Die ersten 200 Zeilen.
না, না। পেছনে দাঁড়ান, আমি আগে এসেছি।
- ৫০ টাকা দাম। - না, ৩৫ টাকা তো।
দুটো কিনলে তবেই এই সুযোগ পাবেন।
কিন্তু আমার তো একতোড়া লাগবে।
৭০-এর অর্ধেক তো ৩৫ হয়।
একটি নিলে ৫০ টাকা। দুইটা নিলে ৭০ টাকা।
এর কোনো মানে হয়!
সব ধান্ধাবাজি। আমি ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেবো।
- ম্যানেজার আছেন? - না, লাঞ্চে গেছেন।
লাঞ্চ? লাঞ্চ বাদ দিয়ে হিসাব শিখতে বলুন।
একই জিনিসের দু'রকম দাম হয়? নির্ঘাত ধান্ধাবাজি।
তুমি তো জানো...
... একজোড়া আনার অভ্যাস নেই।
খুব মিস করি তোমাকে।
অকেজো জিনিস।
- কুকুর যেন এদিকে হিসু না করে। - ওই বুড়োর কথা শুনো না।
অ্যান্ডার্স! দেখলে বুড়োটা কী করলো? প্রিন্সকে লাথি মারলো।
- কুকুরকে মারলেন কেন? - ওটা কুকুর নয়।
একজোড়া চোখওয়ালা শীতকালের জুতোর মতো।
- এখানে কুকুর নিয়ে হাঁটা নিষেধ। - পুলিশ ডাকতে হবে।
বুড়োকে তো কিছু বললে না, অ্যান্ডার্স? বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান তুমি।
- বললাম তো। - হ্যাঁ, ঠিকভাবে বলোনি।
শুভ সকাল।
- সব ঠিকঠাক? - কী মনে হয়?
- ওভে! একটু কথা বলা যাবে? - অফিস রুমে।
নিশ্চয়ই পদোন্নতি হবে, হুহ?
- ভালো আছেন? - হ্যাঁ।
- এখানে কতবছর যাবত কাজ করছেন? - ৪৩ বছর।
- ওহ। - বেশ।
- আপনার বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে? - হ্যাঁ।
আপনার জন্য একটি প্রস্তাব আছে।
আপনার বয়স মাত্র ৫৯, এখনও অনেক কাজ করতে পারেন।
একই অফিসে ৪৩ বছরের চাকুরীজীবন কি সেই ইঙ্গিত দেয়?
আসলে...
- আমাকে চাকরীচ্যুত করতে চান? - ব্যাপারটি আসলে তা নয়।
- নতুন চাকরি দিতে চাই। - একটি সরকারি ট্রেনিং কোর্সে।
- পদোন্নতি দিয়ে। - দিনে দিনে সবকিছু যন্ত্রনির্ভর হয়ে যাচ্ছে।
আগে আমার কথা শুনুন।
তারচেয়ে বরং ইস্তফা দিলেই ভালো হয় না?
বেশ, তবে তাই হোক।
দাঁড়ান, আপনার জন্য একটি বিদায়ী পুরষ্কার আছে।
বাগান করার বেলচা।
অন্য কোথাও গেলে ফোন ফরওয়ার্ড করে যাবেন না?
- এখানে কোনো ফোন নেই। - মজা লুটেন নাকি?
আস্তে, আসো।
সাবধানে! হ্যালো! হ্যালো!
থামো! থামো! থামো!
- এই তো। - কী সব ঝামেলা?
- আরেকটু যাও, প্যাট্রিক! - কী হচ্ছে এসব?
- ভালো চালাতে পারে না। - এখানে গাড়ি চালানো নিষেধ।
- সুইডিশ সাইন চিনেন না? - কানা নাকি? গাড়ি কি আমি চালাচ্ছি?
আমরা নতুন এসেছি। আমি প্যাট্রিক।
আপনাকে তো মিকি মাউস ডাকা উচিৎ, গাড়ি উলটো চালাচ্ছেন...
উলটো চালালেও রিয়ার-ভিউ মিররে সব দেখা যায়।
- কী বললেন উনি? - জানি না, পার্সিয়ান বুঝি না।
দেখতে সুন্দর না?
না... না... হ্যালো!
- না! না! - কিছুতে লেগেছে নাকি?
বের হউন! পথ ছেড়ে সাইডে দাঁড়ান।
- সাবধানে... - আমি চালাতে পারি।
- কীসের শব্দ? - ব্যাকআপ ক্যামেরা।
গাড়িতে আবার ক্যামেরা?
- হাই। - হ্যালো।
মা!
ব্যাকআপ ক্যামেরা লাগাইছে? ক্যাসেট-টেপও তো রাখা উচিৎ না।
- পিটার! - নির্বোধের দল!
আমার জ্যাকেট পাচ্ছি না।
- পিটার! পিটার! - আসছি।
- জলদি আসো! - কী চাও?
যা ভাগ!
আপনি কি আমার বাইক এনেছেন?
- ওটা তো মেয়েদের। - ওটা আমার বান্ধবীর।
- থাকে কোথায়? - ওদিকে ১৪২ নাম্বারে।
কম্যুনিস্টদের সাথে যারা ময়লা নেয়?
- তাঁকে এসেই নিতে বলো। - পাগল নাকি?
- বাইকটা কি রেখে যাবো? - শালা বদমেজাজি।
আরে ওভে! ভালো আছেন?
বারবার 'কেমন আছি' জিজ্ঞেস করো কেন? আমাকে দেখে কি অসুস্থ লাগে?
দিনের অর্ধেক চলে গেলো, কাজে গেলেন না। দেখে তো অসুস্থ লাগছে না।
কী চাও? শুধুশুধু প্যাঁকপ্যাঁক করো কেন?
আমার সাথে লাঞ্চ করবেন?
গর্দভ!
চোখের মাথা খেয়েছো! এখানে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ!
- কিছু বললেন? - হ্যাঁ, এখানে যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ।
- তাই? আমার তো অনুমতি আছে। - আইন ভঙ্গ করবেন না।
- ধুর মিয়া! - যা ভাগ ব্যাটা!
কোনো সমস্যা?
অতিথিদের গাড়ি সবসময় গেস্ট পার্কিঙে রাখবেন।
সবকিছুর একটা নিয়ম-কানুন আছে।
উনারা সরকারি লোক। আমার সাহেবকে দেখতে এসেছেন।
ভেতরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। একটু দেখবেন?
না, কম্বল মুড়ে শুয়ে থাকুন।
দুঃখিত, কাল নানান ঝামেলায় আসতে পারিনি।
প্রতিবেশীরা যা গ্যাঞ্জাম শুরু করেছে না।
আমাদের নতুন প্রতিবেশি এসেছে।
আজকালের মানুষ যেন কেমন হয়ে গেছে। কেউই নিয়ম মানতে চায় না।
একটা ট্রেইলার রাখতে পারে না, বাইকের চাকাও পালটাতে পারে না।
ওদের মূল কাজ হচ্ছে দিনভর খাওয়া-দাওয়া।
ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। সারাদেশের মানুষ খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত।
তুমি তো চলে গিয়ে বেঁচেই গেছো।
এলাকায় একটি সাদা গাড়ি এসে ঝামেলা পাকাচ্ছে।
তুমি নেই বলে আমিও আজ এলোমেলো।
ঝামেলা না হলে আজই তোমার কাছে চলে যেতাম।
খুব মিস করি তোমাকে।
শান্তিতে মরতেও পারবো না।
কী? কী ব্যাপার?
- চিকেন-রাইস এনেছি। - বিক্রির জন্য?
আপনার জন্য এনেছি। নিলে খুশি হবো।
জাফরান দিয়ে পার্সিয়ান খাবার। পার্ভানেহ খুব ভালো পাকায়।
আমিও পেট ভরে খেলাম।
ট্রেলার চলে গেছে, নোটটাও দেখেছি। আসলে দোষ আমাদেরই ছিল।
- আপনাকে দেখে ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। - না, আমার ক্ষুধা নেই।
- না নিলে ফেলে দেবো। - না, ফেলার দরকার নেই।
- শুনলাম আপনার নাকি একটা মই আছে? - হ্যাঁ, আছে।
সবারই নিজস্ব মই থাকা উচিৎ।
নিয়ম-কানুন জেনে নেবেন।
মইটা একটু দেওয়া যাবে?
সাবধানে ব্যবহার করবেন।
এই যে ঠেকনা।
এই নিন ব্যবহার-বিধি।
নিয়ে যান!
- 'ইন্সেক্ট চাবি' হবে? - হেক্স চাবি।
না, ইন্সেক্ট চাবি।
কীটপতঙ্গ কীভাবে হয়? ছয়টি পার্শ্ব - হেক্স চাবি।
গুগলে ঢুঁ মেরে দেখো।
ওভে? বাসার তাপমাত্রাটা একটু চেক করে দেবেন?
- আসবেন একটু? - রেডিয়েটার চেক করেছেন?
- তাহলে কাজ হবে? - হেই, আমি পার্ভানেহ।
- আমার স্বামী প্যাট্রিক। - আমরা আপনার নতুন প্রতিবেশি।
জায়গাটি বেশ সুন্দর। শিশুদের জন্য স্বর্গ।
আজাইরা! খেয়েদেয়ে আর কাজ নেই?
- উনার রেডিয়েটার উঠাবেন না? - চেক।
রেডিয়েটার উঠায় না, চেক করে।
ক্ষমতা দখলের আগে রুনে জিজ্ঞেস করলে হয়ে যেতো।
- ওভে, ব্যাপারটা ক্ষমতা দখলের নয়। - ব্যাপারটা ক্ষমতা দখলেরই!
- ঠেকনাগুলো নেবে না? - হ্যাঁ, হ্যাঁ, নেবো।
ওভে ছিল সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান, আমার স্বামী নির্বাচিত হওয়ায় ওর মাথা বিগড়ে গিয়েছে।
পার্ভানেহ! দেখো তো ওগুলো চলবে কিনা।
ওগুলো নিবেন না। ওগুলো সোঞ্জার।
- ওগুলো তিনি... - মুখটা বন্ধ রাখো! একদম!
যথেষ্ট হয়েছে! সবাই বাড়ি যাও! ভাগো!
ভাগো!
স্বর্গ, হুহ?
ওভে?
ওভে? এদিকে একটু আসবে?
এখনই আসতে হবে?
ওভে?
- বইয়ের তাকটা সুন্দর না? - হ্যাঁ।
এতো বই কোথায় পেলে?
কয়েকটি বক্স রান্নাঘরে ছিল, আর কিছু ছিল স্টোররুমে।
আরেকটা বানিয়ে দেবো।
লোকে বলে মৃত্যুর সময় মস্তিষ্ক সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে।
স্মৃতিগুলো ধীরগতিতে ভেসে ওঠে।
ভালো কাজগুলো সামনে ভেসে ওঠে। বিশেষকরে গুরুত্বপূর্ণকাজগুলো।
আমার মা। অল্পবয়সে মা'কে হারিয়েছি।
আব্বুর চেহারায় দুঃখের কোনো ছাপ দেখা যায়নি।
- আসার জন্য ধন্যবাদ। - আমার মুখেও নয়।
একদিন সবারই চলে যেতে হবে।
একটা ব্যাপার পরিষ্কার।
এই ছোট জীবনে যা কিছুই করি, কোনোকিছুই তুচ্ছ নয়।
চলো বাড়ি যাই।
আব্বু কথা বলতেন কম। বাড়ি-ঘর নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।
... আর গাড়ি।
তেমন কিছু বলতেন না।
গাড়ি দিতে পারে তোমাকে স্বাধীনতা।
কিন্তু সঠিক পরিচর্যা না নিলে, সেটা হরণও করে পারে।
তবে একরাতে খুব কথা বললেন।
ওভে? তুমি কি জানো সবকিছুর মাঝে যোগসূত্র থাকে?
- এই যে সাব-৯২... - হ্যাঁ?
- স্পার্ক-প্লাগের কাজ কী? - এগুলো দিয়ে গতি বাড়ায়।
ঠিক তাই।
ওভে! এই তো জীবন!
দুনিয়াতে সাব-৯২ এর ওপরে কোনো গাড়ি নেই।
বেশিরভাগ সময়ই তিনি চুপচাপ থাকতেন।
স্কুল শেষে প্রায়ই আব্বুর কর্মস্থলে যেতাম।
- হেই, আব্বু! - হেই, ওভে!
তাঁর কাছে নিরাপদ জায়গা।
ট্র্যাক থেকে সরে দাঁড়াও, ওভে!
- ট্র্যাক থেকে সরে দাঁড়াও, ওভে! - কী বললে?
পেছনে ট্রেইন!
জীবনে প্রথমবার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।
হঠাৎ করেই তখন আমার মায়ের কথা মনে পড়লো।
মায়ের মুখ ভেসে উঠলো।
হয়তো আব্বুরও মনে পড়লো।
সেদিন থেকে...
এবার চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।
তারপর থেকে আব্বুর আচরণ বদলে গেল।
চিনতে থাকলাম আব্বুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের।
- টম তাঁদেরই একজন। - ওটা ফিরিয়ে দাও।
- না, এটা আমি পেয়েছি। - একদম মেরে লাল করে দেবো।
বেশিরভাগ মানুষই জানে না, সে সঠিক কাজটি করছে কিনা।
- এর অনুভূতিটা অন্যরকম। - একদম মাথা ফাটিয়ে ফেলবো।
মাঝেমাঝে অনুভূতিগুলো অদ্ভুতভাবে অনুভূত হয়।
যে যা পায় সেটা তাঁর, এভাবেই তো চলে আসছে।
ওভে?
ব্যাগটি তুমি যা ইচ্ছে করতে পারো, যেহেতু এটি তুমি পেয়েছো।
- এটা ট্রেইনে পেয়েছি। - অসংখ্য ধন্যবাদ।
- টমের সম্পর্কে কিছু বললে না তো? - অন্যের সমালোচনা আমি পছন্দ করি না।
- ভেবেছি উনি ব্যাগটা রেখে দেবে। - হ্যাঁ, জানি।
কিন্তু তুমি তো ফেরত দিলে।
No comments yet. Be the first to leave one.