As primeras 200 linias.
গো খেলোয়াড় চো হুন-হিউন আর লি চ্যাং-হোর বাস্তব জীবন অবলম্বনে।
সব চরিত্র আর ঘটনাবলি বাস্তবের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।
১৯৮০ সালের দিকে ইয়িং শি বেই ওয়ার্ল্ড গো চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হয়েছিলো,
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাছাইয়ের জন্য।
কোরিয়া, এক অনুন্নত গো দেশ হিসেবে, একটি মাত্র সুযোগ পায়।
সবাইকে অবাক করে চো হুন-হিউন ৯-ডান পৌঁছে যায় ফাইনালে।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল চীনের নিয়ে ওয়েইপিং ৯-ডান, যাকে বলা হতো “মহাদেশের কৃষ্ণভল্লুক।”
একটানা ১১ বার চীন-জাপান সুপার লিগ জিতেছিলেন,
এবং ছিলেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।
প্রথম ইয়িং শি বেই ওয়ার্ল্ড পেশাদার গো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের শেষ রাউন্ড আজ অনুষ্ঠিত হবে সিঙ্গাপুরে।
কোরিয়ার চো হুন-হিউন ৯-ডান এবং চীনের নিএ ওয়েইপিং ৯-ডান,
দুজনেই সমান ২টি করে জয় আর ২টি করে পরাজয় নিয়ে...
মুখোমুখি হবেন এই শতাব্দীর সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ খেলায়,
যেখানে ফয়সালা হবে কে হবে গো-র রাজা।
এখন পর্যন্ত সব রাউন্ডেই সাদা পাথর জয়ী হয়েছে,
তাই সবার নজর কে আজ সাদা পাথর নিয়ে খেলবে, সেই দিকেই।
উনি চলে এসেছেন।
দয়া করে একটু কথা বলুন।
মিস্টার চো, আপনার কেমন লাগছে?
আজকের ম্যাচের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন?
যদি কালো পাথর পান?
-তাহলে কি আক্রমণাত্মক হবেন? -নিয়ে ওয়েইপিং!
কোরিয়ায় ফিরে যাও!
চীনই জিতবে এবার!
ম্যাচ ভেন্যু স্টামফোর্ড হোটেল, সিঙ্গাপুর
নিয়ে ওয়েইপিং ৯-ডান, সাদা পাথর।
চো হুন-হিউন ৯-ডান, কালো পাথর।
ম্যাচ শুরু হোক।
১ম ইয়িং শি বেই ওয়ার্ল্ড গো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের শেষ রাউন্ড
চো হুন-হিউন ৯-ডান বনাম নিয়ে ওয়েইপিং ৯-ডান!
~দ্য ম্যাচ~
কোরিয়ার চো হুন-হিউন ৯-ডান আন্তর্জাতিক গো অঙ্গনের শীর্ষে উঠে এসেছেন।
চো শুধুমাত্র জাপানকে হারায়নি,
যারা নিজেদের গো খেলার কেন্দ্র বলে গর্ব করে!
বরং চীনকেও হারিয়েছেন, যেখানে গো খেলার উৎপত্তি।
তার এই জয় প্রমাণ করে, কোরিয়ান গো সত্যিই বিশ্বমানের।
এই মুহূর্তে,
আমার মনে হচ্ছে গো খেলার দেবতাকেও হারাতে পারব।
গো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চো হুন-হিউন ৯-ডান,
আজ কোরিয়ায় ফিরেছেন।
চো ৯-ডান গিম্পো বিমানবন্দর থেকে
জংনো ২-গায় অবস্থিত কোরিয়া গো অ্যাসোসিয়েশন পর্যন্ত এক বিশেষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
সরকার ঘোষণা করেছে, বিশ্বে কোরিয়ান গো-এর মর্যাদা...
শীর্ষে তোলার জন্য চো-কে দেওয়া হবে...
ঊংওয়ান কালচারাল মেরিট অর্ডার,
৫ মাস পর...
পেশাদার গো খেলোয়াড়দের সাথে ওয়ান বাই মেনি প্র্যাকটিস ম্যাচ...
এই ছেলেটাকে দেখেছেন?
কয়েকদিন আগে লাইফ-অ্যান্ড-ডেথ প্রবলেমের সমাধান করেছিল না?
-কি বলছেন? -হ্যাঁ, আগেরটা!
ভাই! এদিকে আসুন!
-চলুন যাই। -ঠিক আছে।
দেখো দেখি! চন স্যারের অবস্থা খারাপ! একদম ঘাম ছুটে গেছে।
ঠিক বলেছেন।
ও জঞ্জু শহরের এক বিস্ময়বালক।
-মাত্র ছয় মাস হলো খেলা শুরু করেছে। -ছয় মাস?
হ্যাঁ! জঞ্জু তো বটেই, পুরো জোল্লা প্রদেশেই ওর সমকক্ষ নেই।
-ঠিক বলেছেন। -এই!
আমার মনে হয় খেলা শেষ। এখানেই থামি তাহলে?
আরেকটু দেখি।
-আমার তা মনে হয় না! -কি বললেন?
আপনি ভুল বলছেন। খেলা শেষ হয়ে গেছে!
আপত্তি না থাকলে আমি কি খেলতে পারি?
ইয়েস!
কি! আটারি মারলো!
"আটারি"অর্থাৎ, পাথরগুলি এক ধরণের বিপদে রয়েছে এবং পরবর্তী চালেই ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দারুণ খেলেছে।
ড্র ঘোষণা দিয়ে এখানেই থামি?
অসাধারণ!
আমি যেমন ভেবেছিলাম, ঠিক তেমনই খেলেছে। একদম পাশার দান পাল্টে দিয়েছে।
এ কারণেই ও চ্যাম্পিয়ন।
কখনো কখনো সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা অবস্থায় জয় পাওয়া আরো কঠিন হয়।
আমি বোধহয় ওকে হালকাভাবে নিয়েছিলাম।
আরেক রাউন্ড খেলি।
তোমার সমস্যা কী?
বাবু, এত অভদ্র হয়ো না।
ওদিকে গিয়ে খেলো।
তুমি আনাড়ি হয়ে নাক গলাতে আসবে না!
চলুন, আরেক রাউন্ড খেলি।
আবার খেললে আমি জিতবো।
তোমার নাম কী?
চ্যাং-হো।
লি চ্যাং-হো।
আসো, এখানে বসো।
চ্যাং-হো।
শুনেছি লাইফ-অ্যান্ড-ডেথসে তুমি ভালো।
যখন কোনো খেলোয়াড় তার পাথর বাঁচায় অথবা প্রতিপক্ষের পাথর মারে।
কালোর জীবনরেখা খুঁজে বের করো।
এটা সমাধান করলে তোমার সঙ্গে আরেক ম্যাচ খেলব।
সত্যিই বলছেন?
কথা রাখবেন কিন্তু।
পরে কিন্তু পল্টি মারতে পারবেন না।
আমার মতো ওও গিয়ংজুর লি বংশের।
আমাদের এক আত্মীয় সবসময় ওর কথা বলত,
তাই বললাম ছেলেটাকে নিয়ে আসো।
ছোটো হিসেবে ভালোই করছে!
ছোটো ছেলে হলেও তেজ আছে বেশ। ও কি তোমার ভাতিজা?
না, ওকে আজই প্রথম দেখলাম।
আমাদের বংশের হিসাবপত্র সব গুলিয়ে গেছে। আসলে ও আমার এক প্রজন্ম ওপরে।
দেখা যাচ্ছে আমার এক ছোটো কাকা জুটেছে!
কয়টা হ্যান্ডিক্যাপ স্টোন থাকবে?
ছয় মাসের প্রো প্লেয়ারের সঙ্গে চার পাথর?
বললেন, কালোর জীবনরেখা? সাদার নয়?
আপনি কি ভুল করেছেন, মিস্টার চো?
আমি ভুল করবো?
তাহলে কেন ওকে এমন সমস্যা দিচ্ছো, যার কোনো সমাধান নেই?
গো-তে কোনো চূড়ান্ত উত্তর নেই।
এমন চাল আমি আগে দেখিনি।
ওর হ্যাংমা আর ওপেনিং সব গুলিয়ে আছে...
হ্যাংমা: পাথরের বিন্যাস
...তবু অদ্ভুতভাবে শক্তিশালী।
ওপেনিং: শুরুতে সুবিধা পাওয়ার কৌশল।
-এইবার পারবে? -মনে হচ্ছে পারবে।
আগে বাঁক নাও, তারপর ঠেলো।
না, এখানে। মানে ওদিকে--
আরো একটু।
উফ! বিরক্ত করো না।
বলেছি তো, আজ মনোযোগ দিতে হবে!
তাকিয়ে থাকলে তো কিছুই হবে না।
ঠিকই বলছো।
ওর তো জরুরি কাজ চলছে,
চলো,আমরা বাইরে গিয়ে গলাটা ভিজিয়ে আসি।
-আজ একটু ভালোমন্দ খাই! -দেখো, বকা খেতে হল।
দিনের বেলা মদ খেলে তো আবার ঘুমিয়ে পড়ব।
ওই ছেলে…
তোমার হোমওয়ার্ক নেই?
সারাদিন বসেই থাকবে নাকি?
তিন প্রজন্মে একটিমাত্র ছেলে, তাই সবার আদরের টুকরা ও।
খালি ওর প্রশংসা করে বলবেন, অসাধারণ খেলছে, প্রতিভাবান।
বাকিটা আমি সামলে নেব।
দারুণ না?
এতো ছোটো ছেলের এমন জোশদার খেলা!
আমি গো-তে 1-Q ছিলাম,
কপাল জোরে ওর সাথে দশটা ম্যাচ খেলে একটা জিতেছি!
সবাই বলছে ছেলেটা জিনিয়াস, এই কথাটা ওর মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে!
এই বেহুদা গুটি খেলা নিয়ে এতো মেতে আছে, বাড়ির ব্যবসার খবরও রাখে না।
চ্যাম্পিয়ন চো'র কারণে গো-এর মান তো এখন অনেক বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও বেড়েছে,
ও দেশের জন্যও ভালো অবদান রাখতে পারবে।
-তাই নাকি? -হ্যাঁ, অবশ্যই।
তাই ভাবছিলাম,
আপনি যদি
কিছুদিন ছেলেটাকে শিখিয়ে পড়িয়ে দেন মিস্টার চো।
আপনাকে ভালো পারিশ্রমিক দেবো,
আর স্পন্সরও করবো।
সেই টাকা দিয়ে ওকে ভালো পড়াশোনা করান, যাতে বাড়ির ব্যবসা সামলাতে পারে।
ওর জন্য সেটাই ভালো হবে।
শুধু প্র্যাকটিস করেই গো-তে ভালো হওয়া যায় না।
ওকে শেখানোর কোনো মানে হয় না, যদি ওর ট্যালেন্ট না থাকে!
আর ট্যালেন্ট?
ওর মধ্যে নেই।
একটুও না।
গো-তে দুই ধরনের র্যাঙ্ক থাকে: কিউ (kyu) এবং ডান (dan)। কিউ র্যাঙ্ক সাধারণত শিক্ষানবিস বা মাঝারি স্তরের খেলোয়াড়দের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে সংখ্যা যত ছোট হয়, তত শক্তিশালী খেলোয়াড়কে বোঝায়।
অর্থাৎ ১-কিউ সবচেয়ে উপরের ধাপ। ১-কিউ এর পরের ধাপ হলো ১-ডান (1-dan), যা থেকে প্রফেশনাল স্তরের দিকে যাত্রা শুরু হয়। এরপর সংখ্যা যত বাড়বে, র্যাঙ্কও তত বাড়বে।
চো!
চো!
এই! চো হুন-হিউন!
ওনার সাথে একটাবার দেখা করার জন্য, মাসের পর মাস চেষ্টা করেছি
জানো, সে আমাদের স্পনসর করলে কত টাকা দিতে পারে?
আমরা ভিখারি নাকি?
বিজনেস মিটিং হোক বা স্পনসরশিপ, সব ঠিক আছে।
কিন্তু গো'কে টাকার কাছে বেচতে পারবো না!
শালা এই গেমটাকে বলে "বেহুদা গুটি খেলা" !
তোমার কোনো আত্মসম্মান নেই?
আত্মসম্মান?
মিন-জে।
চো মিন-জে, কী করছো?
-চো মিন-জে! -বাবা!
তুমি এসেছো?
-হ্যাঁ। -তোমার জন্য এটা বানিয়েছি।
-এই! বলেছি না চিঠিপত্র ধরবে না? -আমি ধরেছি নাকি?
থাক, আমি গোছাচ্ছি।
-এদিকে আয়। -চিঠিগুলো এত মজার?
আয়, হাত ধুয়ে খেতে বসি।
গ্যাসটা অন করে দেবে?
চল।
আমার সসেজ খেতে ইচ্ছে করছে।
সকালেই তো খেলি।
আপনার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করুন, লি চ্যাং-হো!
হ্যালো।
এই, লি। চো হুন-হিয়ুন বলছি।
হ্যাঁ, বলুন।
ঐ যে চ্যাং-হো আছে না?
ওর সাথে আবার দেখা করা যাবে?
চল, বের হই।
জলদি কর।
দুঃখিত! দোকান বন্ধ!
আমি মাত্র তিনটে হ্যান্ডিক্যাপ পাথর নেব।
কিন্তু যদি আমি জিতি, তাহলে আপনাকে আমাকে গো শেখাতে হবে।
আমি কেন?
শুনেছি আপনি নাকি সবচেয়ে শক্তিশালী খেলোয়াড়।
কোরিয়ার সেরা।
এই!
কোরিয়ার সেরা? বলো বিশ্বসেরা! তুমি দেখি কিছুই জানো না!
এই, গুরুজনেরা কথা বলছে।
ন্যুব হয়ে এত কথা বলছো কেন?
দেখো, এই ছেলেটা কী অভদ্র।
ঐদিন আমি হেরেছি কারণ তোমাকে চারটে হ্যান্ডিক্যাপ দিয়েছিলাম।
এবার সমান খেলা হলে তোমাকে হারাতে একটুও সময় নেব না।
একটা বাচ্চাকে হারিয়ে জেতার এত ইচ্ছা?
No comments yet. Be the first to leave one.