প্রথম 200টি লাইন।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳
প্রতিটা চুতিয়ার জীবনে এমন দিন আসে,
যখন সে তার কৃতকর্ম উপলব্ধি করতে পারে!
আমারও এমন দিন এসেছে!
যদি রেশমা জীবনে না আসতো,
তাহলে কখনোই বুঝতে পারতাম না..
যে আমি যেই গর্তে পা নোংরা করেছি,
সেই গর্ত নিজেই খুঁড়েছি!
চুতিয়া!
এখনো তেমন দেরি হয়নি!
রেশমা আমাকে বলেছিলো...
জীবন সবাইকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়।
হয়তো আমাকেও সুযোগ দিবে!
যাইহোক, অনেক বোকামি করেছি...
এখন সবকিছু ঠিক করার সময় এসেছে।
হয়তো...
ইন্দোরি ইশক এপিসোড–০৫ ❝ Rebound ❞
হেই, কুনাল!
হেই, কুনা...
আরে শালা!
মামা, তোকে দারুণ সুন্দর লাগছে!
তোকে ততোটা খারাপ দেখাচ্ছে না!
শালা চুতিয়া!
দেখ, তোর জন্য কাপড় এনেছি।
- তাকিয়ে থাকিস না তো.. - হেই!
আরে শালা! কবে থেকে দেশি মদ খাওয়া শুরু করেছিস?
এতো রাতে আবার বাবা ফোন করেছে!
হ্যালো, বাবা!
তোর মা বলছি, বাবা নয়।
হ্যালো, মা! এখনো ঘুমাওনি?
আমরা এখনই শুতে যাচ্ছিলাম...
তোকে মিস করছিলাম বলে ফোন করেছি।
কুনাল, আজ তোর পছন্দের ডালপুরি বানিয়েছিলাম।
তোকে সবাই বড্ড মিস করছে।
তুই ঠিক আছিস, বাবা?
হ্যাঁ, মা! আমি ঠিক আছি।
আমার আর কী হবে?
দাঁড়া, বাবার সাথে কথা বল।
হ্যালো, বাবা...তোর একাউন্টে ১ লাখ ২০,০০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।
কেন?
কেন মানে?
কলেজ থেকে নোটিশ দিয়েছে, দেখিসনি?
কলেজ আর হোস্টেলের বেতন দিতে হবে না?
হ্যাঁ, বাবা... দুঃখিত, ভুলে গেছিলাম!
তোকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, তুই শুধুমাত্র মন দিয়ে পড়াশোনা কর।
তোকে সফল মার্চেন্ট নেভি অফিসার হতে হবে!
জি, বাবা!
তুই এখন বাইরে না-কি?
কলেজ শেষে কোথাও যাচ্ছিস?
হ্যাঁ, বাবা...আজ প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ছিলো।
মাত্রই শেষ হলো, তাই দেরি হয়ে গেছে.. এখন হোস্টেলে ফিরে যাচ্ছি।
তোর কি কলেজে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হয়না?
না, মার্চেন্ট নেভি কোর্স তো তাই...
জাহাজে আমাদের সমুদ্রে যেতে হয়।
ওহ, তোকে সমুদ্রে যেতে হয়! বাহ!
আচ্ছা, মন দিয়ে পড়াশোনা কর।
আচ্ছা, বাবা! মন দিয়ে পড়াশোনা করবো।
কাল ফোন করবো, ঠিক আছে?
- আচ্ছা, বাবা! তোকে নিয়ে আমি গর্বিত! - বাই!
শুভরাত্রি!
বাল! সমস্যায় পড়ে গেছি, ভাই!
কলেজের বেতন দেওয়ার জন্য বাবা-মা কষ্টার্জিত অর্থ পাঠায়...
আর আমি কি-না মদ খেয়ে টাকা নষ্ট করছি!
তাহলে মদ খাওয়া ছেড়ে দে!
আরে চুতিয়া, মদ ছেড়ে দিতে বলেছি!
সুন্দর জীবনটাকে নষ্ট করছি...
হ্যাঁ, তুই নিজেই নষ্ট করছিস!
কিন্তু এখন মাথা হাতিয়ে কী লাভ?
এক কাজ কর, শোন...
পুনরায় এনট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে কলেজে ভর্তি হ।
আমার দ্বারা পড়ালেখা সম্ভব নয়, ভাই!
আমাকে চাকরি খুঁজতে হবে।
তুই পড়ালেখা করবি না কেন?
আমি আছি, কামনা আছে... আমরা তোকে সাহায্য করবো।
আচ্ছা, প্যাচাল বাদ দিয়ে বল...
এতো রাতে আমরা কোথায় যাচ্ছি?
- সারপ্রাইজ! - কী?
সারপ্রাইজ আছে!
কীসের সারপ্রাইজ, চুতিয়া? জীবন এমনিতেই অনেক সারপ্রাইজ দিয়েছে!
চুপ থাক, শালা!
যথেষ্ট হয়েছে!
তোমরা দু'জনেই পাগল হয়ে গেছো!
আমাকে চাকরি খুঁজতে হবে, মেয়ে নয়!
আপনার জন্য জুস, স্যার।
জুস?
এক মিনিট! বাচ্চাকাচ্চার পার্টি চলছে এখানে?
খা!
- জুস নিয়ে তোর সমস্যা কী? - খা তো, চুতিয়া!
যথেষ্ট!
৯০ মি.লি ভদকা নিয়ে আসুন।
- আচ্ছা, স্যার। - যাও!
যাইহোক,
কাজের কথায় আসি...
কামনার মনে হয়..আমারও অবশ্য মনে হয়...
কাউকে এখন তোর পাশে প্রয়োজন।
একটা মেয়ে যে তোর মূল্য বুঝবে!
তাহলেই তোর ব্যাথা সেরে উঠবে!
আমি নিজেই ব্যাথা সারাতে পারবো।
আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
কুনাল, প্লিজ... এখানে তর্ক করতে আসিনি, ঠিক আছে?
তোমার সাথে মানাবে, এমন কিছু মেয়ের তালিকা করেছি।
তুমি তাদের সাথে দেখা করবে, শেষ কথা!
হেই, টম এন্ড জেরি!
আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা হলে কাজ খুঁজে দাও।
মেয়েদের দালালি করিস না!
হেই...
অবিশ্বাস্য!
না, না! সে আমার বয়ফ্রেন্ড নয়, শুধুমাত্র ভালো বন্ধু!
মহেশ ঠিকই বলেছিলো!
পুরোনো প্রেম ভুলতে হলে নতুন প্রেম করা প্রয়োজন!
আর আমার ব্যথা সারাতে,
চাকরির পাশাপাশি মেয়ে খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন ছিলো।
যদিও মহেশের বুদ্ধির আগামাথা কিছুই বুঝিনি,
তবুও ভাবলাম...
চেষ্টা করতে সমস্যা কোথায়!
সত্যিকারের ভালোবাসা আমৃত্যু টিকে থাকে!
তো, কাদের নাম তোমার কাছে কেমন লাগে?
কাদের? মানে?
বাবা-মাকে রাজি করাতে হলে, তোমাকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে!
নয়তো আমাদের বিয়ে হবে না!
হেই, সোফিয়া!
হাই! হাই, মহেশ!
হেই, কেমন আছো?
আমি ভালো আছি, তুমি?
আমিও ভালো আছি। ও হলো আমার বন্ধু, কুনাল!
ওহ! হাই, কুনাল!
কুনাল, ও হলো কামনার বন্ধু।
- সোফিয়া! - হাই!
ওওও, তুমি তো দেখি দারুণ সুদর্শন!
এক্সকিউজ মি!
কামনা জীবনে না আসলে, ওকেই গার্লফ্রেন্ড বানাতাম।
তোর ভাগ্য আসলেই খারাপ!
চল যাই, ভাই! অন্য কাউকে খুঁজি...
চারপাশে দেখ, মামা!
তাকে দেখ!
এডলিন!
- হাই! - হাই!
চকোলেট!
তোমার প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নিচ্ছি...
দেখি কেমন খেলাধুলা দেখাতে পারো!
ধুর বাল!
কী সমস্যা?
চুতিয়ার কাছে আমি চকোলেট চেয়েছিলাম...
কিন্তু বানানা ফ্লেভার দিয়েছে!
চিন্তা করোনা, আমি গিয়ে নিয়ে আসছি... তুমি এখানেই থাকো!
আমাকে দাও!
আমার এখন করতে ইচ্ছে করছে না!
হেই!
হেই, ইডলি!
পাগলী মেয়ে কোথাকার!
আশা ছাড়িস না, মামা!
মুম্বাই শহরে মেয়ের কমতি নেই।
আমার সোনা আর কারো সাথে দেখা করতে আগ্রহী নয়!
- যথেষ্ট হয়েছে আবলামি! - হেই!
স্যার, আপনার গ্লাস তো ফুল... সোডা কোথায় দিবো?
আমার সোনায় দে!
ভাই, তুই যা!
কামনা!
- হাই! - হাই!
- ইশ্বর! হায় ইশ্বর! - কেমন আছিস?
- তোকে দুর্দান্ত সুন্দরী লাগছে! - ধন্যবাদ।
দুর্দান্ত, তোকে দারুণ মানিয়েছে!
রোশান গিফট করেছে।
আচ্ছা, শোন...
আমাকে প্লিজ কিছু সাজেস্ট কর...
কোন ব্যাপারে?
আচ্ছা, বলো তো...
আমার কী তোমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে?
সবকিছু!
বাহ! দারুণ উত্তর! সবকিছু!
তোমাকে আরেকটু খাটতে হবে, কুনাল!
আমাকে বিস্তারিত বলো...
আচ্ছা!
প্রথমত, তোমার কোঁকড়া চুল...
হ্যাঁ, মনে আছে!
কিন্তু তুই একান্তে করতে চাস না?
না, তোরা আমার সাথে আসিস।
তারপর আমাকে পাগল করা তোমার মুচকি হাসি!
- হ্যাঁ, প্লিজ! - আচ্ছা, আমাকে ভাবতে দে।
জায়গাটা আমি আগেই চিনি।
- কোথায়? কোথায়? - অনেক সুন্দর রেস্তোরাঁ!
তারপর তোমার নাকফুল...
- হাই! - ওহ, হ্যাঁ! হ্যাঁ!
- ওহ, হ্যাঁ! কী অবস্থা? - আচ্ছা!
আর কত মদ খাবে? হাঁটতেও তো পারছো না!
কে সে?
আলিয়া, আমার বেস্টফ্রেন্ড।
হাই!
মহেশ, লেবুর জল এনে দাও।
- লেবুর জল এনে দে! - যাইহোক, আমাকে বলতে থাক...
হেই, চুতিয়া! মজা লেগেছে?
বল!
আরে, বল!
- মহেশ, আমার ভাই! - বল, ভাই!
প্রেমে পড়েছি, ভাই!
হাসছিস কেন, চুতিয়া?
আচ্ছা, বল এখন...
সত্যিই না-কি টাইমপাস?
অবশ্যই সত্যি বলছি!
টাইমপাস করছি না।
No comments yet. Be the first to leave one.