أول 200 سطر.
---- অনুবাদ- রোদেলা নওশিন -----
শুভ সকাল।
শুভ সকাল, ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রমহোদয়গণ।
আপনাদের অপেক্ষার মাঝে কিছু কথা বলি।
আপনারা জানেন, জেমস মিলার আমাদের সাথে যুক্ত হবেন।
তাঁর একটু দেরি হচ্ছে।
ট্রাফিক জ্যামের দোহাই অবশ্য দিতে পারবেন না। কারণ তিনি দোতলার ঘরেই আছেন।
আশা করি বেশি সময় লাগবে না।
আমরা আজ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য একত্র হয়েছি,
"সত্যায়িত অনুলিপি"
যা এ বছর 'সেরা বিদেশি প্রবন্ধ' তালিকায় পুরষ্কার পেয়েছে।
বেশ, এ বিষয়ে...
এইতো জেমস।
দয়া করে, আসন গ্রহণ করুন।
সম্মেলন শেষ হলে সবাই অটোগ্রাফ নেবেন।
আমি চাইছিলাম জেমসকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে,
কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি আমার চেয়ে পারদর্শী।
মঞ্চ আপনারই অপেক্ষায়।
- শুভ সকাল। - শুভ সকাল।
শুভ সকাল, উহ্, অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত।
আমি জ্যামের দোহাই দিতে পারতাম, কিন্তু আমি এখানে হেঁটে এসেছি।
আচ্ছা, এখানে উপস্থিত হবার জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।
আমার মনেহয় বাইরের রোদে বসলে বেশি ভালো লাগতো।
কিন্তু, আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি আমার বইয়ের প্রতি...
এতোটা ভালোবাসা প্রদর্শন এর জন্য।
আর সত্যি বলতে, ইংল্যান্ডের আতিথেয়তার প্রশংসা করতেই হয়।
কিন্তু আমার কাজের স্বীকৃতি পাওয়া...
তাও 'মাইকেল অ্যাঞ্জেলো' আর 'লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি'র স্বদেশীদের থেকে...
সত্যিই বেশ রোমাঞ্চকর, আর আমি এর জন্য সত্যিই কৃতজ্ঞ।
আপনাদের মধ্যে কয়েকজন সম্ভবত জানেন আমার এই বইটা লেখার অনুপ্রেরণা...
পেয়েছি যখন আমি ফ্লোরেন্সের 'পিয়াজা ডেলা সিগনোরিয়া'য় ছিলাম।
আর আজ, অনেক পরিশ্রমের পরেই টাস্কানিতে ফিরে এসেছি....
আমার কঠোর পরিশ্রমের ফল আপনাদের সামনে তুলে ধরতে।
আমার মনেহয় এটা বলে দিতে হবে না লেখার বিষয় হিসেবে 'শিল্প' খুবই কঠিন বিষয়।
নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র খুঁজে পাওয়াও মুশকিল।
এমন কিছু নেই... যা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়।
আর এ বিষয়ের মনস্তাত্ত্বিক এবং দার্শনিক দিকগুলো খুঁজে বের করা...
আমার কাজকে ধারণার চেয়ে বহুগুণে কঠিন করে দিয়েছে।
কিন্তু আপনারা চাইলে কিছু কথা আমি বলতে চাই...
যেগুলো আমি সকাল থেকে মনে মনে আওড়াচ্ছি।
আমি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই,
আমার বন্ধু এবং সহকর্মী 'মার্কো লেনজি' কে,
যার অনুবাদ,
সাধারণের মধ্যে অসাধারণ।
সে সত্যিকার অর্থেই বইয়ের ভাব বজায় রেখে,
ইতালিয়ান সংস্করণ প্রকাশ করেছে।
একই সাথে আজকের এই সম্মেলন,
বেশ ভালো করেছো, আবারও ধন্যবাদ।
পরেরবার, বই তুমি লিখবে।
অনুবাদ আমি করবো।
বইয়ের বিকল্প নামটা নিয়ে অবশ্য আমি একটু ভীত —
"আসলকে ভুলে যাও। শুধু ভালো অনুলিপি বেছে নাও" —
এখানে সংবেদনশীল মানুষের কিছু আপত্তি থাকতে পারে।
এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
কিন্তু সম্পূর্ণ দোষ অবশ্য আমার না।
আজকালকার সম্পাদকেরা বিতর্কিত শিরোনাম দিতে চায়।
কিন্তু আপনারা অবগত হবেন —
আমি কোন - বিশেষজ্ঞ নই।
আমি শিল্প গবেষকও নই।
এই ক্ষেত্রে আমার কোনো স্বীকৃতিও নেই।
আর এসবকিছু ছাড়াও, আমি কোন শৈল্পিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যও নই।
আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হলো এটা বলা, অনুলিপিরও নিজস্ব মূল্যমান আছে....
এটি আসলেরই একটি প্রতিচ্ছবি...
আর এর মূল্য সে নিজেই।
আর আমার বিশ্বাস এই পদ্ধতি শুধুমাত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়।
আমি সম্প্রতি খুব খুশি হয়েছিলাম, যখন একজন পাঠক আমাকে বলেছিলো...
সে আমার লেখা পড়ে আত্ম-অনুসন্ধানের অনুপ্রেরণা পেয়েছে....
নিজেকে আরো সূক্ষ্মভাবে বোঝার অনুপ্রেরণা।
মৌলিকত্ত্বের প্রশ্ন যদি আসে তাহলে বলতে হবে...
এ বিষয়ে ইতিহাস জুড়েই আলোচনা আছে আর রোমান সভ্যতার সময়ে....
রোমানরা মিশরীয় সভ্যতার মূল্যবান সব জিনিসের অনুলিপি বিক্রি করেছে।
আমার প্রিয় একটা গল্প 'লরেঞ্জো ডে মেডিসি' যাতে মেডিসি মাইকেল অ্যাঞ্জেলোকে বলে....
তার এন্টিকের 'কিউপিড' মূর্তি সাবধানে খোদাই করতে....
যেনো চড়া দামে বিক্রি করতে পারে।
তাই মৌলিকতা সম্পর্কে এই উদ্বেগ - আসল-নকলের ধারণার আড়ালে...
আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের মনেও সবসময়ই এই উদ্বেগ জায়গা করে নিয়েছে...
যেভাবে আজ আমাদের মনে জায়গা করে আছে।
"মৌলিকত্ব" শব্দটার নিজেরই যথেষ্ট ইতিবাচক দিক আছে -
বিশুদ্ধ, খাঁটি, নির্ভরযোগ্য....
স্থায়ী, অন্তর্নিহিত মূল্যের অধিকারী।
শব্দের উৎপত্তিস্থল ও যথেষ্ট আকর্ষণীয়।
ল্যাটিন শব্দ "oriri" থেকে যার অর্থ গজিয়ে উঠা বা জন্ম নেয়া।
আর আমি নিজেও বিশেষত বিশ্বাস করি "original" শব্দটা জন্ম দেয়াকেই বোঝায়।
আমি এ ধারণা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে চাই -
আর শিল্প ও মানবজাতির প্রজননের মাঝে...
সরলরেখা আঁকতে চাই।
সব মিলিয়ে এটা বলা যেতেই পারে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের DNA এর অনুলিপি।
মৌলিক কাজের উৎপত্তি আলোচনা করা মানে, এক হিসেবে আমাদের নিজেদের....
উৎপত্তি ও সভ্যতাকেই অনুসন্ধান করা।
রেনেসাঁসের মানবতাবাদীরা পশ্চিমা সংস্কৃতির গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে...
আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বিশদভাবে জানার জন্য।
নিজের সংস্কৃতির উৎপত্তি জানার আগ্রহ....
সংস্কৃতির মূল ভিত্তিকে আরো মজবুত করে তোলে।
আর মৌলিকত্ব তখনই খাঁটি সোনা হয়ে উঠে -
যখন সাংস্কৃতিক অনুমোদন পায়।
সত্যিকার কাজের অনুমোদন -
মৌলিক কাজগুলোকেই দেওয়া উচিত।
কোনো বস্তুর সত্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে চারটি ধাপ মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়।
প্রথমত, বস্তুটির আকার-আকৃতি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দ্বিতীয়ত, এটা কোন বস্তু দিয়ে তৈরি।
দুঃখিত, মনেহয় আমার ফোন।
শুরুতে সবাইকে মোবাইল সাইলেন্ট করতে বলতে একদমই ভুলে গিয়েছি।
এক মিনিট।
হ্যালো?
উহ্, হ্যাঁ।
দেখুন, আমি দুঃখিত। এখন এ নিয়ে আলোচনা করতে পারছি না।
আমি একটু ব্যস্ত আছি।
হ্যাঁ, আপনি কি মনে করে আমাকে দুপুরে ফোন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, আজ দুপুরে। হ্যাঁ, ঠিকআছে। ফোন করার জন্য ধন্যবাদ।
এর জন্য আমি দুঃখিত। কী বলছিলাম?
তোমার ব্যাগ নিতে হবে?
না, আমি পারবো।
ব্যাগটা কিন্তু বেশ ভারী।
এসো
- তুমি চিজ বার্গার খাবে? - হ্যাঁ
- ফ্রাই? - হ্যাঁ।
দুটো?
তুমি তো খাওনা, তাও দুটোই নাও।
- কোক? - তুমি কি আমার দিকে তাকাবে?
কোক?
হ্যাঁ
কয়টা বই কিনেছো?
৬ টা।
ভাগ্য ভালো বইটা তোমার পছন্দ না।
আমি তো সেটা বলিনি।
তুমি পিয়েরোকে বলার সময় শুনেছি।
না
আমি এটা বলিনি আমার পছন্দ না, এর কিছু অংশ আমাকে বিরক্ত করেছে।
কিন্তু তিঁনি তো ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
হ্যাঁ, কিন্তু সে ব্যাখ্যা আমার পছন্দ হয়নি।
তবে এতোগুলো কিনলে কেন?
সবার সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করতে।
- কার সাথে? - মেরি আর বাকিদের সাথে।
কিন্তু...
তার কাছে তো আছেই।
তবুও, আমি তাকে অটোগ্রাফসহ আরেক কপি দিতে চাই।
ভালো বুদ্ধি, না?
তার সাথে আবার দেখা করতে চাও!
তুমি সে লোকটাকে আবার দেখতে চাও!
সম্ভবত।
আর বাকিগুলো, এতগুলো কার জন্য?
একটা এলিনের জন্য।
কিন্তু তুমি তো তাকে পছন্দ করো না।
ঠিক, আমি যাকে অপছন্দ করি তাকে আমার অপছন্দের বইটাই দিতে চাই।
- দিতে পারি না? - অবশ্যই, দিতে পারো।
তো, ওই লোকটাকে কী বলছিলে?
কোন লোক?
ওই লেখক বন্ধু।
তোমার সবকিছু জানতে হবে?
তুমিই বলেছিলে আমরা বন্ধু, বন্ধুদের মধ্যে কিছু গোপন থাকে না।
কিন্তু তুমিই আবার এলিসার ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখাচ্ছিলে, ঠিক?
কিন্তু তাতে কি? আমি সবকিছুই জানি।
তোমার জন্য তো ভালোই।
আমি জানি তুমি জেমসকে পছন্দ করো আর তাকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে চাও।
আর তোমার নাম্বার তার বন্ধুকেও দিয়েছো যেনো সে তোমাকে ফোন দেয়।
বাজে বকবে না।
আমি নাম্বার দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু তুমি যা ভাবছো সেজন্য নয়।
না
আমি শুধু তার বইয়ের ব্যাপারে আরো তথ্য জানতে চাইছি।
আর এটাই আমার কাজ।
আর তোমার জন্য... আমি শুনতেও পারিনি। আমাদের চলে আসতে হয়েছিল।
তুমি শুনছিলে না। ফিসফিস করছিলে...
তোমার মতো না। তুমিতো বসে খেলছিলে।
আমি.. সেখানে বসে খেলছিলাম কিন্তু তবুও কথা শুনেছি।
তুমিতো সম্মোহিত হয়ে তাকিয়ে ছিলে।
নিজের কাজ করো, ঠিকআছে?
চিন্তায় পাগল হতে হবে না।
আমরা এখানে শুধু, কথাবার্তা...
হ্যাঁ, শুধু কথা বলবো।
বুঝতে পারছি না তুমি দিনদিন বিরক্তিকর হচ্ছো কেন।
আমি বিরক্তিকর না। তুমি আমাকে বিরক্ত করছো!
তোমার চুল কাটার সময় হয়েছে!
আর একটা কথা?
আর একটা প্রশ্ন, তারপর চুপ করে থাকবো।
তুমি কেন চাও না সে অটোগ্রাফে আমার পদবি ব্যবহার করুক?
তুমি সত্যিই বাড়াবাড়ি করছো!
আমার নাম জুলিয়েন...
তুমি আমার মাথা খেয়ে নিচ্ছো, যথেষ্ট হয়েছে!
কিন্তু আমার তো একটা পদবি আছে!
হ্যালো?
ওপস্
- ওহ্, শুভ সকাল। - শুভ সকাল।
খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি তো?
উহ্, হ্যাঁ, ধন্যবাদ।
আমি রাস্তার ওপাশেই আছি।
ওহ্, হ্যাঁ, হ্যাঁ। বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাইনা?
- হুমমম - হ্যাঁ
উম -
প্রতি রবিবারে খোলা থাকে নাকি?
না। না, এমনিতে বন্ধই থাকে, কিন্তু আমি...
আমি ভাবলাম দেখা করার জন্য এই জায়গাটাই সবচেয়ে ভালো হবে।
আর সময় বেঁধে দেইনি যেন, আপনি সুবিধামতো সময়ে আসতে পারন।
- হ্যাঁ। - দুঃখিত, আমার সারা গায়ে লোম -
বিড়ালের লোমে ভর্তি।
বেশ, আমাদের আগ্রহের মিল আছে।
ওহ্, আপনি বলছেন, উহ -
না, আমি তো, ঝামেলায় পড়ে এসব বন্ধ রেখেছি।
হ্যাঁ, আমি - আমি ...
এসব জিনিস যত্ন ছাড়াই মাঝপথে ফেলে রেখেছি।
দেখতে পাচ্ছি।
No comments yet. Be the first to leave one.