প্রথম 200টি লাইন।
এমনটা কীভাবে ঘটতে পারে?
যখন আমরা অতি সুখে দিন কাটাই...
মৃত্যু তখন আমাদের খুব সন্নিকটে থাকে।
সে আজ মারা গিয়ে কথাটার সত্যতা প্রমাণ করলো।
খুবই দুঃখজনক ব্যাপার!
সে তার স্ত্রী শ্রী রাজালক্ষীর নামে বিবাহের হল বানিয়েছিলো।
ছোট থেকে বড় পরিবার, কিংবা গরিব থেকে ধনী...
সে সবার বিয়েতে চমৎকার আয়োজন করতো।
আজ অব্ধি কেউ বিয়ের কথা ভাবলেই...
সবাই প্রথমে এসআর হলের কথা ভাবতো।
কিন্তু তার ছেলে ধর্ম অতোটা ভালো নয়।
জানি না সেই হলের হাল এখন কে ধরবে!
উৎসর্গঃ আমার বাবার মতো পৃথিবীর সকল বাবাকে, যাদের অপদার্থ ছেলেরা কখনো মুখ ফুটে বলতে পারেনি “বাবা, তোমায় অনেক ভালোবাসি”!
টিকেট! টিকেট নিন...
টিকেট!
পেদ্দা কোদাভানলাপাল্লা...দাড়ান!
উঠুন..
কী ব্যাপার, দাদু... ধর্ম'র বাড়িতে যাচ্ছো?
- হ্যাঁ! - সাবধানে যেও, রাস্তায় পাথর আছে।
বিল মরে যাওয়ায় আজ থেকে রাস্তায় কাজ শুরু হয়েছে।
আচ্ছা, বাবা।
হায় ইশ্বর!
সকাল সকাল কে ফোন করলো!
- হ্যালো! - হ্যালো, স্যার! আমি শ্রীধর বলছি।
আমি আইডিয়া নেটওয়ার্ক থেকে ফোন করেছি, আপনি কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন?
অবশ্যই, জিও!
এখানে শুধুমাত্র জিও নেটওয়ার্ক কাজ করে।
এমনটা কীভাবে বলতে পারেন? আমরা সেখানে নতুন দু'টো টাওয়ার লাগিয়েছি।
আমাদের নেটওয়ার্কে চলে আসুন, স্যার। আপনি অনেক সহজলভ্য অফার পাবেন!
- আমার কোনো অফার চাই না! - স্যার, আমার কথা শুনুন, স্যার!
- অফারের ব্যাপারে আর কোনো কথা নয়! - স্যার, আপনি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাবেন..
আপনি নিশ্চিন্তে ভিডিয়ো দেখতে পারবেন, প্লিজ আমার কথা একবার শুনুন, স্যার!
- তুমি আমার কথা শুনোনি? - তুমি কিছু বলেছো না-কি?
২০ বছর হয়ে গেলো বিয়ে করেছি, কিন্তু এখনো আমার পছন্দ তার জানা নেই!
আমাকে শুধু শুধু কথা বলাতে চায়!
- সিদ্ধভাত রান্না করো। - আমি রান্না বসিয়ে দিয়েছি...
সকাল সকাল কী শুরু করলে তুমি!
আমি কিছু জানি না.. যা বলেছি তা-ই করো।
সে এখানে কী করতে এসেছে?
হায় ইশ্বর, এখন তার সাথেও তর্ক করতে হবে?
ধর্ম, গত সপ্তাহে..
আমার মেয়ের বিয়ের জন্য হল বুকিং করতে তোমাকে অগ্রীম কিছু টাকা দিয়েছিলাম।
আপনি রামাপুরাম থেকে এসেছেন, তাই-না? আমার মনে আছে, বসুন।
ধুমধাম করে আপনার মেয়ের বিয়ে হবে।
না, না! আমি বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এখানে আসিনি।
আমার জামাতা বলেছে সে তোমার হলে বিয়ে করতে চায় না।
আশেপাশে মদের বোতল ছড়িয়ে থাকলে, কে সেখানে বিয়ে করতে চাইবে?
- আপনি কী বলতে চাচ্ছেন? - আমাকে আমার অগ্রীম টাকা ফেরত দাও।
মজা করছেন আপনি?
আমরা কোনো মাগনা হল চালাই না যে আপনি চাইলেই টাকা ফেরত দিয়ে দিবো
আমি কিচ্ছু জানি না, টাকা না নিয়ে আমি যাচ্ছি না।
- আশা ছাড়েন! আপনি এখন যেতে পারেন। - আপনি পানি খাবেন?
আমি পানি খাবো না, আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
আপনার বাড়িতে আমি টাকা পাঠিয়ে দিবো, আপনি এখন আসতে পারেন।
ধরো!
আমি তার সাথে কথা বলছিলাম, তাই-না? তুমি কেন নাক গলাতে আসলে?
তারা আমাকে অর্ধেক বোকা বানিয়ে গেলো, আর তুমি তো এখন পুরো বোকা বানিয়ে দিলে!
তুমিও আমাদের বোকা বানিয়েছো!
এই নিয়ে দশটা বিয়ের অনুষ্ঠান ভেঙে গেলো।
তুমি আমাদের পরিবারকে রাস্তায় নামিয়েছো।
তুমি সেখানে কী করো?
- সারাদিন শুধু মদ গিলো! - যেন আমি জানি না..
কী করতে হবে আর কী না করতে হবে। তুমি এখন আমাকে শিখাবে?
রক্ষণাবেক্ষণের খরচ পর্যন্ত আমার পকেটে নেই, আর তুমি কি-না আমার উপরেই চিল্লাচ্ছো!
হ্যাঁ, কীসের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তোমার লাগবে আমি খুব ভালো করেই জানি।
পাচাটা কিছু ভক্তকে মদ গিলানোর জন্যই তো তোমার টাকা দরকার।
- আমাদের জন্য কী বাকি রেখেছো? - এসব হচ্ছে টা কী!
তুমি আমাকে শান্তিতে বাড়িতে থাকতে দিবে না?
আবার কথা বললে, আমি তোমার গালে জুতা দিয়ে মারবো।
তোমার কাছে জুতা কেনারও টাকা নেই, যাও তো এখান থেকে!
ছি! হায় ইশ্বর!
বাড়িতে একবিন্দুও শান্তি নেই।
তুমি আমার সাথে রাগ করেছো, বাঁশের সাথে নয়।
শুধু শুধু বাঁশ টা আলগা করো না!
তুমি এখনো ভেতরে যাওনি?
- আমি যাবো না, তুমি চলে যাও। - আমার জীবন নিয়ে লজ্জিত আমি!
আমি আর এক মুহুর্তও এই বাড়িতে থাকবো না।
কিছু না, ধর্ম..
এই বছর কার জমিতে সবচেয়ে বেশি আখ হয়েছে সে ব্যাপারে আলোচনা করছিলাম।
আমার বাড়িতে কাঁড়ি কাড়ি আখ আছে, যান, গিয়ে খেয়ে আসুন!
সারাদিন শুধু আজাইরা প্যাচাল পাড়ে!
সে অনেক শক্তিশালী, শুধুমাত্র তুই-ই তাকে হারাতে পারবি।
- তুই তার জীবন শেষ করে দিবি! - ভাই...
সে তোর গার্লফ্রেন্ডের পেছনে হাত দেয়নি, সে তার গার্লফ্রেন্ডের পেছনে হাত দিয়েছে!
শুধুমাত্র সে-ই কষ্টটা অনুভব করতে পারছে।
আমার তাতে কী আসে যায়? মেয়ের পেছনে ধরায় এসব করার কী দরকার?
তাদেরকে দেখ আর শান্তিতে মদ খা!
পরম ইশ্বরের নামে! ইশ্বরই সবকিছু ঠিক করে দিবেন।
এই, সে কে রে?
ভাই!
তোদের গার্লফ্রেন্ড নেই?
তাদের বড় পশ্চাৎদেশ নেই?
আজকাল সবাই কেন আমার গার্লফ্রেন্ডের কোমর নিয়েই কথা বলছে!
দেখ, এখানে শান্তিতে মদ খাচ্ছি...
কোমরের ঘটনা নিয়ে এখন ঝামেলা করতে এসেছিস?
ভাই, আমি দেখতে প্রায় সিন্ধুর মতো!
কিন্তু তা-ও কেন আমাকে খোঁচা খেতে হয়?
ইশ্বর, আমি তখন কী করতাম?
সে আমাকে নাচের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
গানটা অনেক রোমান্টিক ছিলো!
একটু বেশিই রোমান্টিক!
ঘটনাক্রমে আমার হাত তার কোমর স্পর্শ করে।
আমি শুধুমাত্র কিছুক্ষণ টিপেছি!
এতে কী হয়েছে?
ভাই...এসব ঠিক নয়!
আমি কখনো তোদের গার্লফ্রেন্ড কে জ্বালাতন করেছি?
তোর সমস্যা কী?
সেই মুহুর্তে কেউ কীভাবে পিছু হটতে পারে?
তার কোমর..তার সৌন্দর্য.. হায় ইশ্বর!
যদি তায় জায়গায় আমি থাকতাম, তাহলে আরো অঘটন ঘটতো।
আমার বন্ধু তো ভালো ছেলে, তুই কী বলিস, মামা?
মদ খা...
- হায় ইশ্বর! - বাঘ খেপেছে!
তোরা আমার টাকায় মদ গিলেছিস, এখন ওকে গণধোলাই দে!
চল, তাকে গিয়ে সাহায্য করি!
সে নিজেই সামলাবে..তুই এখানেই থাক।
কেন?
তার সমস্যা কী? ভাগ এখান থেকে!
কী?
তোকে তো আগে কখনো কলেজে দেখিনি।
তুই-ই সবসময় ক্ষমা করে দিস, আমি নই!
ভাগ এখান থেকে!
কোমরে হাত দেওয়া নিয়ে কত কাহিনী... হায় ইশ্বর!
- গার্লফ্রেন্ড ফোন করেছে। - আমি বুঝতে পেরেছি, তুই যা।
- ভাগ এখান থেকে! - হ্যাঁ, জানু... আমার কাজ শেষ হয়ে গেছে।
যদি তুই আর কখনো তাকে জ্বালাতন করিস..
তাহলে তোকে সবার সামনে জুতোপেটা করবো.
কল্যাণ, তুই মরবি! শত্রুরা তোর দিকে এগিয়ে আসছে।
- বাইরে বের হ! - ভাই, আসতে দে...
সমস্যা নেই, আমি তোকে বাঁচাবো।
অবশ্যই! হায় ইশ্বর, আমি শেষ...
- ড্যানিয়েল, আমাকে বাঁচা.. - না!
সামনেই ব্লু জোন..
কল্যাণ, সেখানে তারা আছে। পিছনে...তাদেরকে মার!
আমাকে মেরে ফেলেছে!
শান্তিতে মর, ভাই!
এই, কল্যাণ!
ম্যাডামের পরিবর্তে সে কেন এসেছে?
এখন তাদের অসহ্যকর প্রেম দেখতে হবে! ধুর ছাই!
তুমি..বাইরে আসো!
অনুবাদ ও সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳
সে তোকে বকছে, তোর লজ্জা বলতে আসলেই কিছু নেই!
সে আমার প্রিয়তমা সিন্ধু, মামা।
তোদের মতো ব্যাকবেঞ্চারদের জন্যই আমরা ছেলেরা আজ মূল্যহীন।
এই, মন দিয়ে পড়াশোনা কর!
যা, যা...সে কখনো পাশ করতে পারবে না, আর তুইও কখনো তাকে পটাতে পারবি না।
- তুমি তোমার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলো। - আমাকে আরো কিছুদিন সময় দাও।
উনি মায়ের মৃত্যুতে এখনো শোকাহত, আমি তার সাথে পরে কথা বলবো।
তোমার সমস্যা কী?
আমি কখনো তোমার প্রেমে পড়বো না, তুমহ আমার চোখে শুভ্র রাস্তার কুকুর!
অবশ্যই, সিন্ধু...আমাকে তাহলে কুকুরের মতোই আদর করো।
তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে দিও, আমার চুল নিয়ে মাঝেমধ্যে খেলা করো।
যখন-তখন চুমু দিও।
- কুকুরের মতোই আদর করো.. - ধুর!
আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মান বজায় রেখে কখনো কথা বলতে পারো না?
আমার সেসব বৈশিষ্ট্য আছে, সিন্ধু। সেজন্যই তো তোমাকে সর্বদা অনুসরণ করি।
আমি কেন এখানে এসেছি জানো?
জানি না কেন লেখকেরা এমন গাঁজাখুরি বই লিখে!
এই বিষয়ে কেউ কীভাবে পাশ করবে?
কে?
স্যার, আমার নাম কল্যাণ। আমি কলেজে নতুন এসেছি।
এখন র্যাগ দেওয়ার মুড নেই।
কাল সকালে লক্ষীভিলা মেসে চলে আসিস, তখন দেখা যাবে।
কী ব্যাপার?
- দামী মদ এনেছি, স্যার। - পড়ালেখা পরেও করা যাবে!
আয় বস, আগে মদ খাওয়া যাক।
- চিয়ার্স ! - চিয়ার্স!
বল..কীজন্য এসেছিস?
স্যার, গত দশদিন যাবৎ আমি সিন্ধুর প্রেমে পড়েছি।
তো, আমি কী করবো?
শুনেছি, আপনিও না-কি তাকে পছন্দ করেন।
সূদখোর পাপারাও এর মেয়ে সিন্ধু?
পছন্দ করি...
কী?
কী ব্যাপার?
আপনার চরিত্র আর বুদ্ধিমত্তা দেখে..
সে নিশ্চয়ই আপনার প্রেমে পড়বে, স্যার।
- আমি রাতে ঘুমাতে পারি না... - তো, আমি কী করবো?
চিয়ার্স!
আচ্ছা...
আমার চরিত্র আর বুদ্ধিমত্তা দেখে সে প্রেমে পড়বে..ভালোই বলেছিস!
সে এখন প্রথম বর্ষে আছে, আর আমি আছি শেষ বর্ষে।
হ্যাঁ, স্যার।
তাই কলেজ শেষে তাকে দেখতে পাবো কি-না সন্দেহ আছে
এক কাজ করে, তাকে তুই-ই নিয়ে যা।
আমি অন্য কাউকে পছন্দ করে নিবো, ঠিক আছে?
ধন্যবাদ, স্যার!
তুমি আমার হাতেই মরবে!
শেষবার যখন সতর্ক করেছিলাম, মনে হয় না সেটা যথেষ্ট ছিলো।
তখন বলেছিলো সে তার ভাবী হয়, কিন্তু এখন সে খারাপ আচরণ করেছে।
এইবার তাকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।
কিরে, তার ছিঁড়া!
সিন্ধু কে বেবি বলার যোগ্যতা তোর আছে?
- সে আমার বোনের মেয়ে। - তাই না-কি?
শুধুমাত্র এটাই যথেষ্ট?
তেমন নয়...
তোর এমন কোনো গুণ আছে যেকারণে তাকে বেবি ডেকেছিস?
আমার আচরণ অমায়িক, উচ্চতাও খাপে খাপ।
কলেজে সবার তুলনায় আমি অধিক ধনী।
- আর কী গুণাবলী লাগবে? - তাই না-কি?
No comments yet. Be the first to leave one.