Prvních 200 řádků.
অনুবাদে- সোহাগ চৌধুরী
১৮৪৯ সালের ৭ই অক্টোবর ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোরে একটা পার্কের বেঞ্চে এডগার এলান পোকে প্রায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়. তার জীবনের শেষ দিনগুলি এখনো রহস্যময়.
অনুবাদে- সোহাগ চৌধুরী.
আমাদের বাঁচাও!
চল্!
- চতুর্থ তলায়, - উপর তলায়. - জ্বী স্যার.
আসো.
না!
আমার মেয়েকে না! দয়া করো!
রাস্তা দিন.
এখানে থাক. আসো.
ও'কে না!
- ভেঙ্গে ফেল. - জ্বী স্যার.
বাল্টিমোর পুলিশ!
একটা লন্ঠন দাও.
ওহ, না.
- কেউ তো নেই. - এতো অসম্ভব.
দরজায় তালা লাগানোর শব্দ শুনেছি.
ধ্যাত, জানালা!
পেরেক মেরে লাগানো.
হায় খোদা.
কর্ডাটা পর্ব (প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস)...
ভার্টিব্রাটা(মেরুদন্ডী) উপপর্ব
বেড়ালজাতি...
খোদা পরিচালিত প্রকৃতির নিয়ম, মানবজাতির নয়.
সবাইকে আবার দেখতে পেয়ে দারুন লাগছে.
হ্যালো রিগ্যান. আমাকে মিস করেছ নাকি?
বাল্টিমোরে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে,
কিন্তু সত্যি বলতে, আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছে.
যাইহোক, কথিত আছে, ব্র্যান্ডি যা সারাতে পারেনা তার কোনো চিকিৎসাই নেই.
তো, পুরনো বন্ধুকে গলা ভেজাবার জন্য কি দেয়া যায় বলো তো?
বুঝলাম না. কী বললে?
কিছু না.
মনে হয়,তোমার ব্র্যান্ডি ফুরিয়ে গেছে?
- আমাদের কাছে অনেক বোতল ব্র্যান্ডি আছে. -তাহলে আর্থিক সমস্যা.
পো, কিছু মনে করো না, অনেক দিন হয়ে গেল তোমাকে দেখা যায়নি.
আগেরবার এখানে থাকার সময় কি বিচ্ছিরি কান্ডকারখানাই না হলো.
মাত্র কয়েক দিন হলো শহরে এসেছি, কিন্তু দুঃখের বিষয়,
মনে হচ্ছে , যা পয়সা ছিল খরচ করে ফেলেছি.
ঠিক আছে, ঠিক আছে. টাকাই যদি সব হয়...
নিজের সম্মানটা নষ্ট করো না.
টাকাই সব.
আমার পাশের এই নাবিককেও এক রাউন্ড দিও.
ক্রাইস্ট ভাই, আবার কি?
এগুলো দিয়ে শুধু আগের বাকী পরিশোধ হবে.
তুমি কি সত্যিই এতটা নির্দয় হবে?
"প্যাট্রিয়ট" কাল একটা রিভিউ প্রকাশ করবে. কাল ভোরে সবাইকে চমকে দেব.
পত্রিকাটা যদি তোমার কোনো লেখা ছাপে,
কাল চলে এসো, আমার টাকায় এক রাউন্ড খাওয়াব.
কাল? কাল আমি মারা যেতে পারি.
অথবা তুমি মারা যেতে পারো.
- ঝুকিটা আমি নেব. - কিভাবে?
আমি তাকে একটা ড্রিংক খাওয়াব যে, আমাকে বা আমার
কোনো কবিতা চিনতে পারবে.
মাথার ঘিলু বের করার আগে এখান থেকে বিদেয় হও.
আমার মাথার ঘিলু আগেই বের হয়ে গেছে, বুইড়া গাধা কোথাকার.
তাই, আমাকে সম্মান দেখাও নয়তো শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেব.
আমি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একজন কবি.
এজন্যই পকেটে টাকা থাকে না.
- আমি পো. - সেটাইতো বললাম.
গরিব না হাঁদারাম! আমি পো!
পো!এডগার এলান পো! কিছু মনে পড়েছে?!
না.
এ রুমের যে লোক এই লাইনটা শেষ করতে পারবে সে একটা ড্রিংক পাবে!
"র্যাভেনের উক্তি..."
- চুপ যা! - আইপি ডেইলির লেখা!
আবারো বলছি: "র্যাভেনের উক্তি"!
- "ভবিষ্যতে আর নয়!" - হা! হা!
খুবই জনপ্রিয় একটা কবিতা.
ফ্রান্স দীর্ঘজীবি হোক!
মফিজের দল!
ফিলিস্তিন!
একটা খাঁটি আমেরিকান সাহিত্য কন্ঠ চিনতে পারবে না
যদি সেটা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দাও.
সবাই জানে ভাঙ্গা আঙ্গুল দিয়ে দাঁত খিলাল করলে ব্যথা লাগে.
এই তোর চিন্তাশক্তির ক্ষমতা, শালা মানসিক রোগী?
অভিশাপ দিচ্ছি সারা জীবন তুই সীমাহীন নরক যন্ত্রনায় ভুগবি.
এক চামচ লাই* পড়ে তোর চোখ গলে যাবে! (* একধরনের ক্ষার )
কামারের বেড়ি দিয়ে, গলা থেকে তোর জিভ টেনে বের করা হবে!
পশ্চাৎদিক দিয়ে ফুটন্ত আলকাতরা ঢুকবে! বিচি দিয়ে কাবাব বানানো হবে!
দূর হ, শালা ফালতু কোথাকার!
সাবধানে.
নামিয়ে দাও .
এতো একটা বাচ্ছা মেয়ে.
কি ধরনের দানব এমনটা করতে পারে?
ক্যাথেরিন ল্যাফোর্ট, বয়স ৩৬.
তার মেয়ে এনা, বয়স ১২.
একে গলা টিপে মারা হয়েছে.
বয়স তো একেবারে কম.
লোকটা বিশাল ছিল.
মুষ্টির বিস্তার দেখে মনে হচ্ছে বুড়ো আঙ্গুল থেকে কনিষ্ট আঙ্গুলের দৈর্ঘ্য আট ইঞ্চির বেশি হবে.
বলছেন ভেতর থেকে কেউ দরজা লক করেছিল?
অবশ্যই. পৌছানোর পর আমরা দরজায় তালা লাগানোর শব্দ শুনেছি.
আর দরজা ভেঙ্গে দেখলেন, খুনি পালিয়ে গেছে.
একটা চিহ্ন পর্যন্ত নেই.
যখন রুমে ঢুকেছিলেন জানালা বন্ধ ছিল?
বন্ধই ছিল না, পেরেক মেরে লাগানো ছিল.
বলুন তো, একটা বিশাল লোক কিভাবে নিমিষেই একটা রুম থেকে পালিয়ে গেল
যেটার দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল...
আর জানালা পেরেক দিয়ে আটকানো ছিল?
ঠিক জানি না ইন্সপেক্টের, কিন্তু মেয়র এবার সমাধান চান.
প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাশা করুন
এই বাড়িতে যারা আসা-যাওয়া করেছে তাদের একটা তালিকা লাগবে.
জ্বী স্যার.
একটা তালা...ট্রিগারে স্প্রিং লাগানো থাকে .
কিন্তু আঙ্গুল...
মাঝখানের শ্যাফটটা কেটে ফেলুন.
আমি দশবার জানালাটা চেক করেছি, কোনো স্প্রিং খুঁজে পাইনি..
এটাও পাব বলে আশা করিনি...
কি হয়েছে?
অপরাধের ধরনটা পরিচিত লাগছে.
চল ম্যারে ঘোড়া!
আবার না, মি. পো.
ক্রাইস্ট.
সুপ্রভাত, পার্সি.
বরং উল্টোটা ক্যাপটেন হ্যামিল্টন, টাকা চাওয়ার...
... কোনো ইচ্ছে আমার নেই.
কি চাও, পো?
তোমার মেয়েকে নিতে শহরে এসেছি.
- আমার মরা লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে. - আর কোন পথ নেই?
পো, প্লিজ.
জানো, তোমার কয়েকটা বাজে গল্পে তোমাকে বিদ্রোহ করতে দেখেছি.
কয়েকটাতে, সবগুলোতে না.
তোমাকে আজ দারুন লাগছে.
পো,গুলি করার আগেই বেরিয়ে যাও.
আমার রক্ত আর মগজ দিয়ে, তোমার মেয়ের চমৎকার সিল্ক ড্রেস নষ্ট করার ঝুকি নেবে?
- বের হও. - কস্টিউম বলের নিমন্ত্রনের ব্যাপারটা কি ...
কোনো ভাবেই বিবেচনা করা যায় না?
- বাবা, এরকম করোনা. - সরি, চার্লস.
-ট্র্যাকে দেখা হবে. - দেখা হবে, এডগার.
চল চল!
আরেকটা ঘৃণ্য পাশবিকতা.
প্লিজ ! দয়া করো!
আমার সন্তান আছে!
এসব কেন করছ? কেন?!
আমি সাধারণ একজন সমালোচক!
সুপ্রভাত. "বাল্টিমোর প্যাট্রিয়ট."
মি. পো! আপনার কাপড়.
নিন্দুকদের সাথে লড়াই হয়েছে.
সহনশীলতা, আইভান, সহনশীলতা.
মনে হয়, এর থেকে বেশি কিছু লাগবে, মি. পো.
- কেন? - এটা অপরাধ, মারাত্বক অপরাধ.
ছাড়ো এসব. কী হয়েছে?
চর্বির বস্তা সম্পাদক আবার আমার রিভিউ বদলেছে?
তাকে মানা করেছিলাম. আমি বলেছিলাম,মি. পো.
আমার রিভিউ কোথায়? কোথায় ওটা ?
ও কি করেছে?
বলেছে লেআউটে জায়গা ছিল না.
জায়গা ছিল না? জায়গা ছিল না?
বলো তো, কোন বালটা ওর কাছে আমারটা থেকে যোগ্য মনে হয়েছিল?
লংফ্যালো!
লংফ্যালো?!
লংফ্যালো!
কোথায় এটা?
- কি কোথায়? - ময়লার ঝুড়ি.
যেটাতে দুনিয়ার সব বস্তা পঁচা, গাঁঞ্জা মার্কা খবরের কাগজ ফেলা হয়!
মারহাবা, এডি.
মহান পো'র মুখ থেকে কি অসাধারন কথার তুবড়ি শুনা গেল.
আমার রিভিউ ছাপাওনি, কিন্তু
লংফ্যালোর বস্তাপঁচা কবিতা ছাপিয়েছ!
- মানুষ লংফ্যালোকে পছন্দ করে. - তোমার মতো সম্পাদকরাই এসব বলবে.
তোমার কি মন বলে কিছু নেই, হ্যানরি?
তোমার কাছে পাঠকদের জন্য শৈল্পিক প্রাচুর্যতার কোনো মানে-ই নেই?
শৈল্পিক প্রাচুর্যতা?
অন্যের লেখার সমালোচনা ছাড়া কিছু করতে পারো না আর এখন
আমার অফিসে এসে কথার তুবড়ি ছুড়ছো, তর্ক করছো!
কথাটা ঠিক না. মোটেই না.
তুমি এমারসনকে একজন "শোকার্ত, চরিত্রহীন বেশ্যা সাহিত্যিক" বলেছ.
কারণ ও ঠিক তাই.
সততা কি এখন দোষ, নাকি তুমি বাতিল মাল,
চামচা, চর্বির বস্তা, সস্তা গল্প লেখক গ্রিজউল্ডকে পছন্দ করো?
- তোমার গল্প অতো উঁচু মানের নয়. - ও একটা ঘিলুওয়ালা ফালতু লোক.
একটা ভাঁড়, আর এজন্যই ওর সাথে তোমার এতো খাতির.
তুমি নিজেই জানো না কি বলছো.
আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি.
তাহলে আরেকটা "Tell-Tale Heart" লেখার চেষ্টা করো.
মানুষ রক্ত ভালোবাসে. মৃত্যু ভালোবাসে.
যদি আমি "Tell-Tale Heart" অথবা "Pit and the Pendulum" দিয়ে আলোড়ন তুলতে না পারি,
নিজেকে সম্পূর্নরুপে শয়তানের কাছে সঁপে দেব.
আমার রিভিউ ছাপতেই হবে. আমি শেষ.
আমার গল্প দরকার. যেসব গল্প মানুষ গোগ্রাসে গিলবে.
কিচ্ছু বাকি রাখিনি.
সবধরনের কৌশল কাজে লাগিয়েছি.
মদ খাওয়া ছাড়ো.ওসব তোমার মগজ শেষ করে দিচ্ছে.
শুধু বিভিন্ন উপলক্ষে ড্রিংক করি,
সামাজিকতা রক্ষার জন্য, ভীরুতা লুকানোর জন্য.
শুধুমাত্র ওষুদ হিসেবে সামান্য পরিমাণে পান করি.
এক অনাথের হতাশা লাগবের সামান্য এক উপশমকারী ঔষুদ.
-এমন কিছু লিখ যা আমি বিক্রি করতে পারি. - তুমি আস্ত একটা বজ্জাত, হ্যানরি.
এসব কেন করছ?! কেন?!
আমি কি করেছি?!
প্লিজ!
না!
কি করবে কার্ল ভাব, এটা মানুষের হৃৎপিন্ড.
এই ছোট চ্যাম্বার,
একটু ফাঁকা জায়া, যেখানে তরলের সাথে গ্যাসের মিলন ঘটে
আর মানবজাতির সব রহস্য লুকািয়ত হয়ে আছে.
আরেকটা "Tell-Tale Heart" লিখ.
নিজেকে অনেক চালাক ভাবো, তাই না?
মিস হ্যামিল্টন.
No comments yet. Be the first to leave one.