনে এলাম।
- কোথা থেকে? - আদালত থেকে।
আদালতে?
একজন লোক খুন হয়েছে।
কেবল একজন? তাতে কী?
এই ফটক ধরে এগোলে, অন্তত পাঁচ-ছয়টি বেওয়ারিশ লাশ পাবে।
তা ঠিক।
যুদ্ধ, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়...
অগ্নিকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, মহামারি...
বছরের পর বছর, বিপর্যয় লেগেই আছে।
আর প্রতি রাতে ডাকাতের উৎপাত তো আছেই।
কতো মানুষকে কীট-পতঙ্গের মতো মরতে দেখেছি...
তবুও এই অদ্ভুত কাহিনীর কাছে সেগুলো কিছুই নয়।
হ্যাঁ, এতোটাই ভয়ানক!
অবশেষে মনে হয়, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েই ফেলবো।
ডাকাত বা মহামারির চেয়েও ভয়ানক...
দুর্ভিক্ষ, অগ্নিকাণ্ড বা যুদ্ধের চেয়েও।
যাজক সাহেব...
... বক্তৃতা অনেক দিয়েছেন।
মজা পাবো মনে হচ্ছে, বৃষ্টি থামা পর্যন্ত শুনে যাই।
কিন্তু এমন বয়ান শুরু করলেন যে, বৃষ্টির শব্দ শোনাই ভালো।
শোনো, হয়তো তোমার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে।
তিনটির কোনোটিই বুঝতে পারছি না।
- কোন তিনটি? - শোনো...
সবগুলোই তোমাকে বলবো।
এবার ধীরে ধীরে বলুন তো।
বৃষ্টি শীঘ্রই থামবে মনে হচ্ছে না।
তিন দিন আগে...
... পাহাড়ে গেলাম কাঠ কাটতে।
প্রাণপণ দৌড়ে গেলাম পুলিশের কাছে।
তার তিনদিন পর আজকে, সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আমাকে ডাকলো।
হ্যাঁ, সত্যি বলছি।
আমিই প্রথম মৃতদেহটি দেখেছি।
কী? কোনো তরবারি দেখেছি কি না?
নাহ, কিছু দেখিনি।
গাছের ডালে একটি মহিলা-টুপি...
... আর সামুরাইয়ের মোচড়ানো টুপি ছাড়া।
লাশের পাশে কয়েক টুকরো কাটা দড়ি ছিলো...
আর গাছের পাতায় একটি চকচকে তাবিজ ঝুলতে দেখেছি।
হ্যাঁ।
এগুলোই কেবল দেখেছি। হ্যাঁ।
হ্যাঁ।
মৃত্যুর একটু আগেই তাঁর সাথে দেখা হয়েছিলো।
তিনদিন আগে বিকেল বেলায়...
... রাস্তার ওপরে...
... সেকিয়ামা থেকে ইয়ামাশিনা যাওয়ার পথে।
মেয়েটি ঘোমটা পড়ে ছিলো, চেহারা স্পষ্ট দেখিনি।
খুশি মনে তাঁরা এগিয়ে যাচ্ছিলো।
এমন দুর্ভাগা মৃত্যু কে আশা করেছিলো!
মানব জনম ভোরের শিশিরের মতোই ঠুনকো ও ক্ষণস্থায়ী।
কতো দুর্ভাগ্য যে, তাঁর করুণ মৃত্যু হলো।
আমি অত্যন্ত দুঃখিত।
যে লোকটিকে এনেছি সে-ই তাজোমারু।
হ্যাঁ, কথিত সেই কুখ্যাত ডাকাত।
গতবারও প্রায় ধরে ফেলেছিলাম, একটুর জন্য ফস্কে গেছে।
তখনও একই অস্ত্র বহন করছিলো।
দু’দিন আগে সন্ধে বেলায়, কাতসুরা নদীর তীরে...
কী হয়েছে?
১৭ টি তীর ছিলো ঈগলের পালক লাগানো।
একটি চর্ম-ধনুক এবং একটি ঘোড়া।
এগুলো সব মৃত ব্যক্তির।
চুরিকৃত ঘোড়ার পিঠ থেকে তাজোমারু পড়ে গেলো...
... চরম কর্মফল পেয়েছে।
ঘোড়া থেকে পড়ে গেছি? ধুর শালা!
সেদিন...
ঘোড়ায় চড়ার সময় তৃষ্ণা পেয়ে গেলো।
অসাকার কাছে একটি ঝরনা থেকে পান করেছি।
হয়তো উজানে বিষাক্ত মৃত সাপ পড়ে ছিলো।
একটু পরেই পেটে অসহ্য ব্যাথা শুরু হয়।
নদীর তীরে আসতেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি।
তাই ঘোড়া থেকে নেমে বালিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিলাম।
পড়ে গিয়েছি আমি?
অবশ্য, বেকুব বেকুবের মতোই চিন্তা করবে।
আজ না হয় কাল শাস্তি আমাকে পেতেই হবে...
তাই কোনো কিছুই গোপন করবো না।
লোকটিকে আমি নিজ হাতে খুন করেছি।
এই দম্পতিকে তিনদিন আগে দেখেছি এক রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে।
হঠাৎ এক শীতল বাতাস পাতাগুলোকে নাড়া দিয়ে যায়।
ঐ বাতাস না এলে তাঁকে খুন করতে হতো না।
এক ঝলক রূপ দেখিয়েই সে চলে গেলো।
হয়তো এজন্যেই...
মনে হলো যেনো পরী দেখলাম!
তখনই তাঁকে পাওয়ার ইচ্ছা জাগলো, তাঁর স্বামীকে খুন করে হলেও।
খুন-খারাবি ছাড়া পেয়ে গেলে ভালোই হতো।
আমার ইচ্ছে ছিলো খুন করা ছাড়াই তাঁকে ভোগ করবো।
কিন্তু ইয়ামাশিনার রাস্তায় সেটা সম্ভব ছিলো না।
কী চাও?
কী চাও তুমি?
কী চাও?
ভয় পাবেন না।
দেখেছেন? তলোয়ারটি দারুণ না?
ভালো করে দেখুন।
ওদিকে কিছু ধ্বংসস্তূপ আছে।
ধ্বংসস্তূপটি খুঁড়তেই বেশকিছু তরবারি আর কাঁচ পেয়েছি।
পাহাড়ের পেছনে জঙ্গলে পুঁতে রেখেছি, যাতে কেউ খুঁজে না পায়।
নিতে চাইলে সস্তায় দিয়ে দেবো।
আরও সামনে।
আগে যাও।
এই যে, পাইন গাছের পেছনে।
তোমার স্বামী অসুস্থ হয়ে গেছে।
তাঁর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলো, আর নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে রইলো।
মুখাবয়ব বাচ্চাদের মতো হয়ে গেলো।
তা দেখে লোকটির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে ঘৃণা করতে শুরু করি।
মেয়েটিকে দেখালাম কী নির্দয়ভাবে তাঁর স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছি।
এই চিন্তা হঠাৎ করেই মাথায় ভর করে বসে।
এমন ক্ষিপ্রতা কোনো মেয়ের মাঝে আমি দেখিনি।
অবশেষে, স্বামীকে খুন না করেই মেয়েটিকে ভোগ করি।
তখনও হত্যার চিন্তা মাথায় ছিলো না।
তখনই...
দাঁড়াও!
থামো!
হয় তুমি মরো না হয় আমার স্বামীকে মারো।
একজনকে মরতে হবে।
আমার কলঙ্ক দু’জন পুরুষের জানা মৃত্যুর চেয়েও জঘন্য।
বিজয়ীর সাথেই আমি যাবো।
তাই খুন করতে হলো, কিন্তু সেটা সম্মানজনকভাবে করতে চেয়েছি।
খুব ভালো লড়াই করেছে। ২৩ বার আঘাত ঠেকিয়ে দিয়েছে।
সব মনে আছে কারণ তাঁর লড়াইয়ে মুগ্ধ ছিলাম।
আগে কেউ আমার সাথে ২০ বারের বেশি টেকেনি।
কী? ঐ মেয়ে?
জানি না।
লোকটিকে মেরে তাকিয়ে দেখি মেয়েটি নেই।
হয়তো লড়াই দেখে ভয়ে পালিয়েছে।
তারপর পাহাড়ি রাস্তায় দৌড়ে গেলাম।
দেখি তাঁর ঘোড়া ঘাস খাচ্ছে।
মেয়েটির ক্ষিপ্রতা আমাকে মুগ্ধ করেছে...
... কিন্তু, স্বাদ অন্যান্য মেয়ের মতোই।
তাঁকে আর খুঁজে দেখিনি।
কী? তাঁর তরবারি?
ওটা দিয়ে মদ খেয়েছি।
কী? চাকু?
রত্নখচিত চাকু, খুব দামি মনে ছিলো।
ওহ, একদম ভুলে গেছি। কী বোকামি করেছি!
জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল!
পুরো ডাকু-দলের মধ্যে মেয়ে আসক্তিতে তাজোমারুর নাম-ডাক ছিলো।
গত মৌসুমে এক নববধূ ও তাঁর দাসীর...
... লাশ পাওয়া গেলো পাহাড়ে। হয়তো তাঁদেরকে ও-ই মেরেছে।
যে মেয়েটি ঘোড়া রেখে পালিয়েছে তাঁর কী হয়েছে?
বেশ...
ঐ মেয়েটিও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে।
মেয়েটিকে একটি মন্দির থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
মিথ্যে কথা।
সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। তাজোমারু আর মেয়েটির সাক্ষ্য।
মানুষ তো মিথ্যে বলবেই।
বেশিরভাগ সময়ই আমরা নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রতারণা করি।
হতে পারে...
কারণ মানুষ দুর্বলতা পেলেই মিথ্যে বলে, এমনকি নিজেদের সাথেও।
আবার বয়ান মাইরো না।
মিথ্যে হলেও আমার কিছু যায় আসে না। শুনে মজা পাচ্ছি, এই যা।
মেয়েটি কী গল্প শোনালো?
তাজোমারুর গল্প থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তাঁর চেহারায় ক্ষিপ্রতার কোনো ছাপই দেখা যায়নি।
সে ছিলো খুবই নিরীহ ও দুঃখী।
নীল পাজামা পড়া লোকটি...
... জোর করে আমাকে নষ্ট করেছে।
গর্বের সাথে ঘোষণা দেয় সে-ই কুখ্যাত তাজোমারু ডাকাত।
আমার স্বামীকে বেঁধে বিদ্রূপ করতে থাকে।
আমার স্বামী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
যতোই ছাড়ার চেষ্টা করে...
... দড়ি আরও শক্ত করে বেঁধে দিলো।
তাঁর দিকে দৌড়ে গেলাম। মানে যাওয়ার চেষ্টা করলাম...
যখনই তাঁর চোখের দিকে তাকাই...
শিরা-উপশিরায় রক্ত হিম হয়ে যায়।
চোখের মাঝে রাগ নেই...
... দুঃখও নেই।
নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে ছিলো তীব্র ঘৃণা।
তাকাবে না।
ওভাবে তাকাবে না।
বড় নিষ্ঠুর দৃষ্টি।
মারো আমাকে।
মারো আমাকে, তবুও তাকাবে না। দয়া করো।
মারো আমাকে।
এক কোপে মেরে ফেলো।
No comments yet. Be the first to leave one.