Prvních 200 řádků.
প্রমিথিয়াস আগুন চুরি করে এনে দিয়েছিল মানুষের হাতে
ফলস্বরূপ, তাকে পাথরের সাথে বেঁধে অত্যাচার করা হয়েছিল অনন্তকাল ধরে
ড. ওপেনহাইমার?
ড. ওপেনহাইমার?
শুরু করার আগে, আপনার কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।
জ্বী, মহামান্য।
- আমরা কেউ বিচারক নই, ডক্টর। - ওহ।
বুঝতে পেরেছি।
সিকিউরিটি বোর্ডের সদস্যগণ,
আপনারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা বেশ মানহানিকর।
বিশেষ করে আমার ক্যারিয়ার এবং জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিচার হতে কতদিন লেগেছিল?
সত্যি বলতে, আমার মনে নেই।
শুনানি শেষ হতেই ১ মাস লেগেছিল।
ওরে বাবা!
আমি পরে লিখিত বক্তব্য পড়েছিলাম।
- তার পুরোটা জীবনের আমলনামা। - শুনানিতে আপনি ছিলেন?
চেয়ারম্যান হওয়ায় অনুমতি পাইনি।
তারা এই বিষয়ে প্রশ্ন করবে নাকি?
- কয়েকবছর আগের কথা তো। - চার বছর...
পাঁচ।
ওপেনহাইমার ইস্যুতে এখনও সবাই একমত না। তারা আপনার অবস্থান তো জানতে চাইবে।
ভয় পাবেন না, এখানে কিন্তু আপনার বিচার হচ্ছে না।
তুমি বলার পরে কিন্তু আসলেই ভয় হচ্ছে।
- মি. স্ট্রস... - অ্যাডমিরাল।
অ্যাডমিরাল স্ট্রস, এটা জাস্ট ফর্মালিটি। প্রেসিডেন্ট চায়, আপনি তার ক্যবিনেটে আসুন।
এতে সেনেটও রাজি।
ওখানে যদি ওপেনহাইমারের কথা ওঠে?
সেক্ষেত্রে আপনি সত্য বলবেন। অন্তত, আপনার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না।
তা নাহলে তো ঝামেলা হবে।
পুরো জীবনের আমলনামা কে দেখতে চাইবে?
আমেরিকা ছেড়ে বাইরে গেছিলেন কেন?
মডার্ন ফিজিক্স শেখার জন্য।
সেগুলো কি এখানে শেখা যেত না?
আমি তো ভাবতাম, বার্কলের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ বিশ্বসেরা।
হ্যাঁ। ঐ বিভাগকে আমিই এ পর্যায়ে এনেছি।
কিন্তু, তার আগে আমি ক্যামব্রিজে পড়েছি, প্রোফেসর প্যাট্রিক ব্ল্যাকেটের কাছে।
ওখানে কি আপনার ভালো লাগত?
- ভালো লাগত কিনা? - হুম।
না... একটুও না।
সেসময় দেশের কথা অনেক মনে পড়ত।
সেইসাথে মানুষিকভাবেও বেশ দুর্বল ছিলাম।
তখন প্রায়ই মাথার মধ্যে অজানা এক মহাবিশ্ব তাড়া করে বেড়াত।
আমি ল্যাব ওয়ার্কে ছিলাম জিরো।
ধুরো, ওপেনহাইমার!
রাতে ঘুম পড়নি তুমি?
আবার শুরু কর।
আমি লেকচার শুনতে যাব, স্যার।
কেন?
নীলস বোরের লেকচার।
আরে, আমি একদম ভুলেই গেছিলাম।
আচ্ছা, দ্রুত চলো।
তুমি যাবে না, ওপেনহাইমার। আগে হাতের কাজ শেষ কর।
কোয়ান্টাম ফিজিক্স সিড়ির উপরের ধাপ নয়।
বরং এটি প্রকৃতিকে বোঝার ভিন্ন এক রাস্তা।
এ রাস্তার সুচনা আইনস্টাইনের হাতে, যে রাস্তা ধরে এখন হাঁটছি আমরা...
আর খুঁজে চলেছি ক্ষুদ্র আরেক জগত।
যে জগত ব্যাখ্যা করে শক্তি আর ছড়িয়ে দেয় বিভ্রান্তি, অনেকটা রুপকথার মতন।
তুমি ঠিক আছ তো?
নীলস, এই হচ্ছে জে. রবার্ট ওপেনহাইমার।
- জে. এর মানে? - বিশেষ কিছু না।
তুমিই তো সেই ছেলে। তোমার প্রশ্নটা অসাধারণ ছিল।
ও বোঝে খুবই ভালো। সমস্যা শুধু ল্যাব ওয়ার্কে।
- হার্ভার্ডের একই লেকচার... - হ্যাঁ, এখানেও দিয়েছি...
আর তুমিও একই প্রশ্ন আবার করেছ। কেন?
আগের উত্তরটা ভালো লাগেনি তাই।
- গতকালকের উত্তরটা কেমন ছিল? - অনেক ভালো!
"মানুষ ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা না ভেবেই অনেক কিছু করে বসে।"
কিন্তু, তোমাকে বেশ সতর্ক মনে হচ্ছে।
তবে ল্যাব ওয়ার্কে কাঁচা তুমি?
তাহলে এখানে বসে না থেকে এমন কোথাও যাও যেখানে চিন্তা করার সুযোগ পাবে।
কোথায় যাবে?
গটিঙ্গেনে যাও।
-বর্ন? -বর্ন।
জার্মানিতে যেয়ে ম্যাক্স বর্নের কাছে পড়। থিওরিগুলো ভালোভাবে ক্লিয়ার কর।
ম্যাক্সকে আমি জানিয়ে দেব।
এতে পোকা আছে।
- ম্যাথ কেমন পার? - ফিজিক্স যতটা ভালোবাসে, ততটা না।
অ্যালজেব্রা হচ্ছে শীট মিউজিকের মতন। এখানে গানের কথা "পড়াটা" গুরুত্ত্বপূর্ণ না।
গান শুনতে পারাটাই মুল কথা। তুমি কি সেই গান শুনতে পাচ্ছ, রবার্ট?
হুম, শুনতে পাচ্ছি।
এবার কথা বলবেন ওয়াইওমিং থেকে আসা সেনেটর।
অ্যাডমিরাল স্ট্রস,
আপনার সাথে ড. ওপেনহাইমারের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাই আমি।
আপনার সাথে তার সাক্ষাত হয় ১৯৪৭ সালে, তাই না?
হ্যাঁ।
অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের কমিশনার ছিলেন আপনি?
হ্যাঁ, তবে রবার্টের সাথে যখন পরিচয় হয় তখন আমি বোর্ড মেম্বার ছিলাম...
প্রিন্সটনের ইন্সটিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের।
যুদ্ধ শেষে, বিজ্ঞান মহলে সে যখন রীতিমত হিরো বনে গেল, তখন আমি...
এই ইন্সটিটিউটের দায়িত্ব তার হাতে দিতে চাচ্ছিলাম।
ড. অপেনহাইমার। দেখা হয়ে ভালো লাগছে।
মি. স্ট্রাউস।
আসলে উচ্চারন হবে, "স্ট্রস"।
আমাকে "অপেন" বা "ওপেন" যেভাবেই ডাকেন না কেন, আমি কিন্তু ভাই ইহুদী।
ওহ, আমি কিন্তু ইম্যানুয়েল গির্জার দায়িত্বে আছি।
আর "স্ট্রাউস" আসলে দক্ষিনের লোকেদের উচ্চারণ।
যাইহোক, ইন্সটিটিউটে আপনাকে স্বাগতম। আশা করি, জায়গাটা আপনার পছন্দ হবে।
আর আপনার ঘরটাও বেশ কাছে।
ঐ যে আপনাদের ঘর। আপনি, আপনার স্ত্রী আর আপনার, দুই সন্তান তো তাই না...?
হুম, দুটো।
আমি কিন্তু আপনার কাজের বিশাল ভক্ত।
আপনি কি ফিজিসিস্ট, মি. স্ট্রস?
সরি, ৪ টার সময় এখানে চা দেয়া হয়। নাহ, আমি কোনো বিজ্ঞানী না বরং পোড় খাওয়া মানুষ।
- ওহ, বুঝতে পেরেছি। - কীভাবে?
আমার বাবাও একই দলের সদস্য ছিলেন।
এই হচ্ছে আপনার অফিস।
শুনেছি, প্রায় প্রতি বিকেলেই সে এখানে আসে।
আচ্ছা, আপনি তাকে কখনও ম্যানহাটান প্রোজেক্টে যুক্ত করেননি কেন?
"আমাদের সময়ের" সেরা জিনিয়াস উনি।
না, "তার সময়ের"।
তিনি থিওরি অফ রিলেটিভিটি প্রকাশ করেন প্রায়...
৪০ বছর আগে।
কিন্তু, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সূচনা করে নিজেই তা অস্বীকার করেন।
"ঈশ্বর কখনও পাশা খেলে না"
এটা তার নিজস্ব বিশ্বাস।
ফিজিক্স পড়তে চেয়েছেন কখনো?
সুযোগ ছিল, তবে জুতা বিক্রি করা বেশি লাভজনক।
লুইস স্ট্রস তাহলে অতি বিনয়ী এক জুতা বিক্রেতা ছিল।
না, শুধু জুতা বিক্রেতা ছিলাম।
- তার সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেব? - দরকার নেই।
তাকে আমি বহুত কাল ধরে চিনি।
অ্যালবার্ট।
কী হলো? উনাকে কিছু বলেছেন আপনি?
না, সে ঠিক আছে।
মি. স্ট্রস, আপনি সম্ভবত আমার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে অবগত।
AEC এর চেয়ারম্যান হওয়ায়, আপনার সিকিউরিটি ফাইল পড়েছি আমি।
- আপনার চিন্তা হচ্ছে না? - না তো।
এখানে চিন্তার কী আছে, আপনি তো দেশের জন্য কাজ করেছেন।
তবে সময় কিন্তু বদলে যায়।
শুনুন, এই ইন্সটিটিউশনের কাজ হচ্ছে মুক্তমনা মানুষদের জন্য চিন্তার পরিবেশ তৈরি করা।
আর আপনি তো এ কাজে সিদ্ধহস্ত।
তাহলে তো দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। আচ্ছা, কালকের মিটিঙে দেখা হবে।
দেশের অন্যতম ঈর্ষণীয় চাকরি এটা।
হ্যাঁ, সেইসাথে থাকার জায়গাটাও বেশ কাছেই। এ জন্যই চাকরিটা করব আমি।
তাহলে, ড. ওপেনহাইমারকে নিয়োগ দেয়ার আগে, সে তার অতীতের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিল আপনাকে?
হ্যাঁ।
তাকে আপনার সন্দেহ হয়নি?
আমি ভাবছিলাম, উনি আইনস্টাইনকে এমন কি বলল...
যে আমার উপর রাগ করে চলে গেল।
পরে কখনো?
পরের ঘটনা তো আপনারা সবাই জানেন।
ডক্টর, ইউরোপে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের সাথে আপনার সাক্ষাত হত।
হ্যাঁ, তা হত।
এদের মধ্যে কেই কি রাশান ছিল?
তেমন কারো কথা মনে পড়ছে না।
আমাকে যদি ধাপে ধাপে সব বলতে দিতেন...
মি. রব, ক্রস এক্সামিন পরেও করতে পারবেন।
গটিঙ্গেনের পাঠ চুকিয়ে আমি গেলাম লাইডেনে। যেখানে আমার পরিচয় হয় ইসিডোর রাবির সাথে।
দেখি, একটু যেতে দিন।
এই ছোকরা দিবে ফিজিক্সের উপর লেকচার? আর আমরা তা শুনব।
ভাই, আমি কিন্তু আমেরিকান।
অদ্ভুত তো।
ইংরেজি বুঝতে অসুবিধা হলে আমাকে জানিও।
আরে, ও বলছেটা কী?
না, ধন্যবাদ।
জুরিখ কিন্তু বেশ দূরে। এত সময় না খেয়ে থাকলে শরীর খারাপ করবে তো।
আমি রাবি।
আমি ওপেনহাইমার।
মলিকিউলসের উপর তোমার লেকচারটা শুনলাম।
অল্প একটু বুঝেছি।
নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা হয়ে ডাচ জানো কীভাবে?
এখানে আসার পরেই শিখেছি।
ছয় সপ্তাহে ডাচ শিখে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের উপর লেকচার দিচ্ছ?
একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম আরকি।
কোয়ান্টাম ফিজিক্স কি তবে কম চ্যালেঞ্জিং?
এটা আসলে লোক দেখানো।
ডাচ শিখতে পার, কিন্তু ইডিশ পারো না!
আমার এলাকায় কেউ ইডিশে কথা বলে না।
ধুরো মিয়া।
- দেশের কথা মনে পড়ে? - অনেক বেশি।
খেয়াল করেছ, ওরা আমাদেরকে ঠিক ভালো চোখে দেখে না?
মানে পদার্থবিজ্ঞানীদের?
- মজা করতেছ? - ডিপার্টমেন্ট স্বাভাবিক।
আমি ইহুদীদের কথা বলছি।
এটা খাও।
এক জার্মানের সাথে তোমার দেখা করতে হবে।
হাইজেনবার্গ।
কেউ হয়ত ভাবতে পারে...
কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডের পেছনে স্বাভাবিক একটি জগত আছে...
যেখানে হয়ত কার্যকারনের ব্যাখ্যা আছে।
কিন্তু, এর পক্ষে এখনও কোনো প্রমাণ নেই।
ধন্যবাদ। সবার জন্য শুভকামনা।
- অসাধারণ। - ধন্যবাদ।
ড. ওপেনহাইমার।
আপনি তাহলে ওপেনহাইমার। আপনার মলিকিউলসের পেপারটা অসাধারণ হয়েছে।
- ওটা আপনার কাজ থেকে অনুপ্রাণিত। - তাহলে আসুন একসাথে পেপার লিখি।
- আমাকে আমেরিকায় যেতে হবে। - কেন?
ওখানে তো কেউ কোয়ান্টাম মেকানিক্স বুঝে না।
এ জন্যই যেতে চাচ্ছি।
ও ম্যানহাটানে ফেরত যাওয়ার জন্য মরিয়া।
আসলে, নিউ মেক্সিকো।
আপনি নিউ মেক্সিকো থেকে?
না, নিউ ইয়র্ক থেকে। তবে, নিউ মেক্সিকোতে আমাদের দুই ভাইয়ের বাড়ি আছে।
বাড়িটাকে বড্ড মিস করছি।
তাহলে দেশে ফিরে যান, রাখাল বালকেরা।
সে রাখাল হতে পারে, আমি না। আমার সাথে ঘোড়া যায় না।
দেখা হয়ে ভালো লাগল।
- হাইজেনবার্গের সাথে পরে আবার দেখা হয়েছিল? - সামনাসামনি আর হয়নি। তবে...
বলতে পারেন, জীবনের সন্ধিক্ষণে আমরা আবার মুখোমুখি হয়েছিলাম।
No comments yet. Be the first to leave one.