De første 200 linjer.
I'M YOUR MAN
- স্বাগত। - হ্যালো।
ড. ফেলজার।
অনুগ্রহ করে আমার পেছনে আসুন।
হ্যালো, আলমা। আমি টম।
সাক্ষাৎ হয়ে ভালো লাগলো, আলমা।
বসে পড়া যাক?
আপনি কী নেবেন?
বোর্দো একদম সেরা হবে।
ম্যাডামের জন্য বোর্দো আনবো?
তোমায় দেখতে ভারি সুন্দরী, আলমা।
তোমার চোখগুলো দুই পাহাড়ে ঘেরা ঝিলের মতো, যেখানে আমি নিজেকে নিমজ্জিত রাখতে পারি।
টম, তাই না?
তুমি প্রশংসা শুনতে পছন্দ করো না?
সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করো?
এমন জায়গাতে খুব একটা এই ধরণের প্রশ্নের চর্চা হয় না।
- তোমার কোনো পছন্দের কবিতা আছে? - আমার বিশেষত রিল্কে'র কবিতা ভালো লাগে।
উদাহরণস্বরূপ, "শরতের দিন"।
ষষ্ঠ ও সপ্তম লাইনে কী লেখা আছে?
"তাদেরকে পরিপক্ক হবার সুযোগ দাও, আর কড়া ওয়াইনের শেষ মিষ্টতাটুকুরও তালাশ করো।"
- কবিতার উপধাস্থিত অক্ষর কী? - E.
- জীবনের অর্থ কী? - পৃথিবীকে একটা সুন্দর জায়গা বানিয়ে তোলা।
৩,৫৪৭-র সাথে ৯৮২ গুণ করে, ৭৩১ দিয়ে ভাগ করলে ফলাফল কত হবে?
৪,৮১৮.৬৫১১৬।
তোমার কাছে সবচেয়ে দুঃখজনক জিনিস'টা কী?
একলা মরা।
নাচবে? রুম্বা!
আমার ধারণা সুযোগটার সদ্ব্যবহার করা উচিত, ড. ফেলজার।
আপনার দারুণ লাগবে।
আমার কোনো ভুল হচ্ছে?
আমি... আমি...
আমি... আমি...
অনুগ্রহ করে এই জটিলতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
তবে আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, এই মডেলের সাথে এমন ঘটনা খুবই দুর্লভ।
লটারি জেতার মতো দুর্লভ।
মানে, সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে বলছি।
আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমাদের প্রযুক্তিবিদরা আগামীকাল রাতের মধ্যে সবকিছু সারিয়ে ফেলবে।
এই অপ্রীতিকর বিলম্বের জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।
সমস্যা নেই।
আপনি ভাবতে পারবেন না ফ্লার্টিং'র পোগ্রামিং করা কতটা জটিল কাজ।
একটা ভুল পদক্ষেপ, একটা ভ্রান্ত কটাক্ষপাত, একটা বাজে মন্তব্য হয়ে গেলেই,
রোম্যান্সের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, ঠিক বললাম তো?
পুরো দৃশ্যকল্প'টা হয়তো একটু ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে,
কিন্তু এই রোমান্টিক সাক্ষাৎ চূড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য আমাদের মূল্যবান নিবেশ জোগাড় করে দেয়।
আর যদিওবা আপনি টমের উপর তিন সপ্তাহ যাবৎ পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালানো দশ বিশেষজ্ঞের একজন,
তবে, প্রথম সাক্ষাতের আবহ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়।
- বড্ড ক্লান্তিকর কাজ। - যতটা ভাবছেন ততটাও নয়।
হোলোগ্রাম।
ওদের সস্তায় পাওয়া যায় আর অনেকক্ষণ নাচতে পারে।
জানি আপনার বিবেচনায় এটা একপ্রকার মানসিক নির্লিপ্ততা,
একজন পরীক্ষকের বিবেচনায় এটাই আসা উচিত,
তবে আমার পরামর্শ হলো এর অভিজ্ঞতা নিতে নিজেকে খোলামেলাভাবে ব্যক্ত করুন।
সুখ দরজায় কড়া নাড়লে, সেটাকে সাদরে গ্রহণ করা উচিত।
কাল একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন।
সবকিছু সারিয়ে ফেলা হবে, আর আপনি টমকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।
আচ্ছা, ধন্যবাদ।
- হ্যালো, হুলিয়ান। - হ্যালো, আলমা।
দুঃখিত, একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম। তোমাদের সেটা না শুনলেও চলবে।
আমায় আবারো একাবার যেতে হবে। ২২০২-র স্ক্যান হয়ে গেছে?
হ্যাঁ, টেবিলে রাখা আছে।
হাতে বেশি সময় নেই। এটাই কিন্তু সর্বশেষ ধাপ।
- কাল দেখা হচ্ছে। - বাই।
তারা আমার পরীক্ষা চালায়, ব্রেন স্ক্যান করে, একের পর এক নিরীক্ষা চালাতে থাকে,
তারপর সেগুলো ১৭ মিলিয়ন লোকেদের থেকে নেয়া তথাকথিত মাইন্ড ফাইলের সাথে যুক্ত করে:
বৈশিষ্ট্য, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি...
এটা বড্ড জটিল, আর ভগবানই জানে এতে কত খরচ হয়।
আর তার ফলাফল কী আসে?
"তোমার চোখগুলো দুই পাহাড়ে ঘেরা ঝিলের মতো, যেখানে আমি নিজেকে নিমজ্জিত রাখতে পারি।"
হয়তো তোমার থেকে তারাই তোমাকে বেশি ভালো চেনে।
আমি একবার এটাকে চেষ্টা করে দেখতে চাইবো।
- তোমার স্বপ্নের নারীকে বানানো হয়েছে? - হ্যাঁ।
তবে ইতোমধ্যে সে আমার ঘরেই আছে। আচ্ছা, হাসিঠাট্টা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসা যাক।
আমাদের নিজস্ব অভিমতের নির্বিশেষে,
একজন নীতিশাস্ত্র কমিটির কর্মকর্তা হিসাবে আমার তোমার কাছ থেকে মূল্যায়ন লাগবে।
- মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট পর্যালোচনা করে ফেলেছি। - আলমা, ব্যাপার হলো কী,
এরা বিবাহ, চাকরিযোগ্য,
পাসপোর্ট দেয়া যাবে কিনা, মানবাধিকার আইন বা আংশিক মানবাধিকার আইন কিংবা...
রগার, আমি...
ওহ, আমি অবগত ছিলাম না...
দুঃখিত। হ্যালো, আলমা।
হ্যালো, হুলিয়ান।
উম, এটা...
তেমন জরুরি কিছু নয়। আমি পরে আসবো।
বেশ, পরে দেখা হবে।
- এটা হুলিয়ান'কে দিলেই তো হয়! - শর্ত অনুযায়ী তাকে সিঙ্গেল হতে হবে।
- আর ফ্র্যাঙ্ক? - আলমা।
সবার কাছেই পরিবার কিংবা সঙ্গী রয়েছে।
তুমি কিন্তু এতে রাজি হয়েছিলে, আর তোমার নিজের, তোমার নিজের স্বপ্নের পুরুষ,
ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। মাত্র তিন সপ্তাহেরই তো ব্যাপার।
তারপর'ই তুমি আর তোমার দল শিকাগোয় গিয়ে সরাসরি শিলালিপিগুলো দেখতে পারবে।
তহবিলের ব্যবস্থা আমি করে দেবো।
না, না, এটাকে ঘুষ ভেবো না।
সামান্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
- বহুদিন কোনো দেখা-সাক্ষাৎ নেই। কোথায় ছিলে বলো তো? - এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।
কোপেনহেগেনের এক সম্মেলনে, মিউজিয়ামে...
- হাই, আলমা! - হাই, রেগিনা।
- হেই, হুলিয়ান। - হেই।
- কেমন আছো? - ঠিকঠাক।
আর তুমি?
চলো পরে কখনো কফি খেতে যাবো, একটু গল্পগুজব হয়ে যাবে।
আমায় যেতে হবে। পরে দেখা হবে।
- কোরা? - না, আলমা।
ওখানে কী করছিস?
রান্নার জিনিসপাতিগুলো রাখছি।
আমার ওসব লাগবে না!
জানি তো, বাবা, ঠিক যেমন তোমার খাওয়া-দাওয়া করার কোনো প্রয়োজনই নেই।
আমায় বাচ্চা ভাবা বন্ধ কর।
কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার। প্রতি বৃহস্পতিবার আমি তোমায় জ্বালাতে আসি।
আহ, আবারো সবকিছু ফেলে সিগারেট নিয়ে বসেছো?
কোরা মারা গেছে?
আমার তো তা মনে হয় না।
তবে ও বৃহস্পতিবার নিকো'কে ফুটবল প্র্যাক্টিস থেকে আনতে যায়।
নিকো মানে ওর ছেলেটা?
হ্যাঁ।
যেটাকে বিচ্ছিরি মার্কা দেখতে।
বাবা!
আজ কোনোভাবেই তুই আমায় বাইরে নিয়ে যেতে পারবি না।
কিন্তু বাইরে'টা আজ রৌদ্রজ্জ্বল।
রৌদ্রজ্জ্বলের গুষ্টি কিলাই।
দেখলে? অতটাও খারাপ লাগছে না।
হ্যাঁ, লাগছে।
- আমি বাড়ি যেতে চাই। - আরেকটু চলো। প্রায় এসেই পড়েছি।
অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন।
ওহ, দুঃখিত।
হ্যালো, আলমা।
আপনি আর আপনার ডিন গোপনীয়তার নিবন্ধে সই করেছিলেন।
জরুরি কোনো প্রয়োজন হলে, যেকোনো সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
অন্যথায়, তিন দিন পর আমাদের সকাল দশটায় দেখা হচ্ছে।
- আর কোনো ব্যাপারে আমার অবগত থাকা উচিত? - আমরা সাধারণত এক-অপরের সাথে একটা অতীত গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
আপনাদের আলাপ হওয়া নিয়ে একটা গল্প বানান।
ভবিষ্যত গড়ে তুলতে, অতীতের প্রয়োজনীয়তা পড়বে।
মানতেই হচ্ছে, আপনার পছন্দ বেশ ভালো।
ধন্যবাদ।
তুমি খুব ভালো।
সিটটা ১৫ সেমি উপরে তুলে,
সামনের দিকে ১২ ডিগ্রী কাত করে, কাঁধটাকে ছড়িয়ে বসলে,
এক্সিডেন্টের সম্ভবনা ২৭ শতাংশ কমে যাবে।
তোমার নিরাপত্তা বাড়াতে সঠিক অনুমান করা সত্ত্বেও,
আমার পরামর্শে ঘোর অপছন্দের ছাপ ফুটে উঠছে।
তাই না?
ব্যর্থ আলাপচারিতা তোমার প্রতি আমার অ্যালগরিদমকে ক্রমাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
হয়তো তোমার অপছন্দের জিনিসগুলো করছি বা বলে ফেলছি,
তবে ধীরে ধীরে এই ধরণের ত্রুটিগুলো কমতে থাকবে।
শীঘ্রই অধিক সাফল্যের হারের সাথে তোমার পছন্দ অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলবো।
শীঘ্রই প্রতিটা নিশানাই একদম লক্ষ্যভেদ করবে।
বেশ, এটা লিভিং রুম,
রান্নাঘর...
ঐ ছবিটা কোথায় তুলেছিলে?
জানি না। এক বন্ধু তুলেছিল।
বিশেষ কোনো বন্ধু?
রঙগুলো পছন্দ হয়েছে।
- তোমার আর কিছু লাগবে? - না। তুমি আসলেই খুব ভালো।
ওহ, ওদিকে বাথরুম রয়েছে, যদি...
আমি দাঁত মাজি আর স্নান করি।
আর এটা তোমার ঘর।
আমরা একই বিছানায় শোবো না?
- বেশ, শুভরাত্রি। - শুভরাত্রি, আলমা।
ইংরেজি বাচনভঙ্গিতে কথা বলো কেন?
তুমি সামান্য বিদেশি বাচনভঙ্গিতে কথা বলা পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হও।
যেটা এখানকার নয়, আবার বিদেশি'ও নয়।
সম্ভবত সেটা ব্রিটিশ।
সুপ্রভাত, আলমা।
ভালো মতো ঘুমিয়েছো?
সবকিছু জায়গমতো গুছিয়ে রেখেছি, যাতে সেগুলোকে সহজেই খুঁজে পাও।
পর্যায়ক্রমে সাজানো রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ...
সমস্যা নেই।
সবকিছুকে তার পূর্বের স্থানে রাখতে ১১ মিনিট লাগবে।
এক সেকেন্ডের মধ্যেই জানালোগুলো আবার নোংরা করে দেবো।
জানালা'টা করতে হবে না।
আমার নাস্তা করার সময় নেই। অফিসের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমি একটা রোমান্টিক প্রাতরাশের প্রত্যাশা করছিলাম।
- একটু গল্পগুজব করা যেতো। - আমি কখনো গল্পগুজব করি না।
সেজন্যই তো তোমায় এত ভালোবাসি।
শোনো, টম।
জানি তোমায় একজন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী হওয়ার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে।
কিন্তু আমার পক্ষে তিন সপ্তাহ এসব সহ্য করা সম্ভব নয়।
এসব একদিনও সহ্য করতে পারবো না। আমি পাগল হয়ে যাবো।
আমি কোনো জীবনসঙ্গী খুঁজছি না।
আমি কেবল তিন সপ্তাহ তোমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে একটা মূল্যায়ন পত্র লিখছি।
আর প্রেম-টেমের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই?
- একদমই নেই। - আর আবেগপ্রবণতায়?
অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠতায়? ঐকান্তিক চোখাচোখিতে?
একদমই নয়।
- পেটে প্রজাপতি ওড়ে না? - না।
- কারো প্রেমে মগ্ন হয়ে, নিজের কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলো না? - একদমই নয়।
এবার আলাদা-আলাদা শোয়ার ব্যাপারটা বুঝতে পারছি।
আমার পরামর্শ হলো তুমি আমায় বিরক্ত করো না, আর আমিও তোমায় করবো না,
আর এই তিন সপ্তাহ আমরা একে অপরের প্রতি একপ্রকার সম্মান বজায় রেখেই কাটিয়ে উঠবো, কেমন?
আমার অ্যালগোরিদম'কে তোমায় খুশি রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
বাহ।
তাহলে তো এটা করতে আর কোনো সমস্যাই দেখছি না।
এতেই আমি বেশি খুশি হবো।
এবার আমায় সত্যিই যেতে হবে।
- আমি তোমার সাথে যাবো? - না।
তোমার সাহায্যে আসতে পারবো।
এটা খুবই নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, এর অধ্যয়ন করতে বছরখানেক লেগে যাবে...
আচ্ছা, হয়তো এটা পড়তে তোমার কয়েক মিলিসেকেন্ডই লাগবে,
কিন্তু বিষয়টা একদম কবিতা আর উপমা নিয়ে...
কী করছি আমি?
বেশ, আমি এখানে থাকতে পারবো।
No comments yet. Be the first to leave one.