De første 200 linjer.
যখন জাদুবিদ্যা ও টোটকা ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার...
তখন বিজয়নগরের রাজা আদিত্য, নিজের মনোরঞ্জনের জন্য এক যাদুকরী বস্তু তৈরি করেন।
এই বস্তুটি তিনি বারবার ব্যবহার করতে থাকেন,
আর ধীরে ধীরে বুঝে যান, এই জিনিসের ক্ষমতা শুধু বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি বুঝতে পারেন, এটা দিয়ে গোটা দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব...
তাই তিনি এর অস্তিত্ব গোপন রাখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।
এই খবর যিনি জানতে পারেন, তিনি আর কেউ নন-স্বয়ং টিপু সুলতান!
বড়সড় সেনাবাহিনী আর ধূর্ত পরিকল্পনার সাহায্যে তিনি আদিত্যকে হারিয়ে দেন...
এবং সেই যাদুবস্তুকে নিজের দখলে নিয়ে নেন।
এরপর বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে টিপু বেরিয়ে পড়েন...
আর সেই যাদুবস্তু হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র।
ঠিক তখনই তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে যান ত্রিভাঙ্কূরের রাজা কার্তিকা তিরুনাল।
মহান যাদুকর কারিঙ্কুট্টির সহায়তায় কার্তিকা তিরুনাল টিপুকে পরাজিত করেন।
টিপুর কাছ থেকে কার্তিকা তিরুনাল সেই যাদুবস্তু নিজের দখলে নেন।
এটার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে...
এবং যাতে কেউ এটাকে ভুলভাবে ব্যবহার না করতে পারে...
তিনি সেটিকে যেখানে যুদ্ধজয় করেছিলেন, সেখানেই এটাকে মাটিচাপা দেন...
এবং তার অবস্থান তালপাতায় লিখে গোপনে রেখে দেন।
সময় গড়িয়ে যায়, আর সেই যাদুবস্তুর কথা হারিয়ে যায় বিস্মৃতির পাতায়।
ইতিহাস পরিণত হয় কল্পকাহিনিতে, যা রাজপরিবারের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে!
তবে বহু প্রজন্ম পর...
অবশেষে কেউ সেই গল্পের আড়ালে থাকা ইতিহাস খুঁজে পায়।
কার্তিকা তিরুনাল যেখানে যুদ্ধজয় করেছিলেন, সে জায়গাতেই সে ফিরে আসে...
সত্য খুঁজে বের করার জন্য।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ~জাহিদ হাসান~
এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন মহারাজা কার্তিকা তিরুনাল রামবর্মা...
টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয়ের স্মরণে।
চিথিরা তিরুনাল না, এটা কার্তিকা তিরুনাল কলেজ।
গতকাল আমাদের বাসায় মেহমান এসেছিলো।
ঠিক আছে, আবার অর্ডার করি... এবার সরাসরি কলেজে পাঠাবেন।
৭বি..
বেচারা!
তুই একটা টাইম মেশিন এনে দিতে পারবি?
কেন?
অনলাইনে একটা টি-শার্ট অর্ডার করেছিলাম।
অর্ডারটা একদিন আগে দিলে গতকালই পৌঁছে যেত।
তা হলে তো "২৪" মুভিতে সুরিয়ার যে ঘড়িটা ছিলো, ঐটা অর্ডার কর!
চুপচাপ বসে আঁকা শুরু কর!
-টাইম মেশিন! মাথা খারাপ! -আরে! আমি সিরিয়াসলি বলছি!
ওহ্, সিরিয়াসলি? তাহলে চল আরেকটা বলি,
তুই সুপারম্যানকে ডাক, সে এসে পৃথিবীর ঘূর্ণন উল্টে দিবে, তখনই টাইম ট্রাভেল হবে!
– আমার কৌতুকগুলো এখন আর হাসায় না বুঝি? – না না, এটা ভালোই ছিল।
এখন ওর মুখ বন্ধ করার জন্য কিছু অর্ডার কর।
– হ্যাঁ, অবশ্যই। – চারটা ক্রিম বান।
আজ তো ক্লাস নেই, ভাইসাবরা। ধর্মঘট।
এটা প্রথম পিরিয়ডের জন্য।
তোমরা তো সবসময় প্রথম পিরিয়ডের পরেই ধর্মঘট ডাকো!
ক্লাস শুরুর আগেই ধর্মঘট ডাকতে পারে না?
একদম!
এটা পিআর-এর কৌশল। তারা চায় ছাত্ররা ক্লাসে যাক।
এই পিআর-এর মাথা ফাটানো দরকার!
দু’বার গ্র্যাজুয়েট হবার মতো বয়স হয়েছে... তাও কলেজে ধর্মঘট ডাকে!
এটা কী?
এটা কী?
ও নাচের প্রতিযোগিতার জন্য NIT-তে ছিল...
দু’সপ্তাহ কথা হয়নি। তাই ওর জন্য ছোট্ট একটা উপহার।
-নকল! -এটা কুকুরের চেন নাকি?
কুকুরের না! এটা সাইকেলের চেন।
এটার মানে কী?
-আমাদের প্রথম দেখার স্মৃতিচিহ্ন। -গুড, গুড!
সাইকেলের চেন আর প্রথম দেখার মাঝে কী সম্পর্ক?
হ্যাঁ, কী সম্পর্ক?
আসলে...
আমরা তখন দশম শ্রেণিতে ছিলাম, ও খুব সুন্দরী ছিলো।
মানে... এখনও সুন্দর আছে।
একদিন টিউশন থেকে ফেরার সময় ওর গায়ে সাইকেল লেগে যায়।
-আরে রে! -তারপর?
তারপর তুই দৌঁড়ে গিয়ে সাহায্য করলি, চোখে চোখ পড়লো, আর তোরা প্রেমে পড়ে গেলি, তাই তো?
না না, ওভাবে না...
যে সাইকেলটা ওকে ধাক্কা দেয়, সেটা আমারটাই ছিলো।
ও তখন হাসপাতালে ভর্তি হয়।
দু’সপ্তাহ ওর নোটস করে দিই, তারপর ধীরে ধীরে প্রেমে পড়ে যাই।
আর এইভাবেই প্রেম শুরু।
হাই।
আজকের মতো খুব হয়েছে, আর নিতে পারছি না।
তোর ক্রিম বান?
ভাই, আমাদেরটা প্যাক করে দে।
আমি ভাবছি ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে একটা "শক্তিমান" মুভি বানাই।
ওটাই আমার ক্যারিয়ার হবে মনে হয়।
তাহলে রোজ রোজ তোদের মুখ আর দেখতে হবে না।
কেমন হবে?
শক্তিমান তো রিটায়ার করেছে ভাই। ও বুড়ো হয়ে গেছে!
-সত্যি? -টোভিনো কেমন হবে?
না রে। "মিন্নাল মুরালি"র পর তো ও সুপারস্টার হয়ে গেছে। আসবে না।
একটু চুপ থাকতে পারবি?
আমাদের বয়সী ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করছে...
-আর আমরা এখানে সুপারহিরো নিয়ে আড্ডা মারছি। -এই শোন!
এই আন্দোলন কেবল কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কিন্তু শক্তিমান? সে তো প্যান ইন্ডিয়ান!
কি হলো? কুকুরের চেন পছন্দ হয়নি?
রামজাদ!
কি হলো? তোদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে?
না, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে হবে।
প্রতিবার যখন আমাদের সম্পর্কে সমস্যা হতো, তুমিই আগে টের পেতে।
-এবার কী হলো? -শোনো...
জীবিকা, আজ তো ধর্মঘট।
আজকেই ট্রফি ট্রিট প্ল্যান করবো নাকি?
ঠিক আছে।
তুমি কিন্তু থাকবে, আবার ফাঁকি দিও না!
- চেষ্টা করবৈ। - চেষ্টা করবে?
- তোমাকে ছাড়া আবার ট্রিট হয় নাকি? - আচ্ছা, আসবো।
কোথায় আসার প্ল্যান?
তোমরা যেখানে চাও।
বেঙ্গালুরুতে যেমন কন্নড় ভাষায় রাস্তা জিজ্ঞেস করেছিলি, এটা কিন্তু সেরকম না।
না না, আমি ঠিক পৌঁছে যাবো।
তুমি চাইলে হলে নিয়ে যেতে পারি।
- একটা বাইকের ব্যবস্থা করেছি। - এই...
আমরা কি একটু আলাদা করে কথা বলতে পারি?
তোর প্রেমিকার সাথে কথা বলার জন্য আমার অনুমতি নিতে হবে নাকি?
দারুণ।
জীবিকা... দেরি কোরো না!
হুম।
এখানে কী হচ্ছে?
দেখো, তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনি বলেই...
তোমার সাথেই একই কলেজে, একই ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছিলাম।
আর তুমি তো জানোই, এর জন্য আমাকে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে।
সেই আমিই যখন তোমাকে দশ দিন দেখিনি, কিছুই অনুভব করিনি।
মানে নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও সমস্যা আছে।
এই!
ও কি...
ও কি অন্য কাউকে পছন্দ করে?
জানি না। কারণটাও ঠিকমতো বলেনি।
সত্যি বলতে...
সম্ভবত তুই-ই কারণ হতে পারিস।
- আমি? - হ্যাঁ, তুই!
ও সবসময় এক্সট্রোভার্ট, মিশুকে।
আর তুই সবসময় চুপচাপ কোনায় বসে থাকিস।
তোদের একে অপরের সঙ্গে মেলে না।
ওটা কারণ না।
ও ওখানে বসে, আমি এখানে বসে থাকি।
- এই দূরত্বটাই আসল সমস্যা। - আরে বাপরে!
শোন, যদি সত্যি ঠিক হতে চাস...
তাহলে ধরে নে, এটা একটা ব্রেকআপ।
ওকে ভুলে যা!
তুই যেভাবে বলছিস, এত সহজ না।
এদিকে তাকা!
তুই তো জলদিই জার্মানি যাচ্ছিস।
তাহলে শুধু শুধু এতো প্যারা নিচ্ছিস কেন?
তাই বলছি, এটা এখানেই শেষ কর।
ঠিক আছে, এখন কী করবো?
একটা আইডিয়া আছে।
হয়তো কাজে লাগতেও পারে।
একটা কাগজ নে।
ওকে নিয়ে তোর যত অনুভুতি আছে, যা খুশি লিখে ফেল।
মন খুলে যা ইচ্ছে লেখ, আবর্জনা হলেও চলবে।
তারপর ওটা পুড়িয়ে ফেল।
সবটা ছাই হয়ে গেলে মনটাও হালকা লাগবে।
- দারুণ আইডিয়া রে! - ধন্যবাদ।
শালা বলিউডের বোকাচোদা আইডিয়া নিয়ে আসছে!!
এই, একটা কাগজ দিবি?
স্যার, আজ তো ধর্মঘট।
ওরা আসুক, ততক্ষণ পড়া চালিয়ে যাই।
ধুর কী নাটক!
স্যারকে সম্মান জানাতেও শেখেনি!
আজ আমরা প্যারাবোলিক নিয়ে শিখবো...
কে ছুঁড়েছে?
এই, কে ছুঁড়েছে এটা?
স্যারের সাথে এভাবে রাস্তাঘাটের ভাষায় কথা বলছো কেন?
- এটার দরকার ছিলো? - লেখ, সমস্যা নেই।
আমাকে নিয়ে এমন ঠাট্টা করার সাহস কী করে হলো?
এটা কী?
- কিছু না, স্যার... - কিছু না?
তোমাদের বেয়াদবি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে!
ক্লাস চলছে, আর তোমরা সামনের বেঞ্চে বসে কী করছো?
- স্যার, খুব জরুরি ছিলো। - কী এমন জরুরি?
স্যার, ওর নতুন কার্টুন হয়তো রিলিজ হয়েছে।
কে ওই মন্তব্য করল?
এই!
এই চিঠিটা পড়ার পর তোমাকে দেখছি।
প্রিয় সহপাঠীরা...
- জানো কলেজে কী হচ্ছে? - এই! এই!
- আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, দেখোনি? - স্যার, ধর্মঘট চলছে।
তাই বলে ভদ্রতা থাকবে না?
স্যার, দয়া করে ঝামেলা করবেন না।
এখানে কিছু বলতে হলে, আগে আমার অনুমতি নিয়ে বলতে হবে, বুঝেছো?
এই ভদ্রতার ফলেই আজ ছাত্ররা ভুগছে।
স্যার, এই আন্দোলন হচ্ছে সেই এইচওডির যোগ্যতা নিয়ে, যাকে আপনারা খুব ভদ্রভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারো না?
স্যার, যদি বউয়ের সাথে রাগ থেকে থাকে, সেটা আমাদের ওপর ঝাড়বেন না।
এই ব্যাটা! ক্লাস থেকে বেরো!
স্যার, গায়ে হাত দেবেন না!!
সরে দাঁড়ান!
কী হয়েছে?
- শাজি স্যার আর প্রবীনের ঝগড়া লেগেছে। - ঝগড়া?
হ্যালো! হ্যালো!
তুমি প্রফেসর হয়েছো বলেই যা খুশি বলবে?
- দেখি তো, সরো! - ছেড়ে দিন!
সরে যাও! সরে যাও!
কি ব্যাপার?
আমরা ধর্মঘটের জন্য এসেছিলাম, উনি...
স্যার, ওদের ধর্মঘট করতে দিন।
কিন্তু সেটা যেন ক্লাসে গোলমাল না করে করে।
স্যার, ওরা সবসময় আমাদের কথা শুনবে, এটা কীভাবে আশা করতে পারি?
ওরা সমাজে পা রাখলে আরো বদমাশ হবে!
স্যার, ছাত্ররা প্রতিক্রিয়া দেখাবেই। ভুল কিছু দেখলে সেটা জানাক।
ভবিষ্যতেও, সমাজে গিয়ে ওদের ঠিক এভাবেই রুখে দাঁড়াতে হবে।
তুমি এগিয়ে যাও।
সমস্যাটা এখন তোমাদের বিভাগীয় প্রধানকে নিয়ে।
যিনি কিনা তোমাদের সার্টিফিকেটে সই করবেন।
তাই বয়কটের জন্য প্রথমে তোমাদেরই এগিয়ে আসা উচিত।
No comments yet. Be the first to leave one.